1. tayranabir2@gmail.com : Tayran Abir : Tayran Abir
  2. admin@munshiganjerbarta.com : admin :
  3. sayedhasanafran@gmail.com : Sayed Afran : Sayed Afran
  4. hmalamimkhan@gmail.com : al amin : al amin
  5. mdaniksheikh95@gmail.com : Anik Sheikh : Anik Sheikh
  6. asifbadhon43@gmail.com : Asif Badhan : Asif Badhan
  7. jharnacomputercenter@gmail.com : Barshan Mohammod : Barshan Mohammod
  8. muhammadsibgatullah360@gmail.com : muhammad sibgatullah : muhammad sibgatullah
  9. fjony7699@gmail.com : Forhat Jony : Forhat Jony
  10. lemonrep@gmail.com : Naser Lemon : Naser Lemon
  11. sheikhforidpolok4@gmail.com : Sheikh Polok : Sheikh Polok
  12. rhraju88994@gmail.com : Muhammad Raju : Muhammad Raju
  13. mdsejankhan12345@gmail.com : Md Sejan Khan : Md Sejan Khan
ডাকব্যবস্থা: বিক্রমপুরের ডাকঘর স্থাপনের ইতিহাস - দৈনিক মুন্সিগঞ্জের বার্তা
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সিরাজদিখানে ভূয়া সনদ দিয়ে  গণশিক্ষা কেন্দ্র পরিচালনা করছেন মসজিদের ইমাম মোঃ হারুনুর রশিদ ‎ আগামী বুধবার  মুন্সীগঞ্জে আসছেন বিশিষ্ট ইসলামি বক্তা মোস্তাক ফয়েজী শ্রীনগরে র‍্যাব পরিচয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি, চাকরিচ্যুত ২ সেনাসদস্যসহ গ্রেপ্তার ৭ টংগীবাড়ীতে চেতনা নাশক খাবার খাইয়ে মিশুক ছিনতাইয়ের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১ শ্রীনগরে ৪০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার শ্রীনগরে সিরাত পাঠ ও ইসলামি সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত সাহিত্যবার্তা: বৈচিত্র্যের এক অনন্য মিলনক্ষেত্র শ্রীনগরে নাতিকে আছাড় দেওয়ার অভিযোগে ভাইরাল হওয়া দাদী গ্রেপ্তার মুন্সিগঞ্জে নির্বাচনি দায়িত্বে প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন মুন্সিগঞ্জে পুলিশের ‘কুইক রেসপন্স টিম’ গঠন সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত

ডাকব্যবস্থা: বিক্রমপুরের ডাকঘর স্থাপনের ইতিহাস

দৈনিক মুন্সিগঞ্জের বার্তা ডেস্ক:
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৮ মে, ২০২৫
  • ৫৬০ বার পঠিত

রমজান মাহমুদ:
চিঠি লেখা বা পড়া এক আবেগের নাম। এক সময় মানুষ চিঠির মাধ্যমে দূরবর্তী আত্মীয় স্বজনদের সাথে যোগাযোগ করত। সে সময় যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল বেশ জটিল ও দুরুহ। তবুও মানুষ প্রিয়জনের চিঠির জন্য অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষার প্রহর গুনত। চিঠির মাধ্যমে তারা তথ্য, জ্ঞান ও ভাবের আদান প্রদান ঘটাতেন। প্রেরক ও প্রাপকের মধ্যে যোগাযোগের