
শিশুদের বিনোদন, শিক্ষা ও বিকাশে খুলছে নতুন সম্ভাবনার দ্বার
অনিক শেখ: মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ীতে শিশু-কিশোরদের বিনোদন, শিক্ষা, খেলাধুলা ও মানসিক বিকাশের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে আধুনিক শিশু পার্ক ও লার্নিং সেন্টার। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার পর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ায় এটি এখন শিশু-কিশোরদের জন্য নিরাপদ ও সুন্দর বিনোদনের নতুন ঠিকানা হিসেবে গড়ে উঠেছে।
আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসমৃদ্ধ পার্কটিতে শিশুদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন রাইড ও খেলার উপকরণ। পাশাপাশি রয়েছে প্রায় এক হাজার ফুট দীর্ঘ ওয়াকওয়ে, ফুলের বাগান ও সবুজ মাঠ। ফলে খোলা পরিবেশে খেলাধুলার পাশাপাশি পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন দর্শনার্থীরা।
শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব বিবেচনায় পার্কটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। প্রযুক্তিনির্ভর বিনোদনের বাইরে শিশুদের মাঠে খেলাধুলা, দৌড়ঝাঁপ ও সামাজিকভাবে মেলামেশার সুযোগ তৈরি হবে। এতে তাদের শারীরিক সক্ষমতা, আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক দক্ষতা বাড়বে।
পার্কটির অন্যতম আকর্ষণ ‘টঙ্গীবাড়ী লার্নিং সেন্টার’। এখানে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের আধুনিক পদ্ধতিতে শিক্ষা ও বিভিন্ন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ রয়েছে। ফলে একই জায়গায় বিনোদনের পাশাপাশি জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের পরিবেশও তৈরি হয়েছে।
এছাড়া শিশু-কিশোরদের সাঁতার শেখার জন্য রয়েছে সুইমিং পুল। এর মাধ্যমে শিশুদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পানিতে নিরাপদ থাকার প্রয়োজনীয় দক্ষতাও গড়ে উঠবে।
পরিবারের সদস্যদের জন্যও পার্কটি হতে পারে অবসর কাটানোর একটি সুন্দর স্থান। শিশুরা খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকার সময় অভিভাবকরাও পার্কের পরিবেশে হাঁটাহাঁটি ও সময় কাটানোর সুযোগ পাবেন।
টঙ্গীবাড়ীর ইউএনও তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া বলেন, “এটি শুধু একটি পার্ক নয়; শিশুদের মানসিক বিকাশ, সুস্বাস্থ্য, শিক্ষা ও বিনোদনের সমন্বিত একটি উদ্যোগ। বর্তমান ও আগামীর প্রজন্মের জন্য এই স্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আধুনিক শিশু পার্ক ও লার্নিং সেন্টার চালুর ফলে টঙ্গীবাড়ীর শিশু-কিশোরদের বিনোদন ও শিক্ষার ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে স্থানীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশেও সৃষ্টি হবে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য। সাব-এডিট/সাইদ হাসান আফরান