আশরাফ ইকবাল:
পৃথিবীর মানুষের জন্য বাসযোগ্য করে তুলতে পরিবেশ রক্ষায় গাছ লাগানোর কোন বিকল্প নেই। এ সমাজে গাছখেকো, বনখেকোরা যখন তাদের হীন উদ্দেশ্যে পরিবেশ বিপর্যস্ত করে তুলছে তখন সিরাজদিখানের কুসুমপুরের এক ভেষজ বিজ্ঞনী বিরল ভালোবাসার ঘটনা নি:সন্দেহে বিক্রমপুরীদের মনে আশা জাগিয়েছে। বছরের পর বছর ধরে মা মাটি, মানুষকে ভালবেসে নিজের কষ্টে উপর্জিত অর্থ দিয়ে গড়ে তুলেছেন তানিয়া বাগান। যেখানে বিরাজ করেছে মনোরম পরিবেশ। হরেক গাছপালায় ভরা বাংলাদেশে অল্প যে কটি সবুজ অরণ্য আছে তার মধ্যে তানিয়া বাগান একটি। ১৫০ শতাংশ জমির উপর গড়ে তোলা এ বাগানে প্রায় ২০০ প্রজাতির ৫ হাজার গাছ আছে। এ বাগানে আছে ক্যাকটাস, জাফরান, অর্জুন, হরতকি, কদম, চালতা, এলাচি, লটকনসহ দুর্লভ প্রজাতির অনেক উদ্ভিদ। এখানে কারিপাতা নামের এক ধরনের গাছ আছে। এ দুর্লভ প্রজাতির এ গাছের পাতা বিভিন্ন তরি-তরকারিতে দিয়ে রান্না করা হয়। এছাড়া আছে আভোগাডো।

এ বাগানের প্রধান আকর্ষণ পুকুর। বিভিন্ন প্রজাতির মাছ খেলা করছে তা দেখতে কার না ইচ্ছে করে। কোষা নৌকা আছে যারা চালাইতে পারে তাদের জন্য উপভোগ্য। হেলানো কৃষ্ণচূড়ার ফাঁক দিয়ে দেখা যায় পুকুর পাড় ঘেঁষে লাল-সাদা-কুমুদ আর জলকলমির ফুটন্ত ফুলের ভাসন্ত বাগান। পাশেই ছাওনি তলায় বসে বিশ্রাম নিয়ে দেখা যায় কচুরি পানার জঙ্গলের উপর শিকারের অপেক্ষায় ঢ্যাঙঢ্যাঙা ঠ্যাং নিয়ে দাড়িয়ে আছে সাদা আর ধবল বক! পানকড়ির মাছ শিকার, উপরে গাঙচিল উড়া এ এক ভিন্ন রূপ ধারণ করেছে।

সবুজ বনানী অনিন্দ্য সুন্দর রূপ ধারণ করায় আগত অতিথিরা আনন্দ উপভোগ করেছে। পাখিদের কলকাকলি আর বিনোদনপ্রেমীদের পদভারে মুখর হয়ে উঠেছে এ বাগান।
আইএফসির প্রতিষ্ঠাতা প্রকৃতিপ্রেমী ভেষজ বিজ্ঞানী সৈয়দ টিপু সুলতান ১৯৯০ সালে এ বাগান প্রতিষ্ঠা করেন।
সিরাজদিখান প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক কে. এন ইসলাম বাবুল বলেন, এটি নি:সন্দেহে দেশ ও দশের কল্যাণ বয়ে আনবে।
মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর লেখক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক রমজান মাহমুদ বলেন, নিজ উদ্যোগে এ ধরনের সমৃদ্ধ ভেষজ, ফলদ ও ফুল গাছের বাগান সত্যিই বিরল। তাছাড়া কবি সাহিত্যিকদের আড্ডার জন্য মনোরম পরিবেশ আছে এ বাগানে।
সম্পাদক - আশরাফ ইকবাল, নির্বাহী সম্পাদক - বর্ষন মোহাম্মদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ দৈনিক মুন্সিগঞ্জের বার্তা