সেতু বন্ধন রচনা করত চিঠি বা পত্র। বর্তমান একবিংশ শতকে চিঠির ব্যবহার নেই বললেই চলে। চিঠির পরিবর্তে মানুষ এখন ইন্টারনেট, ই-মেইল ও নানা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর উপর নির্ভর করছে। বিংশ শতকের নব্বই দশক পর্যন্ত চিঠির ব্যবহার লক্ষ্য করা গেছে। চিঠি প্রচলনের শুরুতে এটি পাঠানোর জন্য এমন আধুনিক ডাকব্যবস্থা ছিল না। তখন চিঠি পাঠানো হতো পায়রার পায়ে বেঁধে কিংবা দূতের মাধ্যমে। এ উপায়গুলো সময়সাপেক্ষ ও ঝামেলাপূর্ণ ছিল। চিঠির আদান-প্রদান সহজ ও দ্রুততর করার জন্যই বিশ্বে ডাক বিভাগ চালু হয়। হেনরি অষ্টম ১৫১৬ সালে ‘রয়্যাল মেইল’ নামে প্রথম ডাক সেবা চালু করেন। সমুদ্র পথই ছিল এক সময় বিমান পথ আবিষ্কারের পূর্বে বিশ্বে বিভিন্ন দেশের সাথে আর্ন্তজাতিক যাতায়াত পথ, ১৬৩৩ সালে বিশ্বে সমুদ্র ডাক চালু হয়। ১৬৬০ সালে চার্লস দ্বিতীয় প্রথম জেনারেল পোস্ট অফিস চালু করেন। ফলে মানুষ ডাক সেবার জন্য নিদিষ্ট ঠিকানা পায়। স্থলপথে যাতায়াতের জন্য ঘোড়ার ডাক চালু হয় ১৭৮৪ সালে। ডাকব্যবস্থার আধুনিকায়নে ১৮৩০ সালে প্রথম মুদ্রিত খাম চালু হয় এবং একই বছর রেলের মাধ্যমে ডাক সেবা আরম্ভ হয়। রোল্যান্ড হিল ১৮৩৫ সালে আধুনিক পোস্ট অফিসের ধারণা দিয়ে ‘পোস্ট অফিস রিফর্ম’ প্রকাশ করেন, এতে চিঠি পাঠানোর জন্য প্রাপককে নিদিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদান ও ডাকটিকেটের ধারণা প্রদান করা হয়। যা ডাক বিভাগের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। পৃথিবীর ইতিহাসে বৃটেনে প্রথম ডাকটিকিট চালু হয়। ১৮৩৮ সালে প্রথম পোস্টাল মানিঅর্ডার শুরুর মাধ্যমে ডাকব্যবস্থা উন্নতি লাভ করে। এ শতকে ডাক ব্যবস্থায় বেশকিছু ঘটনা ঘটে-১৮৪০ সালে প্রথম স্টেম্প প্রকাশ হয়, ১৮৪১ সালে প্রথম রেজিস্ট্রেশনকৃত ডাক সার্ভিস চালু হয়, প্রথম বুক পোস্ট সার্ভিস শুরু হয় ১৮৪৮ সালে, চিঠির নিরাপত্তা ও সহজ বহনের কথা বিবেচনা করে ১৮৫০ সালে প্রথম ডাকবাক্স চালু হয় এবং প্রথম পোস্ট কার্ড ব্যবহার শুরু হয় ১৮৬৯ সালে। বিংশ শতকের দ্বিতীয় দশকের শুরুর দিকে ১৯১১ সালে বিমান ডাক চালু হয়, এতে ডাকব্যবস্থায় সময়ক্ষেপণ হ্রাস পায়। এরপর পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ডাক ব্যবস্থার বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হয়।
বিশ্বে ডাকব্যবস্থার উন্নয়নে যারা অবদান রাখেন যুক্তরাজ্যের রাজকীয় ডাক ব্যবস্থার পথিকৃৎ স্যার ব্রেরেন টুকি (১৪৭১-১৫৪৫), যুক্তরাজ্যের হেনরি বিশপ (১৬১১-১৬৯১) তিনি ১৬৬১ সালে বিশ্বে প্রথম স্বীকৃত ডাক চিহ্ন প্রবর্তন করেন। যা তাঁর নামানুসারে বিশপ মার্ক নামে পরিচিত। সুইজারল্যান্ডের বিট ফিচের রিচেইনবাচ (১৬৪১-১৬৯৮), রোমানের আলেকজান্ডার ফার্ডিন্যান্ড (১৭০৪-১৭৭৩), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম পোষ্টমাস্টার জেনারেল বিনজামিন ফ্রাঙ্কলিন (১৭০৬-১৭৯০), যুক্তরাষ্ট্রের আব্রাহাম লিংকন (১৮০৯-১৮৬৫), যুক্তরাষ্ট্রের স্যামুয়েল এফ বি মোর্স (১৭৯১-১৮৭২) তিনি সর্বপ্রথম সিঙ্গেল ওয়্যার টেলিগ্রাফ সিস্টেম এবং মোর্স কোড উদ্ভাবন করেন, ভারতের দীনবন্ধু মিত্র (১৮৩০-১৮৭৩), যুক্তরাজ্যের স্যার রোনাল্ড হিল (১৭৯৫-১৮৭৯), এনটনি ট্রোলপ (অজ্ঞাত-১৮৮২) পৃথিবীতে প্রথম পিলার লিটার বক্স উদ্ভাবন করেন, যুক্তরাষ্ট্রের মনটোগম্যারি ব্রালাইর (১৮১৩-১৮৮৩), ফ্রান্সের ওসকার বার্জের লেব্রাউল্ট (১৮২৬-১৯০৩) তিনি প্রথম বিজ্ঞানসম্মত ও পদ্ধতিগতভাবে ডাকটিকেট সংগ্রহের পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন, প্রুশিয়ার হেনরিচ ভন স্টেপেন (১৮৩১-১৮৯৭), হেনরি ফয়োসিট (১৮৩৩-১৮৮৪) সাধারণ জনগনকে সঞ্চয় উদ্ধুদ্ধ করার জন্য তিনি সঞ্চয় ডাকটিকেটের প্রচলন করেন, কুষ্টিয়ার গগনচন্দ্র দাম (১৮৪৫-১৯১০), যুক্তরাষ্ট্রের অনটনী কোমস্টক (১৮৪৪-১৯১৫), যুক্তরাষ্ট্রের জন ওয়ানাম্যাকার (১৮৩৮-১৯২২) তিনি ১৮৮৯ সালে সর্বপ্রথম ডাক বিভাগে পেনি সেভিং ব্যাংক প্রচলন করেন, বাংলাদেশের কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১), যুক্তরাষ্ট্রের ছেচল্লিশতম পোস্ট মাস্টারজেনারেল উইল হাইস (১৮৭৯-১৯৫৪), ভারতের সি ভি রমন (১৮৮৮-১৯৭০), যুক্তরাষ্ট্রের তেপান্নতম পোস্টমাস্টার জেনারেল জেম্স এ ফার্লি (১৮৮৮-১৯৭৬), ফরাসি হেনরি প্রিকোস্ট (১৮৮৮-১৯৭৪) প্রমুখ। প্রতি বছর ৯ অক্টোবর পালিত হয় বিশ্ব ডাক দিবস।

ভারত উপমহাদেশে ১৭৭৪ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস (১৭৩২-১৮১৮) প্রথম ডাক সার্ভিস চালু করেন ইংরেজ সময়কালে। যদিও এ দেশে মুঘল ও সুলতানী শাসনামলেও ডাকব্যবস্থার প্রচলনের প্রমাণ পাওয়া যায়। সম্রাট শেরশাহ ঘোড়ার ডাকের প্রচলন করেন। ১৭৮৪ সালে পালকি ডাকসেবা চালু হয়, এতে চিঠিসহ যাত্রী বহন করা হতো। ১৭৯৩ সালে স্থানীয়ভাবে জমিদারদের অধীনে ডাক পরিচালনার দায়িত্ব দেয় বৃটিশ সরকার। ১৮৫২ সালে সিন্দুতে স্থায়ীভাবে প্রথম ডাক টিকেট চালু হয়। ১৮৫৩ সালে রেলওয়ে ডাক চালু হয়, এতে করে ঘোড়ায় চরে ডাক বিলিতে যে সময় ব্যয় হতো তা হ্রাস পায়। ১৮৫৪ সালে বৃটিশ সরকার ডাক বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন এবং সমগ্র ভারতে ডাক টিকেট চালু করেন চিঠি আদান প্রদানে। ১৮৭৯ সালে সরকার পোস্ট কার্ড ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন। ১৮৮১ সালে পোস্টাল অর্ডার সার্ভিস চালু হয়। দেশে ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নতির জন্য ১৮৮২ সালে পোস্টাল ব্যাংক সার্ভিস চালু করে সরকার। পোস্টাল ব্যাংক ভারতবর্ষে খুবই জনপ্রিয়তা পায়। ১৯১১ সালে ভারতবর্ষে বিমান ডাক চালু হয়। আর ১৯৩৩ সালের ১ ডিসেম্বর ঢাকা-কলকাতা বিমান রুট চালু হয়। এভাবেই সমগ্র ভারতবর্ষে ডাকসেবা ছড়িয়ে যায়।
