
নিজস্ব প্রতিনিধি: মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া ঘাটে বেড়াতে আসা পর্যটকদের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বেদে সম্প্রদায়ের কয়েকজন নারী ও শিশু। ঘাটে পর্যটক নামলেই তাদের পিছু নিয়ে টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। দাবি অনুযায়ী টাকা না দিলে চাপ সৃষ্টি ও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন পর্যটক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘাট এলাকায় বেদে সম্প্রদায়ের কিছু নারী ও শিশু দলবদ্ধভাবে পর্যটকদের পিছু নেয়। পরে দুই পাশ থেকে ঘিরে ধরে টাকা দাবি করা হয়। কেউ ১০ বা ২০ টাকা দিতে চাইলে তা গ্রহণ না করে ৫০ থেকে ১০০ টাকা, এমনকি আরও বেশি টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসা পর্যটকরা বিব্রত ও আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন।
ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে শিমুলিয়া ঘাটে বেড়াতে আসা নয়ন মিয়া (২৮) বলেন, ‘আমি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুরতে এসেছিলাম। হঠাৎ কয়েকজন বেদে এসে দুই পাশ থেকে আমাকে ধরে টাকা দাবি করে। আমি ১০ টাকা দিতে চাইলেও তারা নিতে চায়নি। বেশি টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। আশপাশের মানুষ তাকিয়ে থাকায় আমি অপমানিত বোধ করি।’
তিনি আরও বলেন, পর্যটকদের কাছ থেকে এভাবে জোর করে টাকা আদায়ের অভিযোগ থাকলেও তা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ তেমন চোখে পড়ছে না।
পর্যটকদের নিরাপত্তা ও হয়রানি বন্ধে টুরিস্ট পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে টুরিস্ট পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা একা এটি দমন করতে সক্ষম হচ্ছি না। বিষয়টি আমরা প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণ করছি। আপনারা বিষয়টি তুলে ধরেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য কর্মকর্তারা যেন আমাদের সহযোগিতা করেন।’
অন্যদিকে শিমুলিয়া ঘাটের ইজারাদার মোতালেব খান বলেন, ‘লৌহজং থানা ও পদ্মা সেতু উত্তর থানা পুলিশকে বিষয়টি অনেকবার জানানো হয়েছে। তাদের পর্যটকদের ডিস্টার্ব না করার জন্য অনেকবার নিষেধ করা হয়েছে।’
তবে বারবার অভিযোগ ও নিষেধের পরও কেন পর্যটকদের পিছু নিয়ে টাকা দাবি ও হয়রানির অভিযোগ বন্ধ হচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঘাট এলাকায় টুরিস্ট পুলিশের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও পর্যটকরা হয়রানির শিকার হলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।
পদ্মা নদীর নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শিমুলিয়া ঘাটে পর্যটক আসেন। ঘাটে প্রবেশের পরই যদি তাদের পিছু নিয়ে টাকা আদায়ের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে শিমুলিয়া ঘাটের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পর্যটকদের দাবি, জীবিকা নির্বাহের অধিকার সবারই রয়েছে। তবে কারও কাছ থেকে জোরপূর্বক বা ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়ের সুযোগ থাকা উচিত নয়। অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা চিহ্নিত করার পাশাপাশি পর্যটকদের হয়রানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে টুরিস্ট পুলিশ, থানা পুলিশ ও ঘাট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত নজরদারি জোরদারেরও দাবি উঠেছে।
সাব-এডিট/সাইদ হাসান আফরান
সম্পাদক - আশরাফ ইকবাল, নির্বাহী সম্পাদক - বর্ষন মোহাম্মদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ দৈনিক মুন্সিগঞ্জের বার্তা