প্রিন্ট এর তারিখঃ অক্টোবর ২৬, ২০২৬, ১০:১২ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ অক্টোবর ২৬, ২০২৬, ৮:৪২ এ.এম

টঙ্গীবাড়ী প্রতিনিধি:
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলায় নতুন সার ডিলার নিয়োগের বাছাইপ্রক্রিয়া নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগের জন্য ৫৫ জন আবেদন করলেও শেষ পর্যন্ত ১৩টি ইউনিয়নে ১৩ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে আবেদনকারীদের তথ্য যাচাই-বাছাই এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ার বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়েও তা পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পৃতীশ চন্দ্র পাল জানান, উপজেলা সার ডিলার বাছাই কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সদস্যসচিব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা। বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে আবেদনকারীদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে তালিকা জেলায় পাঠানো হয়েছে।
তবে ৫৫ জন আবেদনকারীর মধ্যে কারা কী কী যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁদের তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া কী ছিল এবং বাছাইয়ে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে নিয়োগ পাওয়া ডিলাররা হলেন, বেতকা ইউনিয়নে মেসার্স সেলিম অ্যান্ড ব্রাদার্সের মালিক মো. শামীম ঢালী, আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নে মেসার্স হাওলাদার এগ্রো বিজনেসের মালিক কোতোয়াল জাহিদ হক, সোনারং-টঙ্গীবাড়ী ইউনিয়নে মেসার্স হুমায়রা ট্রেডার্সের মালিক মো. মারুফ ইসলাম, আউটশাহী ইউনিয়নে মেসার্স এস আর ট্রেডার্সের মালিক পাপিয়া আক্তার, আড়িয়ল ইউনিয়নে মেসার্স সায়ান এন্টারপ্রাইজের মালিক তোহার হোসেন, বালিগাঁও ইউনিয়নে মেসার্স মুন্সী এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. রকিবুল ইসলাম এবং ধীপুর ইউনিয়নে মেসার্স মোল্লা ট্রেডার্সের মালিক রিয়াদ মোল্লা।
এ ছাড়া কাঠাদিয়া-শিমুলিয়া ইউনিয়নে মেসার্স রাজ এন্টারপ্রাইজের মালিক মতিউর রহমান শিকদার, যশলং ইউনিয়নে মেসার্স সায়মা এন্টারপ্রাইজের মালিক আশ্রাফ হোসেন, কামারখাড়া ইউনিয়নে মেসার্স ইসমাইল এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. ইসমাইল, পাঁচগাঁও ইউনিয়নে মেসার্স নাফিজা এন্টারপ্রাইজের মালিক কাইয়ুম কবির, হাসাইল-বানারী ইউনিয়নে মেসার্স এস কে করপোরেশনের মালিক আলী আকবর এবং দিঘিরপাড় ইউনিয়নে মেসার্স মোল্লা ট্রেডার্সের মালিক সোহেল মোল্লা নিয়োগ পেয়েছেন।
এদিকে যশলং ইউনিয়নের সারের ডিলার মেসার্স সায়মা এন্টারপ্রাইজের মালিক আশরাফ হোসেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি বলে ক্ষোভ জানিয়েছে বিএনপির একটি গোষ্ঠী। আরও অনেকে জানায়, যারা উপজেলায় সারের ডিলার পেয়েছে তাদের মধ্যে অনেকেই সারের ব্যবসা সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই।
উপজেলা মৎস কর্মকর্তা মোসাম্মৎ নিগার সুলতানা জানান, আমরা তদন্তে যাওয়ার পর সবাই আমাদের গোডাউন দেখিয়েছে। আমরা তদন্তে যা পেয়েছি রিপোর্ট জমা দিয়েছি। তালিকা কৃষি কর্মকর্তার কাছে থাকার কথা।
উপজেলা তদন্ত কমিটির সদস্য উপজেলা সমবায় অফিসার মো. মিজানুর আহসান চৌধুরী জানান, আমরা তদন্তে গিয়ে কোথাও এমন দৃশ্যও দেখেছি যেখানে গরুর খামার ছিল, সেখানে পরিত্যক্ত হাউজ, নালা দেখা গেছে। আরেকটা আড়িয়ল মার্কেটের পিছনে পরিত্যক্ত স্থানে কাঠের ঘর তুলে রাখছে যেখানে জঙ্গল দেখা যায়। যেগুলো অনুপযোগী সেগুলো ইউএনও মহোদয়কে জানিয়েছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পৃতিশ চন্দ্র পাল জানান, আমি উপজেলা তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ছিলাম। উপজেলার বিভিন্ন কর্মকর্তারা তদন্ত করেছে। তিনি আবেদনের তালিকা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, তদন্ত কমিটির দেয়া রিপোর্ট আমরা জেলায় জমা দিয়েছি। আমার কাছে আবেদনের তালিকা নাই।
কিন্তু অন্যদিকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সামনে বসে জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. হাবিবুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, আবেদনের তালিকা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে আছে। যদি কোনো অনিয়ম থাকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিমা আনজুম সোহানিয়া জানান, সাররের ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে তদন্ত কমিটির দেয়া তথ্য আমরা জেলায় পাঠিয়েছি। যদি কেউ তথ্য গোপন করে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সার ডিলার নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আবেদনকারীদের যোগ্যতা, যাচাই-বাছাইয়ের মানদণ্ড এবং নির্বাচিতদের তালিকা-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।