
সাইদ হাসান আফরান
মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে রাস্তার পাশে উদ্ধার হওয়া এক বৃদ্ধের মরদেহের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। ঘটনার তদন্তে জানা যায়, তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর হাসপাতালে না নিয়ে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় ডাম্প ট্রাকচালক। এ ঘটনায় অভিযুক্ত চালককে গ্রেফতার করেছে সিরাজদিখান থানা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গত ১১ জুলাই বিকেল প্রায় ৩টার দিকে সিরাজদিখান উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের লতব্দী এলাকায় ফজলু চেয়ারম্যানের প্রজেক্টের সামনে পাকা রাস্তার পাশ থেকে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের একটি পা ভাঙা এবং মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল।
তদন্তে মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তিনি নুরুল ইসলাম (৬৫), উপজেলার বাসাইল ইউনিয়নের চর গুলগুলিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে। পেশায় তিনি একজন মিশুক (অটোরিকশা) চালক ছিলেন।
পুলিশের তদন্তে জানা যায়, একই দিন দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে কেয়াইন ইউনিয়নের চালতিপাড়া আন্ডারপাস এলাকায় নুরুল ইসলামের চালানো মিশুকের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি ডাম্প ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে ডাম্প ট্রাকচালক হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলে আহত নুরুল ইসলামকে লতব্দী এলাকায় ফজলু চেয়ারম্যানের প্রজেক্টের সামনে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর পুলিশ নুরুল ইসলামের ব্যবহৃত মিশুক উদ্ধার করে হাসাড়া হাইওয়ে থানায় সংরক্ষণ করে এবং তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় এসআই রুবেল শিকদার, এসআই রাকিবুল ইসলাম ও এএসআই শরিফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত একটি দল স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে সিরাজদিখান উপজেলার কুচিয়ামোড়া এলাকা থেকে অভিযুক্ত ডাম্প ট্রাকচালক ইয়াসিন শেখ (২০)-কে গ্রেফতার করে। তিনি উপজেলার খিদিরপুর এলাকার মজিবর শেখের ছেলে।
পরে গ্রেফতারকৃতের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত ঢাকা মেট্রো-ট-১২-৪৩১৪ নম্বরের ডাম্প ট্রাকটি লতব্দী ইউনিয়নের ইকো সিরামিক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের সামনে থেকে উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় সিরাজদিখান থানায় সড়ক পরিবহন আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, ঘটনার বিষয়ে আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।