মুহাম্মাদ ইয়ামিন:
হাট মানে একসাথে অনেক পন্যের সমারোহ। যেখান থেকে ক্রেতা তার চাহিদা মতো সব ধরণের পন্য একসাথে ক্রয় করতে পারেন। এমনই একটা হাট হলো মুন্সিগঞ্জের ঐতিহ্যেবাহী শিবরামপুর হাট। এটি শ্রীনগর থানার বাড়ৈখালী ইউনিয়নে অবস্থিত।
সপ্তাহের প্রতি শনিবারই দূরদূরান্ত থেকে দোকানীরা এসে হাটটি জমিয়ে তোলে। একদিকে যেমন বিক্রেতা তাদের বিক্রি উপযুক্ত পন্য দূর থেকে হাটে নিয়ে আসে ভিন্ন দিকে ক্রেতারাও পন্য কেনার জন্য বহু দূর থেকে এখানে আসে। ক্রেতা ও বিক্রেতার মিলনে হাটটি বেশ জমে উঠে ও হয়ে হঠে প্রাণবন্ত এবং জম্পেশ। প্রায় দুই জেলার তিন থানার ক্রেতা বিক্রেতা জমায়েত হয় এখানে। এছাড়াও হাটটি বেশ পুরোতন হওয়ার কারণে দর্শনার্থীও থাকে অনেক।
নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য, চাল-ডাল, পিয়াজ-রসুন, আলু, সবজি, তাতের লুঙ্গি, জামা-কাপড়, ছাড়াও এখানে বিক্রি হয়, গাছের চাড়া, দা, ছুড়ি-কাঁচি, নিমকি, মন্ডা-মিঠাই, খাসতা, মিষ্টি।
হাটের বেশ জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী একটি খাবার হলো মিষ্টি, ডাল কিংবা হালুয়া দিয়ে ছেঁকা রুটি খাওয়া। ছেঁকা রুটিটি তৈরী করা হয় লোহার পাতের উপড় তাপ প্রবাহের মাধ্যমে। এর আকৃতিও হয় বেশ বড় ও স্বাদে মুখরোচক। একবার খেলে তা বারবার খেতে ইচ্ছে করে।
হাটটির পশ্চিমকোণে চলে কবুতর কেনাবেচার আয়োজন। বিক্রেতা নানান ধরণের কবুতর নিয়ে আসেন এখানে, গিরিবাজ, বাঙ্লা, দেশী, ছোটা, লাক্ষা, ক্রেতারাও পছন্দ মতো কবুতর কিনেন এখান থেকে।
ছোট বড় সব ধরণের কাঠ ও নৌকা ক্রয় বিক্রয় হয় এই হাটে। হাটের পাশ দিয়ে একটি রাস্তা বাড়ৈখালী ইউনিউন থেকে এসে খারশুর দিয়ে বের হয়েছে। হাটটির সাথে সংযুক্ত একটি শাখা নদীও রয়েছে। দূরদূরান্ত থেকে মালামাল হাটে নিয়ে আসা কিংবা হাট থেকে নিয়ে যাওয়ার জন্য শাখা নদীটি বেশ সহায়ক। নদীটি গ্রীননগর হয়ে শেখনরনগর ইছামতি নদী দিয়ে বের হয়ে ধলেশ্বরী নদীর সাথে মিলিত হয়েছে।
ছোটবেলা থেকেই আমরা এ হাট দেখে আসছি। এখানকার ছেঁকা রুটিটা আমাদের পছন্দের। আমি এ হাটে আসলে ছেঁকা রুটিটা খাওয়ার চেষ্টা করি। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের সাথে সাথে এখানে অনেক দূর্লভ পন্যও পাওয়া যায়, এই যেমন — ঘাব, চালতা, নারিকেল ইত্যাদি।
হাট নিয়ে ফিচারটি লিখতেই একটি স্মৃতির কথা মনে পরে গেলো— আমার বাসার জন্য কাঠ প্রয়োজন। কোথাও পাচ্ছিলাম না। আবার সে দিন হাটবারও নয়। কিন্তু কাঠ খুব জরুরী প্রয়োজন তাই হাটে কাঠ পাবো কিনা এই দোদুল্যমানতা নিয়েই হাটে যাই। এরপর একজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কাঠ নিয়ে নেই।
হাটটিতে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসহ অধিকাংশ দ্রব্য একসাথে পাওয়া যায় বলে হাটবার মানুষের অনেক সমাগম হয়ে থাকে।
এদিকে ঈদুল আদহায় এখানে বিশাল গরুর হাট বসে। আশেপাশের অধিকাংশ মানুষই কুরবানী দেওয়ার জন্য এখান থেকে গরু ক্রয় করে থাকেন। এতে গরু কিংবা পশু কেনার ভোগান্তি থেকে বেঁচে যান এলাকাবাসী।
সম্পাদক - আশরাফ ইকবাল, নির্বাহী সম্পাদক - বর্ষন মোহাম্মদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ দৈনিক মুন্সিগঞ্জের বার্তা