
লৌহজংয়ে পদ্মা সেতুর ৪ নাম্বার পিলারের কাছে গোসল করতে নেমে ঢাকার ২ পর্যটক নিখোঁজ, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত
আবু নাসের খান লিমন ।।
মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া পুরাতন সংলগ্ন পদ্মা সেতুর ৪ নাম্বার পিলারের কাছে গোসল করতে নেমে ২ পর্যটক নিখোঁজ হয়েছেন।
নিখোঁজ পর্যটক ব্যক্তিরা হলেন ঢাকার খিলগাঁও এলাকার মো. মারুফ (৪০) ও পটুয়াখালীর মো. রাসেল (৩৫)। তাঁরা দুজনই শরীফ ল্যান্ডমার্ক লিমিটেড নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) আনুমানিক দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে পদ্মা সেতুর ৪ ও ৫ নম্বর পিলারের মধ্যবর্তী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকার শরীফ ল্যান্ড মার্ক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহাবুব আলম (৫০) ও চেয়ারম্যান মাকসুদা আক্তারের (৪৫) নেতৃত্বে অফিস স্টাফসহ ৮ জনের একটি পর্যটক দল দুপুর ১টার দিকে মাওয়া পদ্মা সেতু এলাকায় ঘুরতে আসেন। দলের অন্যান্য সদস্যরা হলেন—রাহাত (৩০), আবিদা আক্তার (২২), জুলেখা (১৬), বাবুল হোসেন (৪৫), শাকিল (২২), রাসেল (৪০) এবং মারুফ (২২)।
ঘোরাঘুরির একপর্যায়ে দলটি চরের পথ ধরে হেঁটে হেঁটে পদ্মা সেতুর ৪ ও ৫ নম্বর পিলারের কাছে পৌঁছায় এবং সবাই একসঙ্গে নদীতে গোসল করতে নামেন। একপর্যায়ে পানির তীব্র স্রোতে পড়ে রাসেল ও মারুফ তলিয়ে যান এবং নিখোঁজ হন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মাওয়া নৌ পুলিশ ও মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস জানায়, খবর পেয়েই দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। নিখোঁজ দুই পর্যটককে উদ্ধারে পদ্মার বিভিন্ন পয়েন্টে জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
উদ্ধার অভিযান শেষ হলে পরবর্তীতে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে নৌ পুলিশ।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে প্রতিষ্ঠানটির আটজন কর্মী একসঙ্গে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে ৪ নম্বর পিলারসংলগ্ন নদীতে গোসল করতে নামেন। একপর্যায়ে নদীর তীব্র স্রোত ও গভীরতার কারণে তাঁদের মধ্যে দুজন তলিয়ে যান। এ সময় সঙ্গে থাকা অন্য ছয়জন সাঁতরে নিরাপদে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও মারুফ ও রাসেলের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম পিএফএম জানান, দুপুর ২টা ২০ মিনিটে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মুন্সিগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের একটি ডুবুরি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে অভিযান শুরু করে।
তিনি আরও জানান, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার অভিযান ও তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।