1. tayranabir2@gmail.com : Tayran Abir : Tayran Abir
  2. admin@munshiganjerbarta.com : admin :
  3. sayedhasanafran@gmail.com : Sayed Afran : Sayed Afran
  4. hmalamimkhan@gmail.com : al amin : al amin
  5. mdaniksheikh95@gmail.com : Anik Sheikh : Anik Sheikh
  6. asifbadhon43@gmail.com : Asif Badhan : Asif Badhan
  7. jharnacomputercenter@gmail.com : Barshan Mohammod : Barshan Mohammod
  8. muhammadsibgatullah360@gmail.com : muhammad sibgatullah : muhammad sibgatullah
  9. fjony7699@gmail.com : Forhat Jony : Forhat Jony
  10. lemonrep@gmail.com : Naser Lemon : Naser Lemon
  11. sheikhforidpolok4@gmail.com : Sheikh Polok : Sheikh Polok
  12. rhraju88994@gmail.com : Muhammad Raju : Muhammad Raju
  13. mdsejankhan12345@gmail.com : Md Sejan Khan : Md Sejan Khan
জেলার প্রায় ৫শ’ ক্ষুদ্র পোশাক কারখানায় শ্রমজীবীদের সিংহভাগই নারী - দৈনিক মুন্সিগঞ্জের বার্তা
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সিরাজদিখানে ভূয়া সনদ দিয়ে  গণশিক্ষা কেন্দ্র পরিচালনা করছেন মসজিদের ইমাম মোঃ হারুনুর রশিদ ‎ আগামী বুধবার  মুন্সীগঞ্জে আসছেন বিশিষ্ট ইসলামি বক্তা মোস্তাক ফয়েজী শ্রীনগরে র‍্যাব পরিচয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি, চাকরিচ্যুত ২ সেনাসদস্যসহ গ্রেপ্তার ৭ টংগীবাড়ীতে চেতনা নাশক খাবার খাইয়ে মিশুক ছিনতাইয়ের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১ শ্রীনগরে ৪০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার শ্রীনগরে সিরাত পাঠ ও ইসলামি সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত সাহিত্যবার্তা: বৈচিত্র্যের এক অনন্য মিলনক্ষেত্র শ্রীনগরে নাতিকে আছাড় দেওয়ার অভিযোগে ভাইরাল হওয়া দাদী গ্রেপ্তার মুন্সিগঞ্জে নির্বাচনি দায়িত্বে প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন মুন্সিগঞ্জে পুলিশের ‘কুইক রেসপন্স টিম’ গঠন সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত

জেলার প্রায় ৫শ’ ক্ষুদ্র পোশাক কারখানায় শ্রমজীবীদের সিংহভাগই নারী

দৈনিক মুন্সিগঞ্জের বার্তা ডেস্ক:
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৮ মে, ২০২৫
  • ৪৫৫ বার পঠিত

ঘরে-বাইরে নারীর জয়জয়কার

বর্ষন মোহাম্মদ:
সেদিন সুদূর নয়/ যে দিন ধরণী পুরুষের সাথে গাহিবে নারীরও জয়।’ প্রায় এক শতাব্দী আগে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের এই আকাঙ্খা আজ বাস্তবে ধরা দিয়েছে। এখন অনায়সে বলা যাচ্ছে- ‘বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর/অর্ধেক তার করিয়াছে নারী,অর্ধেক তার নর।’ নারীর জয়যাত্রা এখন সর্বত্রই। নারী তার আপন মেধা-যোগ্যতায় স্থান করে নিচ্ছে সাফল্যের সর্বোচ্চ শিখরে। এক কালের ‘অবরোধবাসিনী’ নারীর এখন ঘরে-বাইরে জয়জয়কার। সমাজের দৃষ্টিভঙ্গীও বদলে গেছে নারীর প্রতি। গৃহে এবং বহিরাঙ্গনে দুই জায়গাতেই তারা ‘দশভূজা’ হয়ে উঠেছেন। জীবনের সব রঙ আর কর্মচাঞ্চল্যতা দিয়ে কর্মজীবী নারী সাজাচ্ছে তার জীবন।
