এ.জেড.এ মুকুল
গতকাল ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদীর সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও দেখছিলাম, নির্বাচনী প্রচারনা চলাকালীন একজন লোক ভালবেসে হাদীর পেছন থেকে ৫০ হাজার টাকা ডোনেশন করেছেন। প্রত্যেক নির্বাচনকালীন দেখতাম প্রাথীরা ভোটারদের টাকা দিতেন আর এখন দেখছি ভোটাররা প্রার্থীকে টাকা ডোনেশন করছেন এ ধরনের চিত্র আমার ৪০ বছরের জীবনে কখনো দেখি নাই। এর কারন আমার কাছে মনে হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে ওসমান হাদীর আকাশছোয়া জনপ্রিয়তা। তিনি প্রথমে বলেছেন উনি নির্বাচিত হলে সংসদে দাড়িঁয়ে চাদাবাজদের নামের তালিকা প্রকাশ করবেন।
১২ ডিসেম্বর, ২০২৫ শুক্রবার জুমআর নামায পড়ার পরে বাসায় টিভি খুলতেই দেখি টিভির স্ক্রলে দেখাচ্ছে রাজধানীর বিজয়নগরের কালভার্ট এলাকায় ওসমান হাদীকে গুলি করে অস্ত্রধারীরা। মনটা খারাপ হয়ে গেল ও একটি প্রোগ্রামে যাওয়ার কথা ছিল ওটি পরে ক্যানসেল করে বাসায় থাকলাম উৎকন্ঠা হয়ে। আপাদত তার বাঁচার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা ছাড়া কোন উপায় নেই। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে শরিফ ওসমান হাদি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট দিয়ে দাবি করেন যে দেশি-বিদেশি অন্তত ৩০টি ফোন নম্বর থেকে তাকে ফোন এবং মেসেজ পাঠিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে, তার বাড়িতে আগুন দেওয়া ও তার মা, বোন ও স্ত্রীকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
দুদকের চেয়ারম্যানে সেই দিন বলছিলেন, আপনারা সৎ মানুষ নির্বাচিত করেন। আর সৎ মানুষ যদি নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে তার নিরাপত্তা ও বেচেঁ থাকতে না পারে তাহলে সৎ মানুষ কেন নির্বাচনে যাবে? ম্যানেজমেন্টের গ্রাজুয়েট হিসেবে মানুষ আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ এবং তার থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা। বরিশালের বাবুগঞ্জে ব্যারিস্টার ফুয়াদকে লাঞ্জিত, লক্ষীপুরে জেএসডির সহ-সভাপতি তানিয়া রবের উপর হামলা এবং অবশেষে ওসমান হাদীকে বাইক থেকে গুলি করারর মাধ্যমে প্রমান করে এই অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রার্থীদের জান-মালের নিরাপত্তা ও নির্বাচন দেওয়ারে কোন সক্ষমতা নেই। সুতরাং নির্বাচনের পূর্বে আইন-শৃঙ্খলার পরিবেশ ঠিক করা জরুরী। উল্লেখ্য, ৫ আগস্টের পর সাধারন মানুষের ভাবনা ছিল, অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার হবে ১/১১ ফখরুদ্দিন ও জেনারেল মইন ইউ আহমেদ এর মতো শক্তিশালী সরকার যারা দুনীর্তিবাজ, সন্ত্রাসী ও চাদাবাজদের নির্মূল করবে আপাদত সেই আশা গুড়ে বালি হয়েছে।
হাদীর ঘটনার পর সাধারন মানুষের কাছে স্পষ্ট, বিএনপি এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কেন দেশে ফিরতে চায় না। পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অগ্রনী ভূমিকা পালনকারী বাংলাদেশের বিভিন্ন আসন থেকে এনসিপি ও স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী হিসেবে মোঃ নাহিদ ইসলাম,আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিদ আলম, নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী, আখতার হোসেন, মাহফুজ আলম, ডাঃ তাসনিম জারা,ডা. তাজনূভা জাবীনসহ অনেকের নিরাপত্তার ঝুঁকি রয়েছে এটা বোঝার জন্য রকেট সায়েন্স বা গবেষনার দরকার হয় না। সুতরাং এই সরকারের উচিত নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আগামির বাংলাদেশে জনগন প্রতিহিংসার রাজনীতি দেখতে চায় না। আগামির বাংলাদেশে সাধারন মানুষ ভিন্ন মত দমনের নামে কোন গুম, খুন ও হত্যার রাজনীতি দেখতে চায় না। যারা আদর্শচু্্যত আওয়ামী লীগের মতো নেগেটিভ রাজনীতি করবে তারা দেশ থেকে মাইনাস হয়ে যাবে। মোট কথা, পজিটিভ রাজনীতি হোক আমাদের সকলের অঙ্গীকার এবং রাজনীতিতে মত-পার্থক্য থাকলেও দেশের
স্বার্থে সবার প্রতি শ্রদ্ধা অটুট থাকুক।
লেখক: গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
সম্পাদক - আশরাফ ইকবাল, নির্বাহী সম্পাদক - বর্ষন মোহাম্মদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ দৈনিক মুন্সিগঞ্জের বার্তা