
অন্ধকার ঘরে কাটছে মোশাররফ হোসেনের মানবেতর জীবন
স্টাফ রিপোর্টার
যেখানে পৃথিবীর আলো-বাতাস আর দশটা মানুষের মতো উপভোগ করার কথা, সেখানে এক অন্ধকার ঘরের কোণে শিকলে বাঁধা অবস্থায় কাটছে মোঃ মোশাররফ হোসেন এর জীবন। মানসিক ভারসাম্যহীনতার অজুহাতে স্বজনরা তাকে পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছেন দীর্ঘ এক দশক ধরে।
ঘটনাটি ঘটেছে শ্রীরগর উপজেলার শামসিন্ধ ইউনিয়নের উত্তর সালামতি ৪ নং ওয়ার্ডে। সর্বশেষ গত ১২-৬-২০২৩ খ্রিঃ মনো বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখানো হয়েছে, এ পর্যন্ত আর কোন ডাক্তার দেখানো হয় নাই।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একটি জরাজীর্ণ তালাবদ্ধ ঘরের মেঝের ওপর বসে আছেন ৪৭ বছর বয়সী মোশাররফ হোসেন। পরনে ছেঁড়া কাপড়, উসকোখুসকো চুল আর চোখেমুখে একরাশ শূন্যতা।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর আগে মোশাররফ হোসেন হঠাৎ করেই মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। শুরুতে স্থানীয়ভাবে কবিরাজি ও সাধারণ চিকিৎসা করানো হলেও উন্নত চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি। পরিবারের দাবি, শিকল খুলে দিলে তিনি সাধারণ মানুষকে মারধর করেন এবং বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। তাই বাধ্য হয়েই তাকে এভাবে আটকে রাখা হয়েছে।
প্রতিবেশীরা জানান, এক সময় সুস্থ-সবল থাকা এই যুবকটি এখন সমাজের অবহেলার পাত্র। তাকে উন্নত কোনো মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসা দিলে হয়তো তিনি সুস্থ হয়ে ফিরতে পারতেন। কিন্তু পরিবার চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করে নাই।
দীর্ঘ ১০ বছর শিকলে বন্দি থাকা এই মানুষটির মুক্তি এখন সময়ের দাবি। উপযুক্ত চিকিৎসা ও সহানুভূতি পেলে তিনি কি আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন? এই প্রশ্ন এখন স্থানীয় সচেতন মহলের।
এলাকাবাসী প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন, যেন এই অভাগা যুবকটির সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয় এবং তাকে এই শিকলবন্দি জীবন থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। মোশাররফ হোসেনের নামে বেশ কিছু জায়গা সম্পত্তি রয়েছে যার মূল্য অনেক টাকা।
সম্পাদক - আশরাফ ইকবাল, নির্বাহী সম্পাদক - বর্ষন মোহাম্মদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ দৈনিক মুন্সিগঞ্জের বার্তা