প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ৭, ২০২৬, ৬:১৪ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ অগাস্ট ২৭, ২০২৫, ১০:১৫ এ.এম

(অনু গল্প)
নীলু ফুল দিয়ে মালা গাঁথছে৷
বাড়ি থেকে সুই আর সুতা নিয়ে এসেছে৷ গাছ তলায় বসেই ফুল দিয়ে মালা গাঁথছে৷ ফুলগুলো কি সুন্দর! কি তুলতুলে নরম! খুব আস্তে করে ধরতে হয়৷ নীলু ওর ছোট হাত দিয়ে একেকটি ফুল আস্তে আস্তে করে ধরে সুন্দর মালা গেঁথে চলছে৷ পুকুর পারের এই হিজল গাছটিতে অনেক ফুল হয়৷ ফুলগুলি কি সুন্দর লতার মত ঝুলে থাকে৷ কি মিষ্টি গন্ধ! গাছ তলায় যখন ফুলগুলি বিছিয়ে থাকে তখন কি যে সুন্দর লাগে!
নীলুদের হিজল গাছের একটু দূরেই মাটির সড়কটি সোজা দক্ষিণ দিকে চলে গিয়েছে৷ সড়কের শেষ মাথায় পোড়াগঙ্গার খাল৷ পোড়াগঙ্গা খালের পাশেই নীলুদের জমি৷ নীলুর বাবা জমিতে ধান নিড়াচ্ছে৷ জৈষ্ঠের গরমে প্রচুর পানির পিপাসা হয়৷ নীলু বাবার জন্যে পানি নিয়ে যায়৷ সাথে বাবার জন্য গাঁথা হিজল ফুলের মালাও নিয়ে যায়৷ দূর থেকে বাবাকে দেখেই বলে,
বাবা আমি তোমার জন্যি কল চাইপ্যা ঠান্ডা পানি নিয়া আইছি৷ আবিদ মিয়া মেয়ের ডাক শুনে ফিরে তাকায়৷
ইস্ গরমে শরিরটা ভিজে গেছে৷ গলাটাও শুকিয়ে গেছে৷ সে মেয়ের দিকে তাকিয়ে বলে, ঠিক সময়মত আইছত রে মা! আমার খুব পানির পিয়াস পাইছিলো৷ আশে পাশে কোন বাড়িও নাই যে একটু পানি খাইতে যামু৷ মেয়ে হেসে বলে, বাবা আমি জগ ভইরা ঠান্ডা পানি নিয়া আইছি৷ তুমি খাইয়া শীতল হও৷
নীলু বাবাকে টিনের গ্লাশে পানি ঢেলে দিলো৷ আবিদ মিয়া পানি খেয়ে পিপাসা মিটালো৷ আহ্ কি শান্তি!
গরমে দখিনা বাতাস আর ঠান্ডা পানি আল্লার নিয়ামত৷
এবার নীলু বাবার কাছে এসে বললো,
—বাবা চোখ বন্দ কর
—ক্যা?
—আহ্ ! করোই না
—এইজে করলাম
— এইবার হাত পাতো
—কিছু দিবি?
—আরে হাত পাতো না!
—হাত পাতলাম৷
আবিদ মিয়া চোখ খুলে দেখে একটি সুন্দর হিজল ফুলের মালা৷ কি নরম ফুলগুলি৷ মেয়ের কান্ড দেখে তার চোখে পানি এসে পরে৷ মেয়ের মত করে আবিদ মিয়াকে আর কেউ ভালোবাসে না৷ যেই মা তাকে অনেক ভালোবাসতো সেতো কয়েক বছর আগেই চলে গেছে৷ এখন এই নয় বছরের মেয়ে নীলুকেই তার মা মনে হয়৷ মায়ের মতই নীলু তাকে ভালোবাসে আবার শাসনও করে৷ মাঝে মধ্যে দু একটা বিড়ি ধরালে মেয়ে এসে ছুঁ মেরে হাত থেকে নিয়ে বলবে, বাবা এগুলা কি?
জানো না বিড়ি খাইলে কঠিন বেরাম হয়?আবিদ মিয়ার মাও তাই বলত৷
নীলু এবার বাবার কাছে এসে খুব সুন্দর করে হাসি দিয়ে বললো, বাবা আমার একটি কথা রাখবা?
— কি কতারে মা? আমি কি তোর কথা না রাইখা পারি?
—তাইলে তুমি আমারে হিজল ফুলের রঙের একখান ছোট শাড়ি কিননা দিবা৷ ঠিক হিজল ফুলের রঙের মতন৷
আবিদ মিয়া মেয়ে কথা শুনে হাসে৷ বলে ,আইচ্ছা হাটে গিয়া দেখুম এই রঙের শাড়ি আছে কিনা!
নীলু বাবার গলা জরিয়ে ধরে বলে, বাবা ভুলবানা কইলাম৷ মনে থাকে যেন৷
আবিদ মিয়া মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে বলে , মনে থাকবে রে মা৷
মেয়ে শুনে ভিষন খুশি হয়৷ তার পর বাবা আমি যাই তুমি কাজ শেষ করে তারাতারি চলে এস বলে দৌড়ে বাড়ি চলে যেতে লাগলো৷
আবিদ মিয়া দাঁড়িয়ে মেয়ের চলে যাওয়া দেখছে৷ দখিনা বাতাসে শরীরটা জুড়িয়ে গেলো৷ আকাশে মেঘ করেছে৷ বৃষ্টি আসবে মনে হয়৷ নাহ্ বৃষ্টি আসার আগেই বাড়ি চলে যেতে হবে৷ দূর থেকে বাড়ির কাছের হিজল গাছটি দেখা যাচ্ছে৷ আবিদ মিয়া এক হাতে কাঁচি আরেক হাতে মেয়ের দেয়া হিজল ফুলের মালা নিয়ে বাড়ি ফিরছে...