
নিজস্ব প্রতিবেদক: সাভারে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আরও চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। মুন্সিগঞ্জের লঞ্চঘাট এলাকা থেকে দুজন এবং এর প্রায় এক কিলোমিটার দূরের এলাকা থেকে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন আলাউদ্দিন, সিহাদ, মিজান ও আপন। র্যাবের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এ নিয়ে মামলার ১৫ আসামির মধ্যে র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৯ জন।
র্যাব-১০-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, গ্রেপ্তার আপন ও সিহাদ কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্বের সঙ্গে জড়িত এবং তাদের বিরুদ্ধে মাদক-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। র্যাবের ভাষ্য, এ ঘটনায় জড়িত ১৫ আসামিই কোনো না কোনোভাবে কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
র্যাব আরও জানায়, গ্রেপ্তার আপন এ হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা। তার দাবি অনুযায়ী, সে এসএস পাইপ দিয়ে এসআই আলতাফ হোসেনকে আঘাত করে।
র্যাবের অধিনায়ক বলেন, এসআই আলতাফ হোসেনকে পুলিশ সদস্য হিসেবে টার্গেট করে হত্যা করা হয়নি। ঘটনার সময় অভিযুক্তরা নেশাগ্রস্ত ছিলেন। একটি অপরাধের ঘটনায় বাধা দিতে গিয়ে ঘটনাচক্রে হামলার শিকার হন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, মানবিক বিবেচনায় স্থানীয় একটি ঝামেলা মীমাংসা করতে সেখানে গিয়েছিলেন এসআই আলতাফ। কিন্তু হামলাকারীরা তাঁর কোনো কথা শোনেনি। একপর্যায়ে তাঁকে মারধর করা হলে গুরুতর আহত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়।
এদিকে জনসম্মুখে অপরাধ সংঘটিত হলেও অনেকে অপরাধীদের পুলিশের হাতে তুলে না দিয়ে ঘটনাস্থলের ছবি তুলে সরে যান বলে মন্তব্য করেন র্যাব-১০-এর অধিনায়ক।
তিনি বলেন, জনসম্মুখে কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে সাধারণ মানুষের দায়িত্ব হলো অপরাধীকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া। আইনেও এ ধরনের ঘটনায় সাধারণ মানুষকে অপরাধীকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার বিধান রয়েছে।
মানুষ বিবেক বিসর্জন দিয়ে শুধু ছবি তুলে ঘটনাস্থল এড়িয়ে যাচ্ছে মন্তব্য করে তিনি এটিকে মানবিক স্খলনের উদাহরণ বলেও উল্লেখ করেন। সাব-এডিট/সাইদ হাসান আফরান
সম্পাদক - আশরাফ ইকবাল, নির্বাহী সম্পাদক - বর্ষন মোহাম্মদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ দৈনিক মুন্সিগঞ্জের বার্তা