ভারতবর্ষে যারা ডাক বিভাগকে সমৃদ্ধ করেছেন হুজুর রায় সেলিগ্রাম বাহাদুর (১৮২৯-১৮৯৮) প্রথম ভারতীয় পোস্টমাস্টার জেনারেল, তিনি ১৮৮১ সালে উত্তর-পশ্চিম প্রদেশের পোস্টমাস্টার জেনারেল নিয়োগপ্রাপ্ত হন। কুষ্টিয়ার গগনচন্দ্র দাম (১৮৪৫-১৯১০) শিলাইদহ পোস্ট অফিসে পোস্টম্যান পদে কাজ করতেন, তাঁর পরিচিতি ছিলো ডাকহরকরা নামে।

পাকিস্তান সময়কালে ১৯৬৬ সালের ৯ অক্টোবর ঢাকা জিপিও’র কাউন্টারের পাশে ডাক জাদুঘরের যাত্রা শুরু হয়। এখানে ডাক বিভাগের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সামগ্রী সংরক্ষণ ও প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়।

বাংলাদেশ ভারতবর্ষের একটি অঞ্চল হিসেবে ১৬২ বছরের ডাক বিভাগের ঐতিহ্য ধারণ করে এগিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাজ্যের প্রাক্তন পোস্ট মাস্টার জেনারেল জন স্টোনহাউজ (১৯২৫-অজ্ঞাত) তিনি মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের প্রথম যে ডাক টিকেট প্রকাশিত হয়, তা মুদ্রণ ও প্রচারের ক্ষেত্রে তিনি বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। বিমান মল্লিকের নকশায় আটটি ডাকটিকেটের সেট ২৯ জুলাই ১৯৭১ সালে প্রকাশ করা হয়। এ ডাকটিকিটগুলো লন্ডনের একটি প্রেস থেকে মুদ্রণের ব্যবস্থা তিনি গ্রহণ করেন। ইউরোপে এ ডাকটিকেটগুলোকে জনপ্রিয় করার জন্য তিনি অগ্রনী ভূমিকা পালন করেন। হাউস অব কমন্সের হেয়ারকোর্ট রুমে ২৯ জুলাই ১৯৭১ সালে জন স্টোনহাউজ ও অন্যান্য অতিথির উপস্থিতিতে বাংলাদেশের এ ডাকটিকেট অবমুক্ত করা হয়। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে এ ডাকটিকিট প্রকাশ বিশ্বব্যাপী জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ডাক টিকেটে প্রকাশে সার্বিক সহযোগিতা করে মুজিবনগর সরকার। বাংলাদেশ স্বাধীন হলে প্রথম ডাক সার্ভিস চালু হয় ১৯৭১ সালের ২০ ডিসেম্বর, এ দিন থেকেই বর্হিবিশ্বের সাথে ডাক যোগাযোগ শুরু হয় পৃথিবীর মানচিত্রে সদ্য স্থান পাওয়া এক রাষ্ট্রের। এরপর থেকে বাংলাদেশ ডাকব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অনেকগুলো কাজ সম্পাদিত হয়। মহাপরিদপ্তর স্থাপন হয় ১৯৭২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি। বিশ্ব ডাক সংস্থার সদস্যপদ লাভ করে ১৯৭৩ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি। প্রথম স্মারক ডাক টিকিট প্রকাশিত হয় ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২। প্রথম এ্যারোগ্রাম প্রকাশ ১৭ মার্চ ১৯৭২। প্রথম পোস্ট কার্ড প্রকাশ ১৯৭২ সালের ১৮ এপ্রিল। প্রথম খাম প্রকাশ ১৯৭২ সালের ১৯ জুলাই। প্রথম