
পর্যটকদের আগমনকে কেন্দ্র করে এলাকায় গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি রেস্টুরেন্ট ও খাবারের প্রতিষ্ঠান। নদীর পাড়ের পরিবেশ, আলোকসজ্জা ও বসার ব্যবস্থা থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানও দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করছে। তবে কিছু রেস্টুরেন্টের কেবিন ব্যবস্থা ও সেখানে কিশোর-কিশোরীদের সময় কাটানো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও ভ্রমণপ্রেমীরা।
তাদের অভিযোগ, কয়েকটি রেস্টুরেন্টে এমনভাবে কেবিন তৈরি করা হয়েছে, যেখানে পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ সময় অবস্থানের সুযোগ পাচ্ছে। এতে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা অনেক দর্শনার্থীও বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সময়ের সঙ্গে চর কিশোরগঞ্জ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হলেও কিছু এলাকায় নিয়মিত প্রশাসনিক নজরদারি প্রয়োজন। বিশেষ করে রেস্টুরেন্টগুলোর কেবিন ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রবেশের বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, একসময় এ নদীপথ দিয়ে মানুষ মূলত গন্তব্যে যাতায়াত করতেন। সময়ের পরিবর্তনে জায়গাটি এখন পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ায় স্থানীয়রা খুশি। তবে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের অবাধ মেলামেশা নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগ রয়েছে। প্রশাসনের উচিত সচেতনতামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নজরদারি বাড়ানো।
একজন অভিভাবক বলেন, “সবসময় ছেলেমেয়েদের চোখে চোখে রাখা সম্ভব হয় না। অনেক সময় স্কুল-কলেজ ফাঁকি দিয়ে তারা বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রে যায়। তাই পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি প্রশাসনেরও সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখা দরকার।”
চর কিশোরগঞ্জে ঘুরতে যাওয়া এক ভ্রমণপ্রেমীর অভিযোগ, কিছু কেবিনভিত্তিক রেস্টুরেন্টে পর্যাপ্ত তদারকি না থাকায় শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় অবস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তাঁর দাবি, এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় তদন্ত করা উচিত।
স্থানীয়দের আরেকটি অভিযোগ, চর কিশোরগঞ্জ প্রশাসনিকভাবে নারায়ণগঞ্জ জেলার অন্তর্ভুক্ত হলেও মুন্সিগঞ্জের সঙ্গে ভৌগোলিকভাবে খুব কাছাকাছি। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জের মূল এলাকার তুলনায় যোগাযোগ কিছুটা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় এখানে নিয়মিত প্রশাসনিক তৎপরতা কম বলে মনে করছেন তারা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যবসা করা কোনো অপরাধ নয়। পর্যটনকেন্দ্রকে ঘিরে রেস্টুরেন্ট ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তবে ব্যবসার পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতাও নিশ্চিত করা জরুরি।
তাদের মতে, রেস্টুরেন্ট মালিকদের কেবিন ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় নিয়মনীতি অনুসরণ এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সচেতন করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে।
তবে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট রেস্টুরেন্ট মালিকদের বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি চর কিশোরগঞ্জকে নিরাপদ ও পরিবারবান্ধব পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
তাদের দাবি, চর কিশোরগঞ্জের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটন সম্ভাবনা অক্ষুণ্ণ রেখে একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও পরিবারবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রেস্টুরেন্ট মালিক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সাব-এডিট/সাইদ হাসান আফরান