
মন্তব্য প্রতিবেদন
রমজান মাহমুদ
মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। দীর্ঘ দশ বছরের সাধনার বিষয় এ পরীক্ষা। সাধারণত প্রতি বছর ফেব্রুয়ারিতে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এ বছর এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পবিত্র রমযানের রোজা থাকায় ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে ২১ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ মঙ্গলবার হতে এবং শেষ হবে ২০ মে ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ বুধবার। ব্যবহারিক পরীক্ষা ০৭ জুন ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৪ জুন ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে সম্পন্ন হবে।
২০২৪ খ্রিষ্টাব্দে জুলাই অভ্যুত্থানের পর আমরা দেখেছি ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের এসএসসি পরীক্ষা কেমন হয়েছে। ২০০৯ সালের পূর্বে এসএসসি পরীক্ষা যেভাবে অনুষ্ঠিত হতো, খাতা মূল্যায়ন যেভাবে হতো। ঠিক সে ব্যবস্থা মাধ্যমিকের গুরুত্বপূর্ণ এ পরীক্ষায় চলে এসেছে। এখন আগের মতো পাশের হার, জিপিএ ফাইভ যত্রতত্র বৃদ্ধি হচ্ছে না। যারা নিয়মিত পড়াশোনা করবে কেবল তাদের পক্ষেই ভালো করা সম্ভব হবে। বিগত বছরগুলোতে আমরা দেখেছি একজন জিপিএ ফাইভ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীকে প্রশ্ন করে যখন অপারেশন সার্চ লাইট কি, বাংলাদেশের রাজধানীর নাম কি কিংবা আমি জিপিএ ফাইভ পেয়েছি এর ইংরেজি কি হবে এ ধরণের সাধারণ প্রশ্নের উত্তর লাভ সম্ভব হয়নি। তখন একটা প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা যারা শিক্ষাকতার সাথে জড়িত ছিলাম তারা উদ্বিগ্ন ছিলাম। ছিলাম শিক্ষাব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত। তবু স্বপ্ন ছিল আমাদের একটা সময় পর কাঙ্খিত পরীক্ষা ব্যবস্থা ফিরে আসবে। যে পরীক্ষাব্যবস্থার মধ্যদিয়ে আমরা আমাদের ছাত্র জীবন পার করেছি। আমাদের শিক্ষকদের নৈতিকতা দেখে এ পেশার প্রতি যে আগ্রহ তৈরি হয় তার দরুন কিন্তু এ পেশায় আমাদের আগমন। অথচ বিগত বছরগুলোতে চোখের সামনে দেখেছি শিক্ষকরা কিভাবে নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে এ পেশাকে কলষিত করেছেন।
সরকার মান সম্পন্ন শিক্ষার পরিবেশ তৈরির জন্য গত বছর থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় বেশ পরিবর্তন এনেছে। হঠাৎ করে শিক্ষাব্যবস্থায় এমন পরিবর্তনে ২০২৫ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষায় অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আশানুরূপ ফলাফল অর্জন করতে পারেনি। তাই এ বছর নির্বাচনী পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানগুলো চুলচেরা বিশ্লেষণ করে এসএসসি পরীক্ষার্থী বাছাই করেছে। এদের সংখ্যা মোট অংশগ্রহণকারীদের তুলনায় কোথাও কোথাও খুবই নগন্য। তবুও প্রতিষ্ঠানগুলো ফলাফল ভালো করুক। আর যেসব শিক্ষার্থী পড়াশোনায় মনযোগী ছিল না তারাও বুঝুক পড়াশোনা না করলে সামনের দিনগুলোতে তাদের কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে। তাই নিয়মিত পড়াশোনাই তাদের এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ঘটাতে পারবে।
শিক্ষাকতা পেশায় আছি এক যুগ তিন বছর হতে চলল। এ পেশায় এসে রীতিমত অবাক হয়েছি ২০০৮ সালের পূর্বের শিক্ষাব্যবস্থা আর মাঝের শিক্ষাব্যবস্থায় রাত দিন তফাৎ দেখে। পরীক্ষায় হল ডিউটি থেকে শুরু করে খাতা মূল্যায়ন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের মৌখিক যে নির্দেশনা থাকতো তা শুনে অবাক হতাম। মাঝে মাঝে ভাবতাম শিক্ষাব্যবস্থার এমন পরিস্থিতি কী আদৌ পরিবর্তন হবে? সে সময়ের এমন পরিস্থিতি মনে নানা শঙ্কার সৃষ্টি হতো। নিজে নিজে দু:খ পেতাম এই ভেবে একটা প্রজন্ম বইয়ের সাথে সম্পর্ক না রেখে কিভাবে নিজেদের ক্ষতি সাধন করছে। এসময় পাশ করা অথবা জিপিএ ফাইভ পেলে কখনো অবাক হতাম না। বরং অবাক হতাম কেউ অকৃতকার্য হলে!
পরীক্ষাব্যবস্থায় সংস্কারের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। সরকার যে ভবিষ্যৎ জাতি গঠনে খুব আন্তরিক তাদের এ পদক্ষেপেই বুঝা যায়। আমার দৃঢ় বিশ্বাস শিক্ষার্থীরাও পড়াশোনায় আন্তরিক হবে এবার। নিজেদেরকে সময়ের সাথে নানা প্রতিযোগীতায় টিকিয়ে রাখতে। প্রায় তিন মাস পূর্বে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড তোমাদের সুন্দর একটা প্রস্তুতির জন্য পরীক্ষার সময়সূচী প্রকাশ করেছে। আশাকরি এটি লক্ষ্য রেখে নিয়মিত পরীক্ষার প্রস্তুতি নিলে তোমরা অবশ্যই ভালো ফলাফল করবে। যা তোমাদের ভবিষ্যৎ জীবনে সফল হতে সহযোগিতা করবে। একজন শিক্ষক হিসেবে তোমাদের সে সফলতা দেখার অপেক্ষায় রইলাম।
সম্পাদক - আশরাফ ইকবাল, নির্বাহী সম্পাদক - বর্ষন মোহাম্মদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ দৈনিক মুন্সিগঞ্জের বার্তা