প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ৭, ২০২৬, ৫:১১ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ১, ২০২৬, ৩:১৯ পি.এম
মুন্সিগঞ্জে স্কুলে নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগ: তদন্তে খোদ জেলা প্রশাসক, ৩ সদস্যের কমিটি গঠন

মুন্সিগঞ্জ জেলা শহরের বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারি ‘স্কুল ফিডিং কর্মসূচি’র আওতায় শিক্ষার্থীদের মাঝে নিম্নমানের ও অস্বাস্থ্যকর খাবার সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হলে আজ বুধবার দুপুরে সরজমিনে তদন্তে নামেন মুন্সিগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী। ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার ইদ্রাকপুর ১নং মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টিফিনের খাবার হিসেবে দেওয়া পাউরুটি, দুধ, ডিম ও কলার মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অভিভাবকরা। অনেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে যে সরবরাহকৃত পাউরুটি ছিল অত্যন্ত শক্ত ও বাসি এবং দুধের স্বাদ ছিল অস্বাভাবিক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও স্থানীয়ভাবে এই খবর ছড়িয়ে পড়লে জেলা প্রশাসনের নজরে আসে বিষয়টি।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী ইদ্রাকপুর ১নং মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝটিকা সফরে যান। সেখানে তিনি সরাসরি শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে খাবারের মান সম্পর্কে জানতে চান এবং শিক্ষকদের নিকট থেকে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্য ও নিয়মিত তদারকির নথিপত্র যাচাই করেন। একই সাথে তিনি উপস্থিত অভিভাবকদের সাথে কথা বলে তাদের উদ্বেগ ও অভিযোগের কথা শোনেন।
পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান যে শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে সরকার এই কর্মসূচি চালু করেছে এবং এখানে কোনো প্রকার অনিয়ম বা নিম্নমানের খাবার সরবরাহ কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। তিনি আরও জানান যে খাবারের মান নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে যাদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তদারকিতে কোনো গাফিলতি ছিল কিনা তা এই কমিটির মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হবে।
এদিকে নিম্নমানের খাবার সরবরাহের ঘটনায় ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে কোমলমতি শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে এ ধরনের অবহেলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে তদন্ত প্রতিবেদন সাপেক্ষে দোষী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সম্পাদক - আশরাফ ইকবাল, নির্বাহী সম্পাদক - বর্ষন মোহাম্মদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ দৈনিক মুন্সিগঞ্জের বার্তা