আমিরুল ইসলাম মামুন
শিক্ষক, চিকিৎসক, ব্যাংকার কিংবা ব্যবসায়ী—পেশাগত অবস্থান যেমন সম্মানজনক, তেমনি শিক্ষাগত যোগ্যতায়ও তারা সমানভাবে একে অপরের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুন্সিগঞ্জু২ (লৌহজং ও টংগিবাড়ী) আসনের চিত্র এটি। চমক এখানেই এখানেই শেষ নয়, এই আসনে মনোনয়ন দাখিল করা সাতজন প্রার্থীর সাতজনের মনোনয়নই বৈধ ঘোষিত হওয়ায় স্পষ্ট হয়ে গেছে—লড়াইটা এবার মোটেও সহজ নয়।
দলীয় পরিচয়ের হিসাব কিছুক্ষণের জন্য পাশে রাখলে দেখা যায়, এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতার চাপ প্রার্থীদের চেয়ে বেশি বরং ভোটারদের ওপর। কাকে বেছে নেবেন, কাকে বাদ দেবেন—এই সিদ্ধান্তই এখন হয়ে উঠেছে এক কঠিন, অথচ মধুর সমীকরণ।
তবে এই তীব্র প্রতিযোগিতার মাঠে যা প্রার্থীদের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য তৈরি করে দিয়েছে—হলফনামায় ঘোষিত তাদের ব্যক্তিগত সম্পদের হিসাব বিবরণী।
এই আসনে সম্পদের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত এইচএসসি পাস ব্যবসায়ী কে এম বিল্লাল (৩৭)। তার ঘোষিত মোট সম্পদের পরিমাণ ১০ কোটি ৬৮ লাখ ৪৩ হাজার ১৮৭ টাকা। একই সঙ্গে তার নামে রয়েছে ৩ কোটি ৫৫ লাখ ১ হাজার ৬৩০ টাকার ব্যাংক ঋণ, যা তার আর্থিক অবস্থার আরেকটি দিক তুলে ধরে।
পরের অবস্থানে রয়েছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এমএসএস (রাষ্ট্রবিজ্ঞান) ডিগ্রিধারী, পেশায় ব্যবসায়ী অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ (৬৪)। তার হলফনামা অনুযায়ী অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ২২ লাখ টাকা এবং স্থাবর সম্পদ প্রায় ১ কোটি টাকা। পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও পারিবারিকভাবে রয়েছে কয়েক কোটি টাকার ঋণ।
জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী এমবিএ ডিগ্রিধারী, পেশায় ব্যাংকার ও বিনিয়োগকারী মাজেদুল ইসলাম রয়েছেন পরের ধাপে। তার ঘোষিত মোট সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। ব্যাংকিং পেশা ও বিনিয়োগের অভিজ্ঞতায় তিনি সম্পদের দিক থেকে মধ্যম-শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।
এরপর জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী বি.এ অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রিধারী, পেশায় শিক্ষক এবিএম ফজলুর করীম (৬৫)। তার ঘোষিত মোট সম্পদের পরিমাণ ৭৯ লাখ ৮ হাজার টাকা—একজন শিক্ষকের দীর্ঘ কর্মজীবনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি চিত্র বলে মনে করছেন জনসাধারণ।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী বিএসএস ডিগ্রিধারী, পেশায় ব্যবসায়ী নোমান মিয়া (৫৩) হলফনামায় সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ২৫ লাখ ২৯ হাজার ৯৭৪ টাকা।
এরপর ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মনোনীত এমবিবিএস ডিগ্রিধারী, পেশায় চিকিৎসক আশিক মাহমুদ (৩৭)। তার ঘোষিত মোট সম্পদের পরিমাণ ১২ লাখ টাকা, যা পেশাগত পরিচয়ের তুলনায় তুলনামূলক সীমিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকগন।
সবশেষে রয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী স্বশিক্ষিত, পেশায় ব্যবসায়ী মো. আমিনুল ইসলাম (৪৭) হলফনামা অনুযায়ী নিজের নামে কোনো বৈধ সম্পদের তথ্য উল্লেখ নেই।
সব মিলিয়ে একটি বিষয় স্পষ্ট—শিক্ষা ও পেশাগত যোগ্যতায় প্রার্থীরা একে অপরের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী। তবে সম্পদের ব্যবধান তাদের মধ্যে বড় একটা পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। তাই এবারের নির্বাচন শুধু প্রতীক বাছাইয়ের নয়, বরং কে প্রতিনিধিত্ব করবেন সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণভাবে। যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও বাস্তব অবস্থানের সমন্বয়ে বিচার করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এক মধুর চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে মুন্সিগঞ্জু২ এর ভোটারগণ।
সম্পাদক - আশরাফ ইকবাল, নির্বাহী সম্পাদক - বর্ষন মোহাম্মদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ দৈনিক মুন্সিগঞ্জের বার্তা