প্রতিদ্বন্দ্বী থেকে... সহযাত্রী
ত্বাইরান আবির-
নির্বাচনী উত্তাপ পেরিয়ে মুন্সিগঞ্জের রাজনীতিতে এখন ভেসে উঠছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ছবি- সৌজন্য, কুশল বিনিময় আর সম্পর্ক রক্ষার বার্তা। ভোটের প্রতিদ্বন্দ্বীতা শেষ হতেই জেলার বিভিন্ন আসনে প্রার্থীরা একে অপরের বাড়িতে গিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন, আলাপ করছেন, হাসিমুখে ছবি তুলছেন। সমর্থকদের মাঝেও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে শান্ত থাকার আহ্বান। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসছে, কমছে অজানা শঙ্কা।
ভোটের আগে যে উঠান ছিল স্লোগান, মিছিল আর কৌশল নির্ধারণের কেন্দ্র, এখন সেখানেই দেখা যাচ্ছে করমর্দনের দৃশ্য। রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও সামাজিক বন্ধন অটুট, এই বার্তাই সামনে আনছেন নেতারা। স্থানীয়রা বলছেন, নির্বাচনের পরে এমন দৃশ্য মুন্সিগঞ্জের রাজনীতিতে ইতিবাচক সংস্কৃতির ইঙ্গিত বহন করে।
মুন্সিগঞ্জ-১ আসনে সাম্প্রতিক একটি বহুল আলোচিত সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছে শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ ও ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী ফখরুদ্দীন রাজি'র মধ্যে। নির্বাচন শেষ, ফলাফল ঘোষণার পর দুই প্রতিদ্বন্দ্বী একসাথে বসে কুশল বিনিময় করেন, এলাকার শান্তি ও উন্নয়ন নিয়ে কথা বলেন। তাদের এই সাক্ষাৎ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
একইভাবে মুন্সিগঞ্জ-২ আসনেও মিলনের বার্তা দিয়েছেন প্রার্থীরা। মাজেদুল ইসলাম সাক্ষাৎ করেছেন বিএনপি প্রার্থী আব্দুস সালাম আজাদ এর সঙ্গে। দীর্ঘ প্রতিদ্বন্দ্বীতার পর এই সাক্ষাৎকে অনেকে দেখছেন ভবিষ্যৎ সহাবস্থানের ভিত্তি হিসেবে। নেতারা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, নির্বাচন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ, কিন্তু এলাকার মানুষ সবার। তাদের শান্তি ও উন্নয়নই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
সাধারণ ভোটারদের ভাষায়, 'নেতারা যদি একসাথে বসতে পারেন, তাহলে মাঠের কর্মীদের বিরোধ কেন থাকবে?' ব্যবসায়ী মহল মনে করছেন, রাজনৈতিক উত্তেজনা কমলে বাজারে স্থিতিশীলতা আসে, বিনিয়োগ ও বেচাকেনা বাড়ে। অভিভাবকরা বলছেন, তরুণদের মাঝেও সহনশীলতার শিক্ষা পৌঁছাবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সৌহার্দ্য ভবিষ্যতের জন্য বড় বার্তা বহন করে। নির্বাচনের পর যদি প্রতিহিংসার বদলে যোগাযোগ বাড়ে, তাহলে স্থানীয় সমস্যা সমাধানে যৌথ উদ্যোগ নেওয়া সহজ হয়। রাস্তা, ড্রেনেজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা- এসব ইস্যুতে বিরোধী পক্ষগুলোর মতবিনিময় প্রশাসনিক কাজকেও গতিশীল করতে পারে।
তবে তারা সতর্কও করছেন- এই সৌজন্য যেন কেবল ক্যামেরাবন্দী মুহূর্তে সীমাবদ্ধ না থাকে। প্রকৃত পরিবর্তন আসবে তখনই, যখন কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে নেতারা ধারাবাহিক উদ্যোগ নেবেন এবং মাঠপর্যায়ে সহনশীলতার চর্চা চালু থাকবে।
সবমিলিয়ে মুন্সিগঞ্জে এখন যে ছবি তৈরি হয়েছে তা হলো প্রতিদ্বন্দ্বীতা শেষে সহাবস্থানের চেষ্টা। নির্বাচন-পরবর্তী রাজনীতিতে এটি নতুন মানদণ্ড তৈরি করতে পারে কি না, তা সময় বলবে। কিন্তু আপাতত মানুষ অন্তত এই বার্তাটুকু পাচ্ছেন- ভোট শেষ, এখন একসাথে জেলার জন্য কাজ করার সময়।
সম্পাদক - আশরাফ ইকবাল, নির্বাহী সম্পাদক - বর্ষন মোহাম্মদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ দৈনিক মুন্সিগঞ্জের বার্তা