নিজস্ব প্রতিবেদক
গজারিয়া উপজেলায় ওয়াহিদুজ্জামান নাইম নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিয়ে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে আসছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় নাইম ছাত্রদের বিপক্ষে অবস্থান নেন এবং আন্দোলন দমনে ভূমিকা রাখেন। যার কিছু ভিডিও ফুটেছ সংরক্ষণ করা হয়। উক্ত কর্মকাণ্ডে স্থানীয় সাধারণ জনগণ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
গজারিয়ার সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—কীভাবে এবং কোন প্রভাবের জোরে তিনি মুক্তিযোদ্ধার মতো সম্মানজনক পরিচয় বহন করে আসছেন?
এ বিষয়ে গজারিয়া উপজেলার ছাত্রনেতা ফাহিম ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইরণ শিকদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,“মুক্তিযুদ্ধ কোনো কেনা-বেচার পণ্য নয়, আর মুক্তিযোদ্ধা সনদ কোনো রাজনৈতিক দলের পুরস্কার হতে পারে না। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের শুধু তালিকা থেকে বাদ দেওয়াই যথেষ্ট নয়, রাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতারণার দায়ে তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।” বীর মুক্তিযোদ্ধা ইরণ শিকদার আরও বলেন,“প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন, অথচ ভুয়া পরিচয়ে কেউ কেউ রাষ্ট্রীয় সব সুবিধা ভোগ করছে—এটা চরম অবিচার। দ্রুত তদন্ত করে এমন ভুয়া সনদ বাতিল করা সময়ের দাবি।”
ছাত্রনেতা ফাহিম বলেন,“মুক্তিযোদ্ধা কোটা ত্যাগের স্বীকৃতি, এটি কোনোভাবেই মেধার অপমান নয়। কিন্তু যখন ভুয়া পরিচয়ে কেউ সেই কোটায় প্রবেশ করে, তখন তা জাতীয় লজ্জায় পরিণত হয়। স্বাধীন দেশের মাটিতে ভুয়া সনদ ব্যবহারকারীরা দেশপ্রেমিক নয়, বরং দেশের সঙ্গে প্রতারণা করছে।”
গজারিয়া বাসীর পক্ষ থেকে অবিলম্বে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে ওয়াহিদুজ্জামান নাইমের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
সম্পাদক - আশরাফ ইকবাল, নির্বাহী সম্পাদক - বর্ষন মোহাম্মদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ দৈনিক মুন্সিগঞ্জের বার্তা