যে রাধে সে চুলও বাধে’-এই প্রবাদ এখন সত্য হয়ে উঠেছে। পরিবার, কর্মক্ষেত্রে, সমাজে সর্বত্রই নারী সাফল্য পেতে নেমেছে চ্যালেঞ্জ নিয়ে। কর্মজীবী নারীর চ্যালেঞ্জটা যেন একটু বেশি। সংসার-সন্তান সামলে কর্মক্ষেত্রকেও দিতে হয় সমান গুরুত্ব। জেলার অভ্যন্তরে অর্থনীতির মূল কর্মক্ষেত্রগুলোতে নারীর অবদান ক্রমাগত বাড়ছে। সমীক্ষা অনুসারে, মূলধারার অর্থনীতি হিসেবে স্বীকৃত উৎপাদন খাতের মোট কর্মীর প্রায় অর্ধেকই এখন নারী। উচ্চশিক্ষিত হয়ে উদ্যোক্তা, চিকিৎসক, স্থপতি, প্রকৌশলী, শিক্ষক, ব্যাংকার, নির্মাতা থেকে শুরু করে গণমাধ্যমকর্মী পদেও পুরুষের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন নারী। সংখ্যায় নগণ্য হলেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহী ও উচ্চপদেও দায়িত্ব পালন করছেন তারা। তবে নারী কর্মীদের সিংহভাগই শ্রমজীবী।
এক গবেষণায় দেখা যায়, কর্মজীবী নারীদের অর্ধেকের বেশি কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত। কৃষি, শিল্প, সেবা খাতসহ বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক সেক্টরে নারীর অংশগ্রহণ দিন দিন বাড়ছে ।
ক্ষুদ্র পোশাক কারখানায় সাবলম্বীহচ্ছে নারীরাঃ ঈদুল আযহা সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন মুন্সীগঞ্জের পোশাক কারখানার কারিগররা। জেলার প্রায় ৫শ’ ক্ষুদ্র পোশাক কারখানায় নানা রঙ, সাইজ ও ডিজাইনের পোশাক তৈরির কাজ শেষের পর্যায়ে। রামপাল, পঞ্চসার ও বজ্রযোগীনি ইউনিয়নের এলাকায় গড়ে উঠেছে পোশাক তৈরির ছোট ছোট কারখানা। পাঁচশত কারখানায় দিনরাত কাজ করছে ৫ হাজার শ্রমিক। যার মধ্য সাড়ে তিন হাজান নারী শ্রমিক । বিশেষ করে এলাকার নারীরা এতে করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার পথ পেয়েছেন। কারখানাগুলোতে কর্মরত শ্রমিকরা এখন নিজেদের পরিবারের খরচ মেটাতে পারছেন, সন্তানদের লেখাপড়াও করাচ্ছেন।
বুটিক শিল্পে নারীদের অবদান অনস্বীকার্যঃ সৃজনশীল কাজে আগ্রহ থাকলে শিক্ষিত হয়ে চাকরির আশায় বসে না থেকে ভিন্নধর্মী পেশা বা ব্যবসায় নিয়োজিত হয়ে খুব সহজেই উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়া যায়। ব্যবসাযি়ক বুদ্ধি, রুচিবোধ, গ্রাহকের মানসিকতা ও সৃজনশীলতা থাকলে যে কেউ হতে পারেন একটি বুটিক হাউসের কর্ণধার। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বুটিক হাউসের ব্যবসার চাহিদা ব্যাপক। ক্রমেই প্রসারিত হচ্ছে এ খাত। বাড়ছে ফ্যাশন সচেতনতা। এ সচেতনতার ওপর নির্ভর করে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা ও বিভিন্ন উপজেলায় উঠছে পাঁচ শতাধিক বুটিক হাউস, ফ্যাশন হাউস, জরি হাউস প্রভৃতি।
