
আল আমিন
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারাদেশের মতো মুন্সিগঞ্জ জেলাতেও জমে উঠেছে নির্বাচনী পরিবেশ। প্রার্থীদের প্রচারণায় মুখরিত শহর ও গ্রাম—মাইকিং, পোস্টার, ব্যানার আর গণসংযোগে উঠে আসছে উন্নয়ন, পরিবর্তন ও নতুন সম্ভাবনার নানা প্রতিশ্রুতি। কোথাও নতুন রাস্তা নির্মাণের আশ্বাস, কোথাও সেতু-কালভার্ট, আবার কোথাও কর্মসংস্থান ও উন্নত সেবার কথা বলা হচ্ছে। তবে এসব প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবে রূপ নেবে—তা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন ভোটাররা।
নির্বাচনী সভা, মিছিল ও উঠান বৈঠকে প্রার্থীরা তাঁদের পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ ভাবনা তুলে ধরছেন। উন্নয়নকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে এক ধরনের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ। কিন্তু ভোটারদের একটি অংশ বলছেন, নির্বাচনের আগে এমন প্রতিশ্রুতি নতুন নয়।
গজারিয়া উপজেলার এক ভোটার বলেন,
“নির্বাচনের সময় সবাই উন্নয়নের কথা বলে। কিন্তু ভোট শেষ হলে অনেক প্রতিশ্রুতির খোঁজ আর পাওয়া যায় না।”
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অতীতের নির্বাচনে দেওয়া বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে ফুলদী নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের বিষয়টি, যার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের দীর্ঘ সময় পার হলেও কাজ শেষ হয়নি। এছাড়া কোথাও অসম্পূর্ণ সড়ক, কোথাও স্বাস্থ্যসেবার সংকট, আবার কোথাও কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগ—এসব বিষয় ভোটারদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।
একজন প্রবীণ ভোটার বলেন,
“প্রতিশ্রুতি আমরা বহুবার শুনেছি। এবার আমরা কাজের হিসাব মিলিয়ে দেখতে চাই।”
তরুণ ভোটারদের মধ্যেও প্রতিশ্রুতির চেয়ে বাস্তব ও সময়োপযোগী পরিকল্পনার প্রতি আগ্রহ বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাঁদের প্রশ্ন—কে কীভাবে কাজ করবেন, নির্দিষ্ট সময়সীমা কী এবং বাস্তবায়নের দায় কার ওপর থাকবে?
একজন তরুণ ভোটার জানান,
“শুধু বড় বড় কথা নয়, বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা দরকার। পাঁচ বছর পর যেন আবার একই প্রতিশ্রুতি শুনতে না হয়।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি বিশ্বাসযোগ্যতার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ভোটাররা এখন শুধু আশ্বাসে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রার্থীর অতীত ভূমিকা, এলাকায় সক্রিয়তা এবং বাস্তব কাজকে মূল্যায়ন করছেন।
সব মিলিয়ে বলা যায়, প্রতিশ্রুতির ভিড়ে দাঁড়িয়ে ভোটাররা এখন বাস্তবতার খোঁজে। কে শুধু বলছেন আর কে সত্যিই কাজ করতে পারবেন—এই প্রশ্নের উত্তরই মুন্সিগঞ্জসহ বিভিন্ন আসনের নির্বাচনী ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সম্পাদক - আশরাফ ইকবাল, নির্বাহী সম্পাদক - বর্ষন মোহাম্মদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ দৈনিক মুন্সিগঞ্জের বার্তা