নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বিশ্ব হাতি দিবস প্রতি বছর ১২ আগস্ট পালন করা হয়। এই দিবসটি উদযাপনের মূল উদ্দেশ্য হলো হাতিদের সুরক্ষা ও সংরক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং তাদের বাসস্থান রক্ষার প্রচেষ্টা করা। হাতি আমাদের পৃথিবীর অন্যতম মূল্যবান প্রাণী, কিন্তু বর্তমানে তাদের সংখ্যা ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশেও হাতি দিবস পালন করা হয়।তবে দেশে সময়ের সঙ্গে বেড়েছে হাতি হত্যা। এক শ্রেণির মানুষ বিদ্যুতের ফাঁদ পাতা, গুলি করে হত্যা এবং শিকারের জন্য হাতিকে হত্যা করে যাচ্ছে। তাই বাংলাদেশে বন্য হাতির সংখ্যা দ্রুত কমে আসছে। বন বিভাগের তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই অস্বাভাবিকভাবে মারা গেছে অন্তত ১৮টি হাতি।
গত একযুগে সারা বিশ্ব থেকে হাতি কমেছে ৬২ ভাগ। নগরায়ণ এবং বনাঞ্চল ধ্বংসের কারণেই হাতির জীববৈচিত্র্য নষ্ট হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রতি বছর যে হারে হাতি কমছে, তাতে আগামীতে চিড়িয়াখানা ছাড়া আর কোথাও এই প্রাণীর অস্তিত্ব থাকবে না।
বাংলাদেশের চিত্রঃ ২০১৫ সালে বন মন্ত্রণালয় তাদের এক প্রতিবেদনে জানায়, যে বাংলাদেশের বনাঞ্চলে ২৮৬টি এবং চিড়িয়াখানা বা সাফারি পার্কে আরও ৯৬টি হাতি রয়েছে। সংস্থাটির ২০১৬ সালের সমীক্ষা অনুসারে, এ সংখ্যা কমে সে বছর বাংলাদেশে হাতির সংখ্যা দাঁড়ায় ২৬৮টিতে। অথচ বর্তমানে বাংলাদেশে হাতির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০০টিরও কম।
দেশের বন বিভাগের তথ্য মতে, ২০০৪ থেকে ২০২১ সালের এপ্রিল পর্যন্ত গত ১৭ বছরে মানুষের হাতে হত্যার শিকার হয়েছে ১১৮টি হাতি । এদিকে বেসরকারি সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, ২০২১-২২ সালে বিভিন্ন ঘটনায় ৩৪টি হাতি মারা গেছে। যদিও বন বিভাগের রেকর্ডে এ সংখ্যা মাত্র ১৬টি। অপরদিকে গত পাঁচ বছরে সারা দেশে কমপক্ষে ৫০টি হাতি হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বেসরকারি সংস্থাগুলো।
হাতির চোরা শিকারই জীবজগতের বৃহত্তম স্থলচর প্রাণীটির প্রধান শত্রু। কালোবাজারে হাতির অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের উচ্চমূল্যে বিক্রি হয়। বাড়ি, অফিস সাজাতে, কেউ বা শখ করে সংগ্রহ করেন হাতির দাঁতসহ অন্যান্য অঙ্গ-প্রতঙ্গ ।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা হাতি নিধন ও চোরাশিকার কমাতে না পারলে হাতিও ডাইনোসরের মতো বিলুপ্ত হয়ে যাবে। এ জন্য হাতি সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। আর এসব বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতেই হাতির দিবসের প্রচলন।
সম্পাদক - আশরাফ ইকবাল, নির্বাহী সম্পাদক - বর্ষন মোহাম্মদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ দৈনিক মুন্সিগঞ্জের বার্তা