বুটিক ব্যবসায় আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে নিজেই হয়ে উঠতে পারেন সফল উদ্যোক্তা। অনেকেই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী এ পেশা বেছে নিচ্ছেন এবং লাভবানও হচ্ছেন। বুটিক অত্যন্ত সম্ভাবনাময় শিল্প। ১৯৮৭ সালের দিকে বাংলাদেশে দেশে বুটিকশিল্পের যাত্রা শুরু হয়। সে সময় শখের বশে ও ফ্যাশন যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে কতিপয় নারীর উদ্যোগে বুটিক হাউস যাত্রা শুরু করে। এগিয়ে চলেছেন সদরের পঞ্চসার ইউনিয়নের সরদারপারা গ্রামের সানজিদা হামিদ লিমা । নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি কাজ করছেন অন্য নারীদের জন্যও। তার এমন লড়াকু মনোভাবে খুশি তার পরিবার ও স্থানীয়রা। একই গ্রামের তাহমিনা হক মুনা’র স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্নে ২০১৫ সালে সামান্য পুঁজি নিয়ে শুরু করেন বুটিকের কাজ। পাশাপাশি চালু রাখেন লেখাপড়া। লাভের মুখ দেখেন মাত্র তিন মাসেই। আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি আশাকে। ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন বুটিক হাউজ । আশা শুধু নিজেই স্বাবলম্বী হননি। তার প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেক নারীই সফলতার মুখ দেখেছেন।
পাটি শিল্প রক্ষায় সরব ভুমিকাঃ টঙ্গীবাড়ি উপজলার আব্দুল্লাহপুর একটি ছোট্ট গ্রাম। কয়েকশ’ বছর যাবত ঐতিহ্যবাহী পাটি তৈরিরশিল্প ধরে রেখেছে এই গ্রামের পাটিকরপাড়ার কারিগররা। তাদের অধিকাংশই নারী। গ্রামটিতে পাটি তৈরি ও বাজারজাতকরণের পূর্বপুরুষদের পেশায় এখনো রয়েছে শতাধিক পরিবার।
‘’শীতল পাটি’’ শিল্প: শীতল পাটির কারুপল্লী পূর্ব রাজদিয়া। গ্রামীণ গৃহবধূদের হাতের ছোঁয়ায় নানান নকশায় এ গ্রামে তৈরি করা হয় শীতল পাটি, পাটি, বড় চট, ছোট চট। উপজেলার পূর্ব রাজদিয়া গ্রামের প্রায় ৩০ টি পরিবারের অর্ধশতাধিক নারী স্বল্প আয়ের স্বামীদের পাশাপাশি পাটি তৈরি ও বিক্রির মাধ্যমে নিজেরাও স্বাবলম্বী হয়ে উঠার স্বপ্ন দেখে। পাটি তৈরি শিল্পীরা নিজেদের স্বপ্নের পাশাপাশি গ্রামের অন্য নারীদের পাটি তৈরির প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি কৃষি উন্নয়নে নারীর অবদান অনস্বীকার্য: জীবনযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়া অদম্য সাহসী নারী কল্পনা বেগম । পাহাড়সম হতাশাকে পিছনে ফেলে সংসার জীবনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন জেলা সদরের উপজেলা চরকেওয়ার গ্রামে বাড়ির আঙ্গিনায় বারোমাসি সবজি চাষ করায় সংসারে সুখের সুবাতাস বইছে এখন।
সরজমিনে কল্পনা বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, মাত্র ১২ কাঠা জমির উপর গড়ে তুলেছেন এক প্রাণ বৈচিত্র সমৃদ্ধ কৃষি বাড়ি। এই বাড়িতে রয়েছে ফলজ ও বনজ বৃক্ষ, ঔষধি জাতীয় গাছ, অচাষকৃত উদ্ভিদ বৈচিত্র্য, স্থানীয় প্রজাতির সবজি, প্রাণী সম্পদ ও স্থানীয় প্রজাতির গাছ। ফলজ ও বনজ বৃরে মধ্যে রয়েছে আমলকি, জলপাই, ডালিম, বেদনা, জাম, পেয়ারা, আমড়া, আম সহ ৩৭ প্রকার বৃক্ষ। ঔষধি গাছের মধ্যে রয়েছে শীষ আকন্দ, রাধা তুলশী, নীল অপরাজিতা, কাল ও লা