
মানুষের আগ্রহ আছে, অনিশ্চয়তাও কম নয়
আসন্ন নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কেমন হবে?
ত্বাইরান আবির
সাম্প্রতিক নির্বাচনী মাঠ পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের দ্বৈত মনোভাব কাজ করছে। একদিকে উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও স্থানীয় প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে আগ্রহ আছে, অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কত কার্যকর হবে, সে প্রশ্নে অনিশ্চয়তাও রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শহরাঞ্চলে ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক কম হতে পারে, তবে গ্রাম ও মফস্বল এলাকায় পারিবারিক, সামাজিক ও স্থানীয় প্রভাবের কারণে ভোটার উপস্থিতি মাঝারি থেকে ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষ করে যেসব এলাকায় একাধিক শক্তিশালী প্রার্থী বা স্থানীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য বিকল্প রয়েছে, সেখানে ভোটের মাঠ বেশ চাঙা।
সারাদেশে অনেক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা এখন আর কেবল দল বনাম দল নয়, বরং প্রার্থী বনাম প্রার্থী,
স্থানীয় জনপ্রিয়তা বনাম কেন্দ্রীয় পরিচয়, এই সমীকরণই বড় হয়ে উঠেছে।
অনেক জায়গায় স্বতন্ত্র প্রার্থী বনাম দলীয় প্রার্থীর লড়াই ভোটারদের সিদ্ধান্তকে আরও জটিল করে তুলছে। ফলে ভোটাররা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সিদ্ধান্ত ঝুলিয়ে রাখছেন, যা ভোটের দিন উপস্থিতি বাড়াতে পারে।
মুন্সিগঞ্জে ভোটের মাঠ বাইরে থেকে তুলনামূলক শান্ত মনে হলেও ভেতরে ভেতরে রয়েছে গভীর হিসাব। চায়ের স্টল, হাটবাজার, মসজিদের সামনে কিংবা নদীঘাটে আলোচনায় উঠে আসছে একই প্রশ্ন- এলাকার জন্য সত্যিকার অর্থে কাজ করবে কে?
মুন্সিগঞ্জের ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে যে চিত্র পাওয়া যাচ্ছে- তরুণ ভোটাররা কর্মসংস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও শিক্ষা নিয়ে বেশি ভাবছেন, মধ্যবয়সী ভোটারদের ফোকাস উন্নয়ন প্রকল্পের ধারাবাহিকতা, আর প্রবীণ ভোটাররা গুরুত্ব দিচ্ছেন ব্যক্তিগত পরিচিতি ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে।
অনেক ভোটার প্রকাশ্যে কিছু না বললেও ভেতরে ভেতরে তারা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। এটাই মুন্সিগঞ্জের নির্বাচনী রাজনীতির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, মুন্সিগঞ্জে ভোটার উপস্থিতি সারাদেশের গড়ের চেয়ে ভালো হতে পারে। এর কয়েকটি কারণ- পরিবারভিত্তিক ভোট সংস্কৃতি এখনো শক্ত, প্রার্থীদের স্থানীয় যোগাযোগ ও ব্যক্তিগত উপস্থিতি, রাজধানীর কাছাকাছি হওয়ায় রাজনৈতিক সচেতনতা তুলনামূলক বেশি।
বিশেষ করে লৌহজং, টংগীবাড়ী ও সিরাজদিখান এলাকার গ্রামীণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে সকাল থেকেই ভোটার উপস্থিতি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
মুন্সিগঞ্জে এই নির্বাচনে শেষ ৪৮ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অনেক ভোটার এখনো 'কে জিতবে' নয়, 'কাকে দরকার' এই প্রশ্নে ভাবছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চেয়ে মুখে-মুখে প্রচারণাই এখানে বেশি কার্যকর।
স্থানীয় ভোটারদের ভাষায়, ব্যালটে নাম দেখেই সিদ্ধান্ত বদলে যেতে পারে। এটাই মুন্সিগঞ্জ।
সারাদেশে যেখানে ভোটার উপস্থিতি নিয়ে নানা শঙ্কা ও হিসাব চলছে, সেখানে মুন্সিগঞ্জ যেন নিজের মতো করেই এগোচ্ছে। এখানে রাজনীতি কম শব্দের, কিন্তু সিদ্ধান্ত গভীর। প্রতিদ্বন্দ্বীতা সরাসরি চোখে না পড়লেও ব্যালট বাক্সে তার প্রতিফলন দেখার অপেক্ষায় পুরো জেলা।
ভোটের দিন মুন্সিগঞ্জ আসলেই প্রমাণ করবে নীরব ভোটারই অনেক সময় সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর।
সম্পাদক - আশরাফ ইকবাল, নির্বাহী সম্পাদক - বর্ষন মোহাম্মদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ দৈনিক মুন্সিগঞ্জের বার্তা