মোরসালিন রহমান
বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। অথচ পরিচর্যা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে একে একে হারিয়ে যাচ্ছে দেশের অসংখ্য নদী, দখলদারিতে বিলীন হচ্ছে শাখা উপশাখা। এরই বাস্তব চিত্র দেখা যায় মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায়।
এক সময় সিরাজদিখান উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ নদী ধলেশ্বরীতে চলাচল করত নৌকা, ইঞ্জিনচালিত টলার ও ফেরি। এই নদীপথ ব্যবহার করে মানুষ পারাপারসহ কৃষিপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পরিবহন করত। কিন্তু কালের পরিক্রমায় দীর্ঘদিনের অবহেলার কারণে আজ ধলেশ্বরী নদী তার স্বাভাবিক প্রবাহ ও নাব্যতা হারিয়ে ফেলছে। অনেক স্থানে নদীর প্রশস্ততা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, কোথাও কোথাও চর জেগে উঠেছে, ফলে নৌযান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
অন্যদিকে উপজেলার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নদী ইছামতী বর্তমানে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। নদীতে নির্বিচারে ফেলা হচ্ছে নিমতলা বাজারের বর্জ্য, পলিথিন, প্লাস্টিক ও বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা। এছাড়া আশপাশের বসতবাড়ির ময়লা সরাসরি নদীতে পড়ায় পানির রং ও গন্ধ পরিবর্তিত হচ্ছে, মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে উঠছে নদীর পানি।
নদী দূষণের কারণে মাছের প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস হচ্ছে, কমে যাচ্ছে দেশীয় মাছের প্রজাতি, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে নদীনির্ভর জেলে পরিবারগুলোর জীবিকায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নদী ও খাল দখল করে প্রভাবশালীরা দোকানপাট, গুদাম, ইট ভাটাসহ বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তুলেছে। এতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে বর্ষা মৌসুমে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং শুষ্ক মৌসুমে নদীগুলো পরিণত হচ্ছে মৃতপ্রায় জলাধারে। এর ফলে কৃষিজমিতে সেচ সংকট দেখা দিচ্ছে এবং ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
নদী দখল, দূষণ ও নাব্যতা সংকট অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে পানিসংকট আরও তীব্র হবে, কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং জীববৈচিত্র্েযর অপূরণীয় ক্ষতি ঘটবে।
স্থানীয় মো.নাছির শেখ বলেন, নদী ও শাখাুউপশাখা রক্ষায় অবিলম্বে দখলদার উচ্ছেদ, নিয়মিত খনন কার্যক্রম গ্রহণ, নদীতে বর্জ্য ফেলা রোধে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এই নদীগুলো থাকবে কেবল ইতিহাস ও স্মৃতির পাতায়।
এবিষয় সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী অফিসার রূম্পা ঘোষ বলেন,আপনার মাধ্যমে বিষয় গুলো জানতে পারলাম। আমরা এই বিষয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
সম্পাদক - আশরাফ ইকবাল, নির্বাহী সম্পাদক - বর্ষন মোহাম্মদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ দৈনিক মুন্সিগঞ্জের বার্তা