কোমল,দধি সমুদ্র সহ ৪০ প্রকার ঔষধি গাছ। কৃষিক্ষেত্রে জেলার নারীর অবদান অনস্বীকার্য। কৃষির বিভিন্ন কর্মকান্ড বিশেষ করে শস্য কর্তনোত্তর ফসল প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ, বীজ উৎপাদন, হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশু পালন, বসতবাড়ির আঙ্গিনায় সবজি ও ফল উৎপাদন, সামাজিক বনায়ন ইত্যাদিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। পারিবারিক পুষ্টি চাহিদা পূরণে নারীদের ভূমিকাই প্রধান এবং সবজি বাগান ও পশুসম্পদ থেকে আয়ের ক্ষেত্রে ২০-৪০ ভাগ অবদান রাখছে নারীরা।
বিবিএসের এক গবেষণায় দেখা গেছে, নারীরা তাদের প্রতিদিনের কাজের অন্তত ৪০ শতাংশ পরিবার ও স্বজনের পেছনে ব্যয় করেন। কিন্তু তারা এ ৪০ শতাংশ কাজের অর্থনৈতিক মূল্যায়ন পাচ্ছেন না। কর্মজীবী একজন পুরুষ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অর্থের বিনিময়ে ৬ ঘণ্টা ৫৪ মিনিট কাজ করেন। নারীরা ৫ ঘণ্টা ১২ মিনিট কাজ করেন। জিডিপিতে নারীদের রান্নাবান্না, সন্তান লালন-পালনসহ গৃহস্থালির কাজকর্মের স্বীকৃতি নেই। এই শ্রমের আর্থিক মূল্যমানও নির্ধারণ করা হয় না। ফলে অর্থনীতিতে নারীর এ কাজের অবদান আড়ালেই থাকছে।
পোল্ট্রি খামারে সফল নারী উদ্যোক্তারা: সময়ের আবর্তে বাজারে ক্রমাগত চাহিদার কারণে বর্তমানে পোলট্রি একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ শিল্প। অল্প জমি, অল্প মুলধন, চাহিদা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার কারণে পোলট্রি পালন সিরাজদিখান উপজেলার অবহেলিত বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র ও দুঃস্থ নারীদের জন্য সম্ভাবনার এক দ্বার খুলে দিয়েছে।
জানা গেছে উপজেলার জৈনসার ইউনিয়নের ভাটিমভোগ গ্রামে আম্বিয়া বেগম পোলট্রি পালন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন । বিয়ের পর স্বামীর বাড়িতে এসে ১ হাজার মুরগির বাচ্চা দিয়ে পোল্ট্রি খামার শুরু করেন। পোল্ট্রি খামার করে মাত্র ১৪ বছরে আজ তিনি একজন সফল পোল্ট্রি খামারি।
পোল্ট্রি খামারকে প্রসারিত করতে সব সময় কাজের মাঝে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। পোল্ট্রি খামারের পাশাপাশি, মৎস্য চাষ, ধান চাষ ও সবজি উৎপাদন খামার গড়ে তুলেছেন। এর পর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। এখন শুধু এগিয়ে চলেছেন সামনের দিকে।
ক্রীড়াঙ্গনে সাফল্য আর অগ্রযাত্রায় বিশ্বকে জয় করে হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছেন অপরাজিতারাঃ ক্রীড়াঙ্গনে ছেলেদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মেয়েরাও এগোচ্ছে। উন্নতিটা বেশি হয়েছে ক্রিকেটে। জাতীয় দলের নারী ক্রিকেটার জাহানারা আলম খুশি বিসিবির দেওয়া সুযোগ-সুবিধায়। তবে সার্বিকভাবে ক্রীড়াঙ্গনের নারীরা এখনও অবহেলিত বলে মনে করেন তিনি। তাই সব খেলাতেই নারীদের প্রাপ্য সম্মান দেওয়ার আহ্বান জাহানারার।
