শেখ রুপু:
সংগঠন চর্চার ইতিহাস দীর্ঘ এবং অত্যন্ত উজ্জ্বল। শ্রীচৈতন্যদেব ছিলেন প্রথম সার্থক সংগঠক। বাঙালির দীর্ঘ দিনের অন্ধকার দূর করতে পরবর্তিতে রীতিমতো সাংগঠনিকভাবে কাজ করেছন রাজা রামমোহন রায়, বিদ্যাসাগর, বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ, বেগম রোকেয়া প্রমুখ।
চীনা দার্শনিক কনফুশিয়াসের একটি মহামূল্যবান উক্তি হল, যে ব্যক্তি অন্যের কল্যাণের ইচ্ছা পোষণ করে সে প্রকৃতপক্ষে নিজের কল্যাণই নিশ্চিত করে।
সামাজিক সংগঠনে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রেরণা পাওয়া যায় এবং মানুষের মাঝে ইতিবাচক গুণাবলী তৈরি হয়। মানুষের মধ্যে তৈরি হয় নেতৃত্ব-গুণ। সৃজনশীলতা ও দায়িত্বশীলতা বাড়ে, সামাজিক দায়বদ্ধতা বাড়ে। কেননা মানুষ সামাজিক জীব। সামাজিক জীব হিসেবেই সে বেড়ে ওঠে, বসবাস করে। প্রাণিজগতের আরো কিছু প্রাণির মধ্যেও সমাজবদ্ধ হয়ে জীবনযাপনের প্রবণতা দেখা যায়। তবে মানুষের বুদ্ধির মাত্রা তাদের চেয়ে বেশি।
মানুষ কেবল সামাজিক প্রাণিই নয়, বিচার-বুদ্ধিসম্পন্ন প্রাণিও বটে। তাই সে সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাসের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকার সংগঠন গড়ে তোলে। যার ধারাবাহিকতায় সিরাজদিখানে গড়ে উঠেছে ঝিকুট ফাউন্ডেশন নামে স্বনামধন্য একটি সংগঠন। আমার দেখা শত শত সংগঠনের মধ্যে এটি অন্যতম ।
ঝিকুট ফাউন্ডেশন হল এক সুতোয় এক এক করে এক একটা ফুল দিয়ে গাঁথা মালার মত। যেখানে এক একটি ফুল হল এক একজন শিল্পী। আলাদা ভাবে ফুল সুন্দর তো হয়। তবে মালা হয় তখনই যখন সেই সুতোয় এক এক করে অজস্র ফুলের সমাবেশ ঘটানো যায়। ফুলের মালার সৌন্দর্য নির্ভর করে মালা যে গাঁথছেন তার নিষ্ঠা, ধৈর্য, ধ্যান, দক্ষতা, ভালবাসার উপরে। এইসবের কোন একটা বাদ গেলে মালা তো গাঁথা যাবে কিন্তু সেই মালা সুন্দর হবে না, থাকবে না তাতে কোন আকর্ষণীয়তা।
অরাজনৈতিক, স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠন ঝিকুট ফাউন্ডেশন। এ সংগঠন এর মূলনীতি হচ্ছে একতা, শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সমাজকল্যাণ। এই সংগঠন সম্বন্ধে আমার সামান্য কিছু অভিজ্ঞতা ও অনুভুতি প্রকাশ করছি।
প্রথমত একতা নিয়ে একটি কথাই বলতে চাই তা হলো, আলাদা আলাদা আমরা এক এক বিন্দু, কিন্তু একত্রে আমরা এক সাগর। একা একা আমরা সামান্যই করতে পারি। কিন্তু একত্রে আমরা অনেক কিছু সম্ভব করতে পারি। যা আমি করতে পারি তা তুমি পারো না, যা তুমি পারো তা আমি পারি না; কিন্তু আমরা একসাথে এমন কিছু নেই যা করতে পারি না।
তারই ধারাবাহিকতায় মুন্সিগঞ্জের আনাচে কানাচে লুকিয়ে থাকা জানা অজানা অসংখ্য মানুষকে একত্রিত করে সুন্দর সাবলিল একটি সফল সংগঠন তারা হাটি হাটি পা পা করে আজ সাড়া বাংলাদেশে আলোড়ন সৃস্টি করেছেন। এর জন্য অন্তরের অন্তরস্থল থেকে ধন্যবাদ জানাতে চাই ঝিকুট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা প্রিয় বড় ভাই আশরাফ ইকবাল কে। তার সামাজিক চিন্তা চেতনা, মুগ্ধ করা সৃজনশিলতা, নেতৃত্বের বিচক্ষণতা হৃদয় ছুয়ে যাওয়ার মতো। তার সামাজিক চিন্তা চেতনা থেকে ঝিকুট ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন।
আমি ঝিকুট ফাউন্ডেশনের সাথে জড়িয়ে নিজেকে আলাদা ভাবে উপস্থাপন করার সুযোগ পেয়েছি। এখানে এসে শিখেছি সামাজিক দায়বদ্ধতা। জেনেছি ইতিহাস, স্বদেশীয় সংস্কৃতি সম্মন্ধে। দেখেছি মেধাবীদের মূল্যায়ণ করে কত সুন্দর করে তাদের সমাজে সম্মানিত করেছেন। মেধানুসারে বৃত্তি প্রদান করে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, যা পূর্বে কোন সংগঠন এমন সুন্দর করে উপস্থাপন করেতে পারেনি।
গুণিজনদের সম্মাননা প্রদান এবং বিক্রমপুরের ইতিহাস, ঐতিহ্য সংস্কৃতি সাড়া বাংলাদেশের সামনে উপস্থাপন করে আসছে।
আমি ঝিকুট ফাউন্ডেশন এর সর্বাঙ্গিন মঙ্গল ও শুভ কামনা করছি ।
লেখক: প্রচার সম্পাদক, ঝিকুট ফাউন্ডেশন, কেন্দ্রীয় পরিষদ।
সম্পাদক - আশরাফ ইকবাল, নির্বাহী সম্পাদক - বর্ষন মোহাম্মদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ দৈনিক মুন্সিগঞ্জের বার্তা