নিত্যকালীক ডাকটিকিট প্রকাশ ১৯৭৩ সালের ৪ এপ্রিল। বৈদেশিক মানিঅর্ডার সার্ভিস প্রর্বতন হয় ১৯৭৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর। বৈদেশিক পার্সেল সার্ভিস প্রবর্তন হয় ১৯৭৪ সালের ৫ জুলাই। বিশ্ব ডাক সংস্থার নির্বাহী পরিষদের সদস্যপদ লাভ করে ১৯৭৪ সালের ১৯ জুন। একই বছর বিশ্ব ডাক সংস্থার কনসালটেটিভ কাউন্সিলের সদস্য পদ লাভ করে। জায়রো মানি অর্ডার প্রবর্তন হয় ১৯৭৮ সালের ১৬ জানুয়ারি। রাজশাহী সার্কেল প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৭৯ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি। চট্টগাম সার্কেল প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮০ সালের ১ জানুয়ারি। জি ই পি সার্ভিস প্রবর্তন হয় ১৯৮৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি। ১৯৮৫ সালের ৩০ জানুয়ারি বাংলাদেশ পোষ্টাল মিউজিয়াম উদ্বোধন করেন ডাক বিভাগের মহাপরিচালক ফরিদউদ্দিন আহমেদ। ডাক বিভাগের অধীনস্থ এলাকাগুলোকে চিহ্নিত করার জন্য সরকার ১৯৮৬ সালের ২২ ডিসেম্বর দেশে পোস্টাল কোড চালু করে এবং একই বছর রাজশাহীতে একটি পোস্টাল একাডেমী প্রতিষ্ঠা করা হয়। ২০১৫ সালের ২৯ জুলাই থেকে প্রথম ডাক টিকেট প্রকাশের দিনকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য জাতীয় ডাকটিকিট দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। ২০২১ সালে ডাকবক্সের আদলে শেরেবাংলানগর স্থপতি কৌশিক বিশ্বাসের নকশায় ৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে চৌদ্দতলা বিশিষ্ট ডাক ভবন নির্মিত হয়। ডাক পিয়ন, রানার, পোস্টমাস্টার ও অন্যান্য কর্মচারীদের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের গত শতাব্দীর নব্বই দশক পর্যন্ত ছিল পরিপূর্ণ যৌবন।
বাংলায় বৃটিশ সরকার কর্তৃক ডাকব্যবস্থা প্রচলনের সাথে সাথে প্রাচীন বিক্রমপুরের বিভিন্ন স্থানে ডাকঘর স্থাপনের মাধ্যমে এ সেবা শুরু হয়। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে শুরুর দিকে বিক্রমপুরের জমিদাররা তাদের দূরদূরান্তে অবস্থানরত আপনজনদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করার জন্য ব্যক্তি উদ্যোগে ডাকঘর স্থাপন করেন। ব্যক্তি উদ্যোগে এসব ডাকঘর স্থাপিত হলেও তৎকালীন পুরো সমাজ এর সুবিধা ভোগ করেছে। বিক্রমপুরের লোকজন প্রাচীনকাল হতেই কলকাতা, আসাম, বার্মা ও বিলেতে কর্মরত ছিল নানা প্রয়োজনে। এসব মানুষের তাদের পরিবার ও পরিজনের সাথে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ করা প্রয়োজন হয়। মূলত যোগাযোগের প্রয়োজনেই বিক্রমপুরের প্রসিদ্ধ গ্রামগুলোতে ডাকঘর স্থাপিত হয়। এছাড়াও যেসব গ্রাম উচ্চ শিক্ষায় সমৃদ্ধ ছিল, সেখানেও ডাকব্যবস্থা ছিল। ১৮৫২ সালে বিদগাঁ গ্রামে ডাকঘর