জাহানারা: সুযোগ-সুবিধা আমরা ভালোই পাচ্ছি। দিন দিন সেটা বাড়ছে। আমরা যেখান থেকে শুরু করেছিলাম, সেখান থেকে এখন অনেক উপরে গেছে সবক্ষেত্রেই। পারিপার্শ্বিক সব কিছু পরিবর্তন হচ্ছে ভালোর দিকে। আমার কাছে মনে হয়, দিন যত গড়াবে, সবকিছু আরও ভালোর দিকে যাবে। কিছু সমস্যা তো থাকবেই। সেটা শুধু ক্রিকেটে নয়, সবক্ষেত্রেই। অন্যদিকে সমগ্র জেলায় বর্তমানে পুরুষের পাশাপশি সাতাঁরে নারীদের ভুমিকা অপরিসীম। এমনি একজন ক্ষুদে সাতারু মুন্সীগঞ্জের খাদিজা। নবম শ্রেনীতে পড়ুয়া খাদিজা সবে মাত্র ১৬ বছরে পা দিয়েছে। কিন্তু এই অল্প বয়সেই তিনি অর্জন করেছেন অসমান্য সাফল্য। ক্ষুদে এই সাতারু ২০১৬ সাল থেকেই সাঁতারের বিভিন্ন প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহন করে আসছেন। প্রত্যেকটি প্রতিযোগীতায় তার অর্জনের কোনই কমতি নেই। খাদিজা সদর উপজেলার ভিটি হোগলা,টরকী গ্রামের কামাল হাওলাদার ও রাবেয়া বেগমের মেয়ে। বাবা প্রবাসে থাকেন, এক ভাই আর তিন বোনের মধ্যে পরিবারে সেই বড়।
২০১৬ সালে বাষিক ক্রীড়া কর্মসূচী যুব ক্রীড়া মন্ত্রালয় আওতাধীন ক্রীড়া পরিষদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ১০০ মিটার আন্তজেলা বয়সভিত্তিক মহিলা সাঁতার প্রতিযোগীতা ফ্রি স্টাইল সাঁতারে ১ম স্থান অধিকার করেন । এর পর তাকে আর পেছনে তাকাতে হয়নি । খাদিজা অল্প বয়সেই সাঁতারে অর্জন করেছেন অসংখ্য মেডেল, ট্রফি ও পুরস্কার।
সর্বশেষ বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থা আয়োজিত বিশেষ গ্রুপের ১০০ মিটার ফ্রি স্টাইল সাঁতারে ৩য় স্থান অর্জন করেন।
মানবাধিকার কল্যান ট্রাস্টের কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, সকল ভাঙার অদম্য আকাঙ্ক্ষায় মরণজয়ী সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বাঙালি জাতি। পঞ্জিকার হিসাবে স্বাধীনতার অর্ধশত বছর পার করেছে ব। সবুজের জমিনে রক্তিম সূর্যখচিত মানচিত্রের এদেশ সুবর্ণজয়ন্তী টপকিয়ে দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে চলেছে।
পঞ্চাশ বছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিসহ আর্থসামাজিক প্রতিটি সূচকে এগিয়েছে বাং।দশভুজা নারী ঘরে-বাইরে নিজেকে আলোকিত করছেন নিজ প্রজ্ঞা আর মেধা দিয়ে।নারী আগের মতো এখন ঘরকুনো নয়। তারা ঘরের বাইরে গিয়ে কাজ করছে। সফল হচ্ছে। সব বয়সী নারীরা কাজ করে নিজেকে স্বাবলম্বী করে তুলছে। নিজের দায়িত্ব,পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তোলার যোগ্যতা অর্জন করছে।নারীর অগ্রসর হলেও সামাজিক প্রেক্ষাপটে আমরা পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় বসবাস করি। এতোটা পথ পেরিয়েও এমনটা কাম্য না। সবকিছুর উন্নয়ন এবং অগ্রসর হওয়ার পরেও সেকেলে মনোভাব থেকে বেরিয়ে আসতে পারিনি। এটার জন্য,শুধু রাষ্ট্র দায়ী নয়। এখানে পরিবার, সমাজ তথা প্রত্যেকটা মানুষই এটার সাথে সম্পৃক্ত। শিগগিরি এসবের খুব দ্রুত পরিবর্তন আশা করি বলেও জানান তিনি।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর