
মন্তব্য প্রতিবেদন
রমজান মাহমুদ
'কুল্লু নাফসিন জায়িকাতুল মাউত’
(সূরা: আল ইমরান, আয়াত: ১৮৫)
আমাদের ছেলেবেলায় প্রথম যখন বুঝতে শিখি তখন দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খালেদা জিয়া। সম্ভবত ১৯৯৫-১৯৯৬ সাল হবে। তখন টেলিভিশন চ্যানেল বলতে এক বিটিভি ছিল। খবর এভাবে না দেখলেও অনেকটা বাধ্য হয়ে দেখেছি আলিফ লায়লা, ছায়াছন্দ কিংবা শুক্রবার বিকেলে সিনেমা দেখার সময়। আমাদের বাড়ির পাশে প্রথম টেলিভিশন আনেন চাঁন মিয়া বেপারী। আমরা সমবয়সীরা এখানেই টিভি দেখতাম। তারও অনেক পরে আমেরিকা প্রবাসী গিয়াস উদ্দিন ভাই তাদের বাড়িতেও টিভি আনেন। আমরা দু'বাড়িতেই টিভি দেখতাম। খবরে 'প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া' পাঠ করতো, আমরা এটা শোনতে শোনতে অভ্যস্ত হয়ে পরি। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা যখন প্রধানমন্ত্রী হন, আমরা ছোটরা 'প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা' মুখে উচ্চারণ দেখতাম-শোনতে কেমন লাগে! তখন একে অপরের দিকে তাকিয়ে বলতাম খালেদা জিয়া-ই সুন্দর শোনায়।
২০০১ সালে খালেদা জিয়া তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হলেন তখন একুশে ও বিটিভিতে তাঁকে দেখতাম। আমরা শৈশবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁকে দেখতে দেখতেই বড় হয়েছি। কিন্তু সরাসরি কখনো তাঁকে দেখার সৌভাগ্য হয়নি। এক জীবনে একবারই তাঁকে দেখার সৌভাগ্য হয়। ২০১৪ সালে তখন আমি কলেজে পড়ি, পাশাপাশি একটি দৈনিকে জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করি। খালেদা জিয়া মুন্সিগঞ্জের হাটলক্ষ্মীগঞ্জ এক জনসভায় আসলেন। এখানেই তাঁকে প্রথম কাছ থেকে সরাসরি দেখার সৌভাগ্য হয় আমার।
বেগম খালেদা জিয়া স্বাধীন বাংলাদেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন। তাঁরমত এতো জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ বাংলাদেশের ইতিহাসে ছিলো না। আমরা যখন বুঝতে শিখেছি তাঁকে দেখেছি জাতীয় সংসদে ৩ টি করে আসনে নির্বাচন করতে। তিনি প্রতিবারই ৩ টি আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হতেন। যা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল।
তিনি ছিলেন আপোষহীন। জেল খেটেছেন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন কিন্তু অন্যায়ের কাছে কখনো মাথানত করেননি। তাঁর আপোষহীনতা আমাদের অন্যায়ের কাছে হার না মানতে শেখায়। এজন্যে তাঁকে ১/১১ ও বিগত সরকারের সময় ২০১৮ সালে কারাবরণ করতে হয়েছে। সম্ভবত তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে নারী রাজনীতিবিদদের মধ্যে সবচেয়ে বেশিদিন কারাবরণ করেন।
দেশের প্রতি অগাধ ভালোবাসা ছিলো। দেশ ছেড়ে তিনি কখনো বিদেশে যাননি। যা আমরা দেখি ১/১১ সরকারের সময় নানা চেষ্টা করেও তাঁকে বিদেশে পাঠাতে পারেননি। প্রয়োজনে দেশ থেকে অন্য কোন রাষ্ট্রে গেলেও আবার চলে এসেছেন দেশের মাটিতে। এমন দেশ প্রেমিক খুব কমই পাওয়া যায়।
বেগম খালেদা জিয়ার সবেচেয়ে বড় গুণ হলো মানুষকে সম্মান জানানো। তিনি কখনো প্রতিপক্ষের চরিত্র হনন করে কথা বলতেন না। তাঁর এ গুণ এদেশের রাজনীতিতে বিরল। আর একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি ছিলেন খুবই বিচক্ষণ, তিনি ডান ও বামদের নিয়ে খুব সুন্দর সমন্বয় করতেন। যা বাংলাদেশের ইতিহাসে দৃষ্টান্ত হিসেবে থাকবে।
একজন খালেদা জিয়ার মৃত্যু দেশ ও জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হলো। বাংলাদেশের ইতিহাসে তাঁর ত্যাগ ও সংগ্রাম লেখা থাকবে।
যেহেতু প্রত্যেক প্রাণী-ই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবেন। তিনিও আল্লাহর জিম্মায় চলে গেলেন অনন্তকালের জন্য। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা তাঁর দোষ ক্রুটি ক্ষমা করে যেনো জান্নাতবাসী করেন। আমিন।
সম্পাদক - আশরাফ ইকবাল, নির্বাহী সম্পাদক - বর্ষন মোহাম্মদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ দৈনিক মুন্সিগঞ্জের বার্তা