
মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস
ত্বাইরান আবির
মুন্সিগঞ্জ-৩ (সদর-গজারিয়া) আসনের নির্বাচনী মাঠ ধীরে ধীরে জমে উঠছে। মনোনয়ন যাচাই, আপিল ও প্রার্থীতা বাতিল-পুনর্বহালের দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে এখন দৃশ্যমান হচ্ছে প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বীতার চিত্র। দলীয় প্রার্থী, বিদ্রোহী-স্বতন্ত্র ও ইসলামী ঘরানার প্রার্থীদের উপস্থিতিতে এই আসনে এবার ত্রিমুখী লড়াইয়ের বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন মো. কামরুজ্জামান রতন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও দলীয় সাংগঠনিক কাঠামো তার বড় শক্তি। তবে দলীয় মনোনয়নের পর থেকেই স্থানীয় পর্যায়ে নেতাকর্মীদের একাংশের অসন্তোষ প্রকাশ্যে আসে, যা নির্বাচনী প্রচারে বিএনপির জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
অন্যদিকে বিএনপিরই প্রভাবশালী নেতা মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আপিলের মাধ্যমে বৈধতা পাওয়ার পর মাঠে নামায় এই আসনের সমীকরণ পুরোপুরি বদলে গেছে। তাকে ঘিরে একটি বড় অংশের নেতাকর্মী ও ভোটার সক্রিয় হচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, এই বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীই এবার মূল লড়াইকে সবচেয়ে বেশি জটিল করে তুলেছেন।
এদিকে জামায়াতে ইসলামী এই আসনে প্রার্থী বহাল রেখেছে। দলটির সাংগঠনিক ভোটব্যাংক সীমিত হলেও সুনির্দিষ্ট এলাকায় তাদের সমর্থন বরাবরের মতোই দৃশ্যমান। বিশেষ করে নীরব ভোটের ক্ষেত্রে জামায়াত প্রার্থীর প্রভাব উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকরা।
এখন পর্যন্ত নির্বাচনের মনোনয়ন যাচাইয়ে কয়েকজন প্রার্থীর কাগজপত্র বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুফতি নূর হোসাইন নূরানীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় ইসলামী ভোটের একটি অংশে নতুন করে পুনর্বিন্যাস হচ্ছে। ফলে সেই ভোট কোন দিকে যাবে, এটি এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
দীর্ঘদিন পর প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ নির্বাচন হওয়ায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ লক্ষণীয়ভাবে বাড়ছে। চায়ের দোকান, বাজার, নৌঘাট- সবখানেই আলোচনার কেন্দ্রে একটাই প্রশ্ন- দলীয় প্রার্থী জিতবেন নাকি বিদ্রোহী স্বতন্ত্র চমক দেখাবেন?
অনেক ভোটার প্রকাশ্যে বলছেন, তারা এবার ব্যক্তি, গ্রহণযোগ্যতা ও স্থানীয় কাজের হিসাব করেই ভোট দিতে চান। এতে করে দলীয় ভোটের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ইমেজ বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির দলীয় প্রার্থী এগিয়ে থাকবেন সংগঠিত ভোটে। স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দিন ভোট কাটবেন মূলত বিএনপির ভেতর থেকেই, তবে তিনি যদি অসন্তুষ্ট নেতাকর্মীদের পুরোপুরি ঐক্যবদ্ধ করতে পারেন, তাহলে ফলাফল অপ্রত্যাশিত দিকে মোড় নিতে পারে। জামায়াত ও অন্যান্য ছোট দলের ভোট ফল নির্ধারণে কিং-মেকার ভূমিকা রাখতে পারে। সবমিলিয়ে মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনে এবার কোনো একতরফা নির্বাচন নয়, বরং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উত্তেজনা থাকবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এই আসনে ভোটের দিনই বলে দেবে- দল জিতলো, নাকি ব্যক্তি রাজনীতি নতুন বার্তা দিল।
সম্পাদক - আশরাফ ইকবাল, নির্বাহী সম্পাদক - বর্ষন মোহাম্মদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ দৈনিক মুন্সিগঞ্জের বার্তা