স্টাফ রিপোর্টার
লৌহজং উপজেলায় যৌতুকের টাকা দাবিকে কেন্দ্র করে এক গৃহবধূকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় স্বামীসহ চারজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী গৃহবধূর নাম মুক্তা আক্তার (২৬)। তিনি লৌহজং উপজেলার গাওদিয়া ইউনিয়নের পূর্ব গাওদিয়া এলাকার বাসিন্দা। তার পিতা মৃত নূর মোহাম্মদ মৃধা।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৮ বছর আগে ইসলামি শরীয়াহ অনুযায়ী হানিফ মাদবর (২৮)-এর সঙ্গে মুক্তা আক্তারের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই হানিফ মাদবর তার পরিবারের কুপরামর্শে যৌতুকের দাবিতে মুক্তা আক্তারের ওপর বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল।
পরিবারের শান্তি রক্ষার্থে ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে পূর্বে যৌতুক বাবদ নগদ ২ লাখ টাকা দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু এতেও নির্যাতন বন্ধ না হয়ে পুনরায় আরও ১ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, গত ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে, গাওদিয়া ইউনিয়নের পূর্ব গাওদিয়ায় নিজ বসতঘরে স্বামী হানিফ মাদবর, তার দ্বিতীয় স্ত্রী আইরিন নেহা (১৯), শাশুড়ি কুলসুম বেগম (৫৬) ও শ্বশুর দানেশ মাদবর (৭৫) যৌতুকের টাকা আনতে চাপ সৃষ্টি করেন। টাকা দিতে অক্ষমতা প্রকাশ করলে অভিযুক্তরা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং শারীরিকভাবে মারধর করে।
অভিযোগ অনুযায়ী, স্বামী হানিফ মাদবর লোহার পাইপ ও শাবল দিয়ে মুক্তা আক্তারের চোখ, মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। অন্য অভিযুক্তরাও কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে তাকে আহত করেন। একপর্যায়ে তার চুল ধরে টানাহেঁচড়া করা হয়।
ভুক্তভোগীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন এবং পরে লৌহজং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। চিকিৎসা শেষে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে পরামর্শ করে তিনি থানায় উপস্থিত হয়ে মামলা দায়ের করেন।
এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১১(গ)/৩০ ধারায় লৌহজং থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছেন লৌহজং থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ লোকমান মিয়া।
এদিকে, ঘটনার পর বুধবার লৌহজং থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার তিনজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে। বৃহস্পতিবার সকালে তাদেরকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়।
লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১১(গ)/৩০ ধারায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
সম্পাদক - আশরাফ ইকবাল, নির্বাহী সম্পাদক - বর্ষন মোহাম্মদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ দৈনিক মুন্সিগঞ্জের বার্তা