সম্পাদকীয়
রাজনৈতিক সরকারের পক্ষে যে কাজগুলো করা কঠিন, তার মধ্যে একটি হলো নদী রক্ষা করা। আমাদের নদীগুলোর বেশির ভাগ দখলদার কিংবা দখলদারদের পৃষ্ঠপোষক হলেন রাজনীতিকেরা। এ কারণে নদী সুরক্ষায় রাজনৈতিক সরকারগুলোর তেমন কোনো ভূমিকা দেখা যায়নি। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন এমনভাবে নদী সুরক্ষার পদ্ধতি সংস্কার করতে হবে, যাতে রাজনৈতিক সরকার এসে সেই পদ্ধতি অনুযায়ী নদীর পরিচর্যা তথা রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করতে বাধ্য হয়।
বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদে যাঁরা আছেন, তাঁদের অনেকেই নদী নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। তাঁদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি পিএইচডি করেছেন গঙ্গার পানি বণ্টন ও আন্তর্জাতিক নদী আইনের ওপর। নদীবিষয়ক আইন সংশাধন করতে তাঁর এখন বিশেষ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের চেয়ে নদীর সংকট এবং সংকট উত্তরণের উপায় সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ব্যক্তি বাংলাদেশে খুব কম আছেন। যত দূর জানা গেছে, পরিবেশ ও নদী নিয়ে তাঁর মন্ত্রণালয় অনেকগুলো কাজ শুরু করেছে। নদীর সংখ্যা, জেলাভিত্তিক একটি করে নদীকে দখল ও দূষণমুক্ত করার কাজ করা হচ্ছে।
কেবল এসব কাজ করলেই নদী উদ্ধার হবে বলে আমরা মনে করি না। এমন কিছু কাজ করা জরুরি, যাতে নদীগুলোর বেঁচে থাকার পথ রচিত হয়।
ঢাকার কাছের জেলা হিসেবে মুন্সিগঞ্জের নদী-খালের প্রতি সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
সম্পাদক - আশরাফ ইকবাল, নির্বাহী সম্পাদক - বর্ষন মোহাম্মদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ দৈনিক মুন্সিগঞ্জের বার্তা