
অনিক শেখ: বছরের প্রায় আট মাস পানির নিচে ডুবে থাকে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার পুরা দুর্গাচরণ উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি জমে মাঠটি হয়ে পড়ে খেলাধুলার অনুপযোগী। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় কিশোর-তরুণেরা খেলাধুলা ও অনুশীলনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মাঠটি উঁচু করে সারা বছর খেলাধুলার উপযোগী করার দাবি জানানো হলেও এখনো স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি।
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া পুরা দুর্গাচরণ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে একটি জনসভায় মাঠটি সড়কের সমান উঁচু করে ভরাট করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে দুই যুগের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের বিভিন্ন অংশ পানিতে ডুবে রয়েছে। মাঠের চারপাশেও পানি জমে আছে। ফলে সেখানে খেলাধুলার কোনো পরিবেশ নেই। স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
তাদের ভাষ্য, মাঠে জমে থাকা পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘ সময় ধরে পানি জমে থাকে। এতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত খেলাধুলা ও অনুশীলন ব্যাহত হয়।
যশলং ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির সদস্য ঢালী মোহাম্মদ ওয়াহিদ বলেন, “বিদ্যালয়ের খেলার মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে পানিতে ডুবে আছে। ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই মাঠে জনসভায় এসে মাঠটি সড়কের সমান করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত এর বাস্তবায়ন হয়নি। শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের খেলাধুলার জন্য মাঠটি ভরাট করা জরুরি।”
বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিশোর-তরুণদের মাদক, জুয়া ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। কিন্তু মাঠটি দীর্ঘ সময় পানিতে ডুবে থাকায় সেই সুযোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
পুরা দুর্গাচরণ উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কামরুল হাসান বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায়ও ভালো। বিভিন্ন খেলায় তারা অংশ নেয় এবং উপজেলা পর্যায়ে একাধিকবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। কিন্তু মাঠটি পানিতে ডুবে থাকায় নিয়মিত অনুশীলন করানো সম্ভব হয় না।”
তিনি আরও বলেন, “মাঠের বিষয়টি উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আমরা চাই, যত দ্রুত সম্ভব মাঠটি উঁচু করে সারা বছর খেলাধুলার উপযোগী করে দেওয়া হোক।”
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন ধরে মাঠটি ভরাটের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। তাদের দাবি, মাঠটি ভরাট করে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের জন্য সারা বছর ব্যবহারযোগ্য করা হোক।
স্থানীয়দের মতে, বিদ্যালয়ের এই মাঠ শুধু শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জায়গা নয়, এটি এলাকার কিশোর-তরুণদের সুস্থ বিনোদন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেরও গুরুত্বপূর্ণ স্থান। তাই মাঠটির স্থায়ী সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে টঙ্গীবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিমা আনজুম সোহানিয়া বলেন, “আমি বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখব। মাঠের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” সাব-এডিট/সাইদ হাসান আফরান