প্রিন্ট এর তারিখঃ সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ৬:১৮ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ৩০, ২০২৬, ১১:৪০ পি.এম
লতব্দীতে প্যানেল চেয়ারম্যানকে হেনস্তার অভিযোগ, চেয়ারম্যানের অস্বীকার

সিরাজদিখান প্রতিনিধি :
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার লতব্দী ইউনিয়ন পরিষদে দায়িত্ব পালনকালে প্যানেল চেয়ারম্যান মো. সামসুদ্দিন খান খোকনকে হেনস্তা ও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফেজ মো. ফজলুল হকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্যানেল চেয়ারম্যান উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তবে অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন চেয়ারম্যান।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভিজিডব্লিউবি কর্মসূচির আওতায় চাল বিতরণ কার্যক্রমে ইউনিয়ন পরিষদে দায়িত্ব পালন করছিলেন প্যানেল চেয়ারম্যান মো. সামসুদ্দিন খান। এ সময় চেয়ারম্যান হাফেজ মো. ফজলুল হক পরিষদে এলে সৌজন্যবশত তাকে পাশের একটি চেয়ারে বসার অনুরোধ করেন তিনি।
অভিযোগে বলা হয়, চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে চেয়ারম্যান উত্তেজিত হয়ে প্যানেল চেয়ারম্যানের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন, তার দায়িত্ব ও ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং পরিষদ কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন।
প্যানেল চেয়ারম্যান মো. সামসুদ্দিন খান বলেন, “জেলা প্রশাসক ও উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী আমি ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব পালন করছি। দায়িত্ব পালনকালে এ ধরনের আচরণে আমি অপমানিত ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছি।”
ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শরীফ হোসেন মাহমুদ, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. জামালউদ্দিন খন্দকার, সংরক্ষিত নারী সদস্য তাছলিমা খাতুন, ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক অনু জামান খান।
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে চেয়ারম্যান হাফেজ মো. ফজলুল হক বলেন, “ব্যক্তিগত কাজে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়েছিলাম। চেয়ারম্যানের জন্য নির্ধারিত চেয়ারে খোকন মেম্বার বসে ছিলেন। আমি কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলেও তিনি চেয়ারটি ছেড়ে দেননি; বরং পাশের চেয়ারে বসতে বলেন। আমি আপত্তি জানালে তিনি বলেন, এ চেয়ার তাকে জেলা প্রশাসক ও ইউএনও দিয়েছেন। তখন আমি বলি, এটি আমার বা আপনার চেয়ার নয়; এটি লতব্দী ইউনিয়নের ৩০ হাজার ভোটারের নির্বাচিত চেয়ারম্যানের চেয়ার। এরপর খোকন মেম্বার আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। পরে উপস্থিত সদস্যরা বসতে বললেও নিজের নিরাপত্তা ও সম্মানের কথা বিবেচনা করে আমি সেখান থেকে চলে আসি। পরে জানতে পারি, তিনি সাংবাদিকদের কাছে আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অসত্য তথ্য দিয়েছেন, যা দুঃখজনক।
সম্পাদক - আশরাফ ইকবাল, নির্বাহী সম্পাদক - বর্ষন মোহাম্মদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ দৈনিক মুন্সিগঞ্জের বার্তা