
ত্বাইরান আবির
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ১৩ তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই দেশে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা এবং সংঘর্ষের বেশকিছু ঘটনা ঘটেছে, বিশেষ করে মুন্সিগঞ্জ, ফরিদপুর, ঝিনাইদহ এবং অন্যান্য জেলাতে। বিভিন্ন জেলায় হামলা-ভাঙচুর, নেতাকর্মীদের ওপর দলীয় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় অন্তত ৩ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছেন বলে জাতীয় দৈনিক ও সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টগুলো জানিয়েছে।
গতকাল রাত থেকেই দেশে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন জেলার পুলিশ ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ এবং গ্রাম-শহরের সড়কগুলোতে মারামারি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা করছে।
মুন্সিগঞ্জ জেলা নির্বাচনের পর সবচেয়ে গুরুতর সহিংসতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিনত হয়েছে। মুন্সিগঞ্জ-৩ (সদর ও গজারিয়া) নির্বাচনী এলাকায় গতকাল সংঘর্ষের এক ঘটনায় একজন যুবক নিহত হয়েছে এবং আরও অনেকই আহত হয়েছে, যা দেশজুড়ে সংবাদমাধ্যমে এসেছে।
নিহত ব্যক্তি হিসেবে মোঃ জসিম নায়েব (৩০) নামের এক যুবককে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ মহিউদ্দিনের সমর্থক ছিলেন এবং রাজনৈতিক হামলার সময় গুরুতরভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হন। তাকে প্রথমে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তিনি সন্ধ্যায় মারা যান।
পরিস্থিতি অনুযায়ী, সংঘর্ষ শুরু হয় যখন প্রতিপক্ষ দলের সমর্থকদের একটি গোষ্ঠী তার বাড়িতে যায় এবং সেই সময় উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। পরে হাতাহাতি ও মারধর শুরু হয় এবং জসিমকে মারাত্মকভাবে আঘাত করা হয়। তার পরিবার ও স্থানীয়রা পুলিশের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন যে ঘটনাটি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমর্থকদের সঙ্গে বিরোধের ফল ছিল।
মুন্সিগঞ্জ পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং যারা এই সহিংসতায় জড়িত ছিল, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও আহতরা স্থানীয় হাসপাতালসহ ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মুন্সিগঞ্জের সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য জেলায়ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। এই সহিংসতায় যেখানে কিছু এলাকায় ব্যাপক আহতের সংখ্যা রেকর্ড করা হয়েছে, সেখানে হাতাহাতি, গ্রাম-শহরের ভাঙচুর-ধ্বংস, আগুনে সম্পত্তি ক্ষতিসহ ধিক্কারজনক পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে।
ফরিদপুরে নির্বাচন-পরবর্তী সংঘর্ষে ২০ জন আহত ও বাড়ি-ঘর ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
বিভিন্ন জেলা, যেমন ঝিনাইদহ, পটুয়াখালী, পঞ্চগড়, নোয়াখালী, যশোর, ফেনী, কিশোরগঞ্জ ও সরুলীগঞ্জসহ একাধিক স্থানে দলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা হয়েছে।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এসব সম্পর্কে আকস্মিক সংঘর্ষ, গ্রাম-শহরের রাস্তায় গুলি-ছোড়া, সংঘর্ষ, দলীয় নেতৃত্বের বক্তব্য এবং আহত/নিহতের খোঁজ পাওয়া গেছে।
গত নির্বাচনে দেশব্যাপী সহিংসতা বেশ কয়েকটি স্তরে ঘটেছে। ভোটগ্রহণের দিন বিরোধ, খবর নেয়া, ফল ঘোষণার পর রাজনৈতিক উত্তেজনা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এসব পরিস্থিতিতে অনেকেই গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন এবং কখনো কখনো ক্ষুদ্র সংঘর্ষ কয়েকটি এলাকায় বড় ধরণের সহিংসতায় রূপ নিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর দলীয় উত্তেজনার কারণে সংঘর্ষ ও দফায়-দফায় উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা সত্বেও সংঘর্ষ আক্রান্ত ঘটনাগুলো ঘটেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোটের প্রতিদ্বন্দ্বীতা এবং দলীয় সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ সাধারণত নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত সামাজিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনার ফল এবং এই ধরনের ঘটনা দেশের সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগজনক।