
স্ত্রী পালানোর পর হেলিকপ্টারে নববধূ ঘরে তুললেন টংগিবাড়ীর যুবক
জীবন কখনো নদীর মতো—হঠাৎ বাঁক নেয়, ভেঙে দেয় পরিচিত তীর, আবার নতুন স্রোতে ভাসায় মানুষকে। তেমনই এক বাঁক ঘুরে গেল মুন্সীগঞ্জের টংগিবাড়ীর যুবক কামাল হোসেনের জীবনে।
দেড় মাস আগে স্ত্রী পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যান, সেই আঘাতের জেদে সন্তানকে বুকে নিয়েই হেলিকপ্টারে বিয়ে করে আনলেন নতুন বউ।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) উপজেলার কাঠাদিয়া-শিমুলিয়া ইউনিয়নে ঘটে যাওয়া এ ঘটনাটি ইতোমধ্যেই আলোচনার জন্ম দিয়েছে স্থানীয়দের মাঝে।
ভালোবাসার সংসার ছিল, ছিল ৩ ও ৮ বছরের দুটি সন্তান। ভেবেছিলেন জীবন চলবে স্বাভাবিক ছন্দে। কিন্তু গত ১০ আগস্ট হঠাৎই সব ভেঙে যায়। স্ত্রী সাথী আক্তার শহরের এক বিবাহিত যুবকের সঙ্গে সন্তানদের রেখে পালিয়ে যায়। পরে জানা যায়, তিনি তালাকও দিয়েছেন।
কামাল হোসেন, পেশায় সার্ভেয়ার। ভাঙনের আঘাতে ভেঙে না পড়ে, বরং দুঃখকে শক্তিতে পরিণত করলেন। ঠিক করলেন—থেমে থাকবেন না, নতুন জীবনের পথে হাঁটবেন রাজকীয় ভঙ্গিতেই। শুক্রবার দুপুরে ছোট কন্যাকে নিয়েই হেলিকপ্টারে চেপে বসেন তিনি। গন্তব্য—নতুন শ্বশুরবাড়ি। সবার চোখে বিস্ময় ছড়িয়ে নববধূকে নিয়ে ফিরলেন ঘরে।
কামাল বলেন, “পুরুষের কষ্ট কেউ বোঝে না। আমার অর্থনৈতিক কোনো অভাব ছিল না, তবে কাজের কারণে বাইরে থাকতে হতো। সেই সুযোগেই স্ত্রী চলে যায়। নতুন স্ত্রীর পরিবার সব জেনেই রাজি হয়েছে, সন্তানদের দায়িত্ব নিতেও তারা প্রস্তুত। তাই তাকে চমক দেখাতেই হেলিকপ্টার ভাড়া করি।”
স্থানীয়দের মতে, এটি শুধু একটি বিয়ে নয়—বরং জীবনের নতুন শুরু করার শক্তিশালী বার্তা। সাবেক স্ত্রীকে যেন তিনি জানিয়ে দিলেন, পুরুষের জীবনও থেমে থাকে না।
কামাল হোসেনের এই গল্প তাই কেবল একটি ব্যতিক্রমী বিয়ের কাহিনি নয়, বরং বার্তা দেয়—ভাঙনের পরও নতুন করে বাঁচা যায়, দুঃখের অন্ধকারেও আলো খোঁজা সম্ভব।