প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ৭, ২০২৬, ৬:১৫ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ অগাস্ট ২৭, ২০২৫, ৯:৪৮ এ.এম
মুন্সীগঞ্জের বাবা আদম মসজিদ

মাহবুব আলম জয়
বিক্রমপুরের ইতিহাসের কালের স্বাক্ষী সুলতানী আমলের শহীদ বাবা আদম মসজিদ। তিনি এই অঞ্চলে নতুন সভ্যতার সৃষ্টি করেন। এটি মুন্সীগঞ্জ সদরের মিরকাদিম পৌরসভার (দরগাহ বাড়ি) গোয়ালগুন্নি মৌজায় অবস্থিত।
মসজিদের মৌজা নং ২৫, দাগ নং ২৭২। মসজিদে প্রাপ্ত শিলালিপি থেকে জানা যায়,সুলতান ফতেহ শাহের রাজত্বকালে ১৪৮৩ সালে জনৈক মালিক কাফুর কর্তৃক মসজিদটি নির্মিত হয়েছে।
তৎকালিন বহু গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ নির্মাণের যে ধারা বিকশিত হয়েছিল তার পরিপূর্ণ রুপ বিকশিত হয় এই ছয় গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটিতে। এটি একটি আয়াতাকার মসজিদ । যার উত্তর-দক্ষিণে এর আয়তন ৪৩ ফুট এবং পূর্ব-পশ্চিমে ৩৬ ফুট।
এই মসজিদটি দরগাহ বাড়ি বা বাবা আদম মসজিদ নামে পরিচিত।
মসজিদের চার কোণায় চারটি অষ্ট কোণাকৃতির বুরুজ বা মিনার। মিনার ছাদের কার্ণিশের উপর উঠেনি। মিনারের ধাপে ধাপে মনোরম বলয়াকারের স্ফীত রেখায় অলংকরণের কাজ আছে। পশ্চিম দেয়ালে তিনটি অর্ধবৃত্তাকার অবতল মেহরাব।
প্রধান প্রবেশ পথের দুই পাশে গভীর সমতল কুলুঙ্গী। উপরিভাগ সুন্দরভাবে খাঁজকাটা। ঝুলন্ত শিকল ও ঘন্টার অলংকরণ রয়েছে।
মসজিদে কোন বারান্দা নেই। অভ্যন্তর ভাগে আছে গ্রানাইট পাথরে নির্মিত দুইটি স্তম্ভ। মসজিদটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কর্তৃক সংরক্ষিত হলেও মসজিদের কিছু কিছু সংস্কার কাজ মসজিদ কমিটির দ্বারা সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা যায়।
গম্বুজ ও মসজিদের অভ্যন্তর-ভাগের মতোই পূর্ব-পশ্চিমে দুই এবং উত্তর-দক্ষিণে তিন সারিতে বিভক্ত। দেয়াল অতিশয় পুরু। প্রধান মেহরাবটি এবং দুই পাশের দুই মেহরাব ও পাশের দেয়াল লতাপাতা, জ্যামিতিক নক্সা ও গোলাপফুল, ঝুলন্ত প্রদীপ ও শিকল প্রভৃতি অত্যন্ত সুন্দর পোড়ামাটির চিত্র ফলক দিয়ে অলংকৃত।
শিলালিপির বাংলা অনুবাদ হচ্ছে, “সর্বশক্তিমান আল্লাহ বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই মসজিদ আল্লাহর সম্পত্তি, আল্লাহর সঙ্গে কাউকে অংশীদার করো না”। নবী (সাঃ) বলেছেন, যিনি একটি মসজিদ নির্মাণ করান আল্লাহ তার জন্য বেহেস্তে একটি প্রাসাদ নির্মাণ করেন” এই জামে মসজিদ নির্মাণ করার মালিক কাফুর সুলতান মোহাম্মদ শাহ’র পুত্র সুলতান জালাল উদ্দিন ফতেহ শাহর আমলে, ৮৮৮ হিজরীর রজব মাসের মধ্যভাগে”। বাবা আদম মসজিদের পাশেই বাবা আদম মাজারটি অবস্থিত। ইতিহাসে কিংবদন্তি আছে বাবা আদমের নামে মাজার ও মসজিদের নাম করণ করা হয়েছে।বাবা আদম ও তার অনুসারীরা তৎকালিন বিক্রমপুরে ইসলাম প্রচারের জন্য আসেন।
ইতিহাসের কালের স্বাক্ষী শহীদ বাবা আদম মসজিদের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কর্তৃক সংরক্ষিত নম্বর ৪৩৯৪২. এবং ৪-৩-১৯২৯। এই ধরনের ছয়গম্বুজ বিশিষ্ট বেশ কিছু মসজিদ সুলতানী ও মুঘল আমলে বাংলায় নির্মিত হয়েছে। মসজিদটিতে বর্তমানে মুসল্লিরা নিয়মিত নামাজ পড়েন। বাবা আদম মসজিদটি শুধু মুন্সীগঞ্জ বিক্রমপুরের ইতিহাসই বহন করে না,সারাদেশে মুসলিম সভ্যতার নিদর্শনময় ইতিহাসের কালের স্বাক্ষী বহন করে চলেছে।
সম্পাদক - আশরাফ ইকবাল, নির্বাহী সম্পাদক - বর্ষন মোহাম্মদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ দৈনিক মুন্সিগঞ্জের বার্তা