স্থাপিত হয়। ১৮৫৪ সালে আব্দুল্লাপুর গ্রামবাসীর প্রচেষ্টায় গিরিধারী আখড়ার পাশে শুধুমাত্র চিঠি বিলির জন্য একটি উপ-ডাকঘর স্থাপিত হয়, এ পোষ্ট অফিসের প্রথম পোষ্ট মাস্টার ছিলেন গ্রামের প্রসন্ন কুণ্ডু। ১৮৫৫ সালে জৈনসারের প্রখ্যাত বিচারপতি ও জমিদার অভয় দত্ত জৈনসার ব্রাঞ্চ ডাকঘর স্থাপন করেন। ১৮৫৯ সালে লালা কীর্ত্তিনারায়ণ শ্রীনগর ডাকঘর স্থাপন করেন, ১৮৭৭ সালে এ পোস্ট অফিসে টেলিগ্রাফযুক্ত হয়। সোনারং গ্রাম শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে বিক্রমপুরের একটি সমৃদ্ধ গ্রাম। এ গ্রামের সুসন্তান বিক্রমপুরের অধুনাতন ডেপুটি ইনস্পেক্টর শ্রী বৈকুন্ঠনাথ সেন ১৮৬৮ সালে সোনারং পোস্ট অফিস স্থাপন করেন। ১৮৬৯ সালে শ্রীনগর, বহর, জৈনসার, রাজাবাড়ি, মুলফৎগঞ্জ, কাচাদিয়া ও সোনারং গ্রামে পোস্টঅফিস ছিল।১ গৌরচন্দ্র রায়ের পূর্ব পুরুষ বাঘরা গ্রামে ১৮৭৪ সালে পোস্ট অফিস স্থাপন করেন, এ গ্রামে এ পরিবারটি বেশ প্রতাপশালী ছিল। মুন্সিগঞ্জ প্রধান ডাকঘরের অধীনে ১৮৮১ সালে কেওয়ার ডাকঘর স্থাপিত হয়। ১৮৮২ সালে ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামের ঘোষ পরিবার ব্রাহ্মণগাঁও পোস্ট অফিস স্থাপন করেন। ১৮৮৩ সালে ঘাষিপুকুরপাড় ডাকঘর স্থাপিত হয়। পূর্ব বিক্রমপুরের সমৃদ্ধ গ্রাম মালখানগরে বসুদের প্রচেষ্টায় ১৮৮৫ পোষ্ট অফিস স্থাপিত হয়। প্রথমে এ পোষ্ট অফিসের নাম ছিল তালতলা পোষ্ট অফিস, কিন্তু প্রমথকুমার বসু ঠাকুর ও রাখালরাজ বসু ঠাকুরের চেষ্টায় এটি মালখানগর পোষ্ট অফিস নামে পরিবর্তিত হয়। ১৮৮৭ সালে এ পোষ্ট অফিসে টেলিগ্রাফ বিভাগ সন্নিবেশিত হয়।২ গ্রামের চট্টোপাধ্যায় পরিবার ১৮৮৫ সালে কোলা পোস্ট অফিস স্থাপন করে। সমগ্র কোলা গ্রামে এ পরিবার শিক্ষা ও ব্যবসায় প্রসিদ্ধ ছিল। ১৮৮৭ সালে কোলা ডাকঘরে টেলিগ্রাফ যুক্ত হয়। ১৮৮৫ সালে হাঁসাড়া স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা কালীকিশোর সেনের ভাই ঢাকা বারের উকিল কৈলাসচন্দ্র সেন হাঁসাড়া পোষ্ট অফিস স্থাপন করেন। নারায়ণগঞ্জ পোস্ট অফিসের অধীনে এ ডাকঘরে ১৮৮৯ সালে টেলিগ্রাফ যুক্ত হয়। ১৮৬০-১৮৮৭ সালের মধ্যে ভাগ্যকূলের জমিদার পরিবার কর্তৃক ভাগ্যকূল ডাকঘর স্থাপিত হয়, এ ডাকঘরে টেলিগ্রাফযুক্ত ছিল। ১৮৮৭ সালে এসিটেন্ট একাউটেন্ট জেনারেল অব ইন্ডিয়া রজনীনাথ রায়ের প্রচেষ্টায় গাওদিয়া পোষ্ট অফিস স্থাপিত হয়। শুরুতে এটি ব্রাঞ্চ ডাকঘর হিসেবে স্থাপিত হয়, পরে উপ-ডাকঘর হয়। কালীপাড়ার জমিদাররা ১৮৮৮ সালে হলদিয়া ডাকঘর স্থাপন করেন, এ ডাকঘরে ১৮৯৩ সালে টেলিগ্রাফ যুক্ত হয়। ১৮৯৪ সালে কুমারভোগ ডাকঘর স্থাপিত হয়, এ ডাকঘরটি যোগেন্দ্রকুমার চন্দ’র পূর্ব পুরুষরা স্থাপন করেন। এ পরিবারের নামে এ অঞ্চলে চন্দের বাজার নামে বাজার রয়েছে। ১৮৯৫ সালে আব্দুল