আড়িয়াল বিলে ৩৪১ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প অনুমোদন, বদলে যাবে শ্রীনগরের কৃষি ও জীবনমান
মুন্সিগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী আড়িয়াল বিল এলাকার জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পানি ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ‘পানি ও ভূমি সম্পদের সমন্বিত ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক ৩৪১ কোটি ৮৪ লাখ টাকার একটি মেগা প্রকল্প অনুমোদন করেছে পরিকল্পনা কমিশন।
শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দিন জানান, পরিকল্পনা কমিশনের স্মারক নম্বর ২০.০০.০০০০.৪১১.১৪.৪৭.২৬-৩৯৭, তারিখ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ অনুযায়ী প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে নভেম্বর ২০২৫ থেকে জুন ২০২৮ পর্যন্ত।
তিনি আরও জানান, প্রকল্পের মোট বাজেটের মধ্যে শুধু শ্রীনগর উপজেলার জন্যই বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৭৮ কোটি ১ লাখ টাকা, যা উপজেলার পানি ব্যবস্থাপনা ও কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রকল্পের আওতায় শ্রীনগর উপজেলার ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ খাল পুনঃখনন করা হবে। এসব খাল হলো— ভাগ্যকুল খাল, কামারগাঁও খাল, নাগনন্দী-ভাগ্যকুল খাল, নয়াবাড়ি খাল, কাঁঠালবাড়ি খাল, তালুকদার বাড়ি খাল, জাহানাবাদ খাল, খড়িয়া খাল, রাঢ়ী খাল, শ্রীনগর খাল, শ্যামসিদ্ধি খাল, জাগদার খাল, দেওভোগ খাল এবং আরধিপাড়া খাল।
এছাড়াও প্রকল্পের আওতায় আড়িয়াল বিলের পানি প্রবাহ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা উন্নত করতে ১২টি পুকুর বা ডেঙ্গা পুনঃখনন, ২০০ মিটার ইউ-ড্রেনসহ বক্স কালভার্ট নির্মাণ, ১১ হাজার ৫১০ মিটার স্লোপ সংরক্ষণ এবং ১৫ হাজার ৬৯৫ মিটার প্রতিরক্ষামূলক কাজ (Protection Work) বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রকল্পের কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ৮টি খালের পুনঃখননের জন্য দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এসব খালের মধ্যে রয়েছে— খড়িয়া খাল, জাহানাবাদ খাল, কাঁঠালবাড়ি খাল, তালুকদার বাড়ি খাল, কামারগাঁও খাল, দেওভোগ খাল, আরধিপাড়া খাল এবং রাঢ়ী খাল।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্পটির মাধ্যমে আড়িয়াল বিলের পানি ও ভূমি সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে। এতে নদী ও জলাভূমির মধ্যে স্বাভাবিক সংযোগ পুনঃস্থাপন, বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসন, জলাধারের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি হবে।
শ্রীনগরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই প্রকল্প অনুমোদনের খবরে এলাকায় আনন্দের জোয়ার বইছে। স্থানীয়দের আশা, প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে আড়িয়াল বিল সংলগ্ন কৃষি, পরিবেশ এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক ও বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে এলাকার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খালও এই উন্নয়ন কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে।