
মো. মমিন বিশ্বাস
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও যানবাহনের স্টেশনে শব্দদূষণ চরম আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার কাচারিঘাট, মুক্তারপুর ব্রিজসংলগ্ন এলাকা ও সিপাহীপাড়া মোড়ে বাস, ট্রাক, অটোরিকশা ও মিশুকের বিকট শব্দ এবং হর্নের কারণে জনদুর্ভোগ বাড়ছে।
এসব এলাকায় প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। যানজটের সময় অনেক চালক অপ্রয়োজনে বারবার হর্ন বাজান বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে পথচারী, যাত্রী, দোকানি ও আশপাশের বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, অসুস্থ মানুষ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য এ পরিস্থিতি দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মুক্তারপুর ব্রিজসংলগ্ন সড়ক ও সিপাহীপাড়া মোড় গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ হওয়ায় এসব এলাকায় যানবাহনের চাপ থাকে। এর সঙ্গে অতিরিক্ত হর্ন ও বিকট শব্দ যুক্ত হয়ে পরিবেশের স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিঘ্নিত করছে। দীর্ঘ সময় উচ্চ শব্দের মধ্যে অবস্থান করা মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার ‘শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫’ জারি করেছে। বিধিমালায়. আবাসিক এলাকায় সর্বোচ্চ ৫৫ ডেসিবেল এবং বাণিজ্যিক এলাকায় সর্বোচ্চ ৬০ ডেসিবেল শব্দ ব্যবহারের অনুমোদন রয়েছে যানবাহনের অনুমোদিত শব্দসীমা অতিক্রমকারী হর্ন স্থাপন ও ব্যবহারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে জরিমানার বিধান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি ও আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এ সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
এ অবস্থায় মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও যানবাহনের স্টেশনগুলোতে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, নিষিদ্ধ হর্নের ব্যবহার বন্ধ এবং চালকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
জনস্বার্থে কাচারিঘাট, মুক্তারপুর ব্রিজ ও সিপাহীপাড়া এলাকায় শব্দদূষণের উৎস চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, ট্রাফিক পুলিশ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
মুন্সীগঞ্জ পরিবেশে অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো : মিজানুর রহমান বলেন বিষয়টি আমারা দেখে ব্যবস্থা নিব।