মন্তব্য প্রতিবেদন
আতিকুর রহমান টিপু:
জাতীয় নির্বাচন কি পিছিয়ে যাচ্ছে? নাকি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত না হলে ভোটহীন নির্বাচনে যতদিন ক্ষমতায় থাকতেন সেই সময়টুকু জুড়ে এ সরকারের সময় থাকবে? নাকি ২০২৬ সালের জুনেই নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ হবে। এ নিয়ে এখন নান জল্পনা। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভুক্ত (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার গতকাল নির্বাচন ও সংস্কার নিয়ে যা বলেছেন তা বিশ্লেষক ও প্রধান রাজনৈতিক দলকে ভাবিয়ে তুলেছে। তিনি বলেছেন' বর্তমান সরকারের সংস্কারের জন্য যটেষ্ট সময় থাকা প্রয়োজন। তাতে অনেকেই অবাক হয়েছেন। সরকারও একটা কড়া সমর্থন পেয়ে গেলো। কেননা যেহেতু নির্বাচন নিয়ে বিএনপি চাপ দিয়ে যাচ্ছে আর মাইকেল মিলার বলছেন সরকারের কিছুটা পক্ষ্যে তাতে বিএনপির কিছুটা বিপাকে পড়লো এমনই ধারনা অনেকের। জামায়াতে ইসলাম ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারী হতে মার্চ নাগাদ নির্বাচন হবার বিষয়ে কথা বলেছে। কিন্তু তাতে কৌশল বা ডিপলোমেটিক কথাও রয়েছে। রাজনীতেতে এটি থাকতেই পারে। আর এনসিপিতো ফেসিষ্টদের বিচারের আগে নির্বাচনই চাচ্ছেই না।
অপর দিকে বর্তমান অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে যে সব সমালোচনা করা হচ্ছে তা হলো জাতীয় নির্বাচন প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার বিষয়। কিন্তু মাইকেল মিলারের কথায় এবং সংস্কারের সময় বাড়ানোর পক্ষ্যে চলে যাওয়ায় সরকারের মেয়াদও বেড়ে যাবারও সম্ভাবনা থেকে গেলো। তা কখনোই হাল্কা ভাবে নেয়া যাবেনা। কেননা সংস্কারের সময় লাগতেই পারে। তা হুট করে শেষও করা যাবেনা। এমনই মোটিভ নিয়ে যখন দূতের কথা উচ্চারিত হলো তখন রহস্য আরো সম্প্রসারিতই হলো।
কিন্তু বিএনপি নির্বাচন দ্রুত সম্পন্নের পক্ষ্যে। জামায়াতে ইসলাম নির্বাচনের পক্ষ্যে জোরালো তবে কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পক্ষ্যে জামায়াত। তারা স্থানীয় নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনের আগে চাচ্ছে। কারণ হিসেবে জামায়াতে ইসলাম স্থানীয় সরকার অবকাঠামো শক্তিশালী করার পক্ষ্যে। নির্বাচন কমিশনের যোগ্যতা ও দক্ষতা এবং নিরপেক্ষতা প্রমাণ করতে চায় তারা। অন্যদিকে এনসিপি বিচারের আগে নির্বাচন চাচ্ছেনা। বিএনপি জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন চাচ্ছেনা। এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতানৈক্য থেকেই গেলো। আবার একটি জনমতও তৈরী করা হচ্ছে এ সরকার ৫ বছর থাকার বিষয়ে। অদৃশ্য ভাবে এটি তৈরী হচ্ছে। কারা করছে তা অদৃশ্যেই থেকে যাচ্ছে। কিন্তু বিএনপি খুব দ্রুতই নির্বাচন চাচ্ছে। অপরদিকে বিএনপি তাদের তৃণমূল কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছেনা এমনই অভিযোগ সংবাদ মাধ্যমে উঠে এসেছে। অনেকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েও পারছেনা নিয়ন্ত্রণে আনতে। নিজেরা নিজেরা অনেকেই সংঘর্ষেও লিপ্ত হচ্ছে। তারা নানা অনিয়মে জড়িয়ে যাচ্ছে এমনই সংবাদ নানা ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া, প্রিন্ট মিডিয়া এবং সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। যতই দিন যাচ্ছে এ কারণে দলের ভেতর বিরুপ প্রক্রিয়া তৈরী হচ্ছে। এতে জন সমর্থন কমে যেতে পারে দলটির বলছেন বিশ্লেষকগণ। একটি জনপ্রিয় বৃহৎ দলকে এ থেকে বের হয়ে আসতে হবে এমনই মত অনেকের।
মিলারের মন্তব্য ও সরকারের পারিপার্শ্বিকতা মিলিয়ে
আসলে নির্বাচন কি পিছিয়ে যেতে পারেনা...!
সম্পাদক - আশরাফ ইকবাল, নির্বাহী সম্পাদক - বর্ষন মোহাম্মদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ দৈনিক মুন্সিগঞ্জের বার্তা