বক্তাবলী পরগনা রক্তদান সংস্থার অনুপ্রেরণামূলক পথচলা
সংগঠনের বার্তা-১২
ইঞ্জি. শাহিদুল হাসান শাওন
“মানবতার টানে ভয় নেই রক্তদানে”—এমন মানবিক ও সাহসী স্লোগান হৃদয়ে ধারণ করে বক্তাবলী পরগনা রক্তদান সংস্থা যাত্রা শুরু করে ২০১৯ সালে। শুরুটা ছিল কিছু তরুণের আন্তরিকতা আর মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অদম্য ইচ্ছাশক্তি নিয়ে। আজ ছয় বছর পর সংস্থাটি রক্তদানের এক উজ্জ্বল উদাহরণে পরিণত হয়েছে।
২০১৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সংস্থাটির স্বেচ্ছাসেবীরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অসহায় ও মুমূর্ষু রোগীদের জন্য ২,৩০০ ব্যাগ রক্ত বিনামূল্যে সরবরাহ করতে সক্ষম হয়েছে—যা একটি গ্রামীণ উদ্যোগের জন্য সত্যিই অনন্য অর্জন। যখনই হাসপাতালে বা জরুরি পরিস্থিতিতে রক্তের প্রয়োজন পড়েছে, তখনই এই সংস্থার তরুণরা ছুটে গেছে মানুষের জীবনের নিরাপত্তায়।
শুধু রক্তদানই নয়, সংকটের সময়ও তারা মানবিকতার উজ্জ্বল পরিচয় দিয়েছে। ২০১৯ সালে করোনা মহামারী দেখা দিলে বক্তাবলী পরগনা রক্তদান সংস্থার স্বেচ্ছাসেবীরা রোগীদের হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া, অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা এবং আর্থিকভাবে অসহায় পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছিল। তাদের নিজস্ব উদ্যোগে অনেক রোগীকে নগদ অর্থ প্রদান করা হয়, এমনকি দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত এক রোগীকে হুইলচেয়ার উপহারও দেন তারা।
২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় কুমিল্লা ও ফেনীর বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়াতে সংস্থাটি আবারও মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। নিজেদের অর্থায়নে ও প্রবাসী সদস্যদের সহযোগিতায় ২৫০টি পরিবারে শুকনো খাবার, ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেয়। শিশুদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণসহ বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগেও সক্রিয় ভূমিকা রাখে তারা।
বক্তাবলী পরগনা রক্তদান সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা মহিউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, মানুষের পাশে থাকা—এটাই তাদের মূল শক্তি। তার দিকনির্দেশনা এবং দেশে-বিদেশে থাকা অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষীর সহযোগিতায় এই মহৎ কার্যক্রম আরও এগিয়ে চলছে।
মানবতার সেবায় নিবেদিত এই স্বেচ্ছাসেবীরা বিশ্বাস করে,এক ব্যাগ রক্ত যেমন একটি জীবন বাঁচাতে পারে, তেমনই একটি ছোট উদ্যোগ সমাজে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। বক্তাবলী পরগনা রক্তদান সংস্থার ছয় বছরের এই অনুপ্রেরণামূলক যাত্রা প্রমাণ করে, ইচ্ছাশক্তি আর মানবিকতা থাকলে সেবার পথ কখনো থেমে থাকে না।
সম্পাদক - আশরাফ ইকবাল, নির্বাহী সম্পাদক - বর্ষন মোহাম্মদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ দৈনিক মুন্সিগঞ্জের বার্তা