প্রশাসনের নির্দেশনার তোয়াক্কাই করছে না ফ্যাক্টরিগুলো
তোফাজ্জল হোসেন শিহাব, প্রধান প্রতিবেদক:
প্রশাসনের নির্দেশনার কোন তোয়াক্কাই করছে না সিমেন্ট ফ্যাক্টরিগুলোর নিজস্ব জাহাজ গুলো।
মুন্সিগঞ্জ-নারায়ণগঞ্জ নৌরুটে ধলেশ্বরী ও শীতলক্ষ্যার মাঝনদী দখল করে একাধিক সিমেন্ট কারখানার কয়েক হাজার জাহাজ এলোমেলোভাবে নোঙর করে রাখা হয়েছে।
ফলে সংকুচিত হয়ে পড়েছে এই নৌপথ। এতে বিঘ্ন ঘটছে নৌযান চলাচলে। সেই সঙ্গে অনিরাপদ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে নৌ চ্যানেল। এর ফলে ধলেশ্বরী-শীতলক্ষ্যায় ঘটছে একের পর এক নৌ-দুর্ঘটনা। প্রাণ হারাচ্ছে মানুষ। নৌপথ সরু হওয়ার কারণে দুর্ঘটনা বাড়লেও তা দেখার যেন কেউ নেই। জেলা আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে জাহাজগুলোর এলোপাথারী নোঙ্গর বন্ধে সিদ্ধান্ত হলেও তা বাস্তবায়নে কোনো পদক্ষেপ নেই।
জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে নদীতে মনিটরিং করা হচ্ছে। নৌপথ স্বাভাবিক রাখতে এলোপাতাড়ি নোঙর করা জাহাজগুলোকে একাধিক বার মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানার আওতায় আনা হচ্ছে। কিন্তু কে শোনে কার কথা।
সরজমিন গত কয়েকদিনে দেখা যায়, ধলেশ্বরী-শীতলক্ষ্যা নদীর মাঝ অংশে সিমেন্ট ফ্যাক্টরির কয়েক হাজার ক্লিংকারবাহী ও সিমেন্টবাহী জাহাজ দিনের পর দিন ফ্যাক্টরির সামনে নদীতে নোঙর করা থাকে।
এদিকে কয়েক বছরের ব্যবধানে এই নৌরুটে ঘটেছে একাধিক দূর্ঘটনা। দুই বছর আগে এখানে কার্গো জাহাজের ধাক্কায় সাবিত আল হাসান নামে একটি যাত্রীবাহী লঞ্চ ডুবে প্রাণ হারান ৩৪ জন যাত্রী। ২০২২ সালের ২১ মার্চ এমভি রূপসীর সঙ্গে একই রুটে চলাচলকারী অপর একটি লঞ্চের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে একটি লঞ্চ ডুবে ১১ জন যাত্রীর মৃত্যু ঘটে। বারবার এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটলেও নৌযান ফেডারেশন, বিআইডব্লিউটিএ, জেলা প্রশাসন থেকে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ সচেতন মহলের।
এই রুটের লঞ্চ চালকরা জানান, আমাদের দিনের বেলায় লঞ্চ চালাতেই হিমশিম খেতে হয়। এলোমেলো জাহাজগুলোর কারণে অনেক সমস্যা হয়। অনেক দূর্ঘটনা ঘটলেও ফ্যাক্টরি মালিকরা কোনো পদক্ষেপ নেয় না। আমরা বললেও শোনেনা। এ বিষয়ে প্রশাসনের জোর পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে।
আর যাত্রীদের অভিযোগ, ইচ্ছে করেই মাঝ নদীতে নোঙর করে জাহাজগুলো। রাতের বেলায় অনেক কষ্ট করে যাতায়াত করতে হয়। নৌপথ নিরাপদ রাখতে বিষয়টি প্রশাসনের আমলে নেয়া দরকার।
বিআইডব্লিউটিএ (নারায়নগঞ্জ) জানান, জাহাজগুলোকে নোঙর করার জন্য সীমানা নির্ধারণ সোনারগা সীমাধীন (শম্ভুপুরা) এলাকায় করা হয়েছিল। আমরা গত বছর আমরা সার্ভেও করি। দপ্তরে প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে। এখন উপর মহল বিষয়টি দেখভাল করবে।
এ বিষয়ে কোস্ট গার্ড, নৌপুলিশ, লোকাল প্রশাসনের নজরদারি বৃদ্ধি জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয় সুশিল সমাজের নাগরিকরা ।
উপজেলা প্রশাসন সুত্রে জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে নদীতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। নৌপথে শৃঙ্খলা ফেরাতে ও দূর্ঘটনা রোধে আরো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।
আর নৌপুলিশের ডিআইজি মো. আলমগীর হোসেন জানান, আমরা মালিক সমিতির সকলকে নিয়ে বসেছিলাম। এলোমেলো ভাবে যেন জাহাজ না রাখে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এরপরো যদি বিষয়টির সমাধান না হয় আবারো তাদের চিঠি দেওয়া হবে। নৌপথে শৃঙ্খলা ফেরাতে আমরা যথেষ্ট তৎপর।
সম্পাদক - আশরাফ ইকবাল, নির্বাহী সম্পাদক - বর্ষন মোহাম্মদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ দৈনিক মুন্সিগঞ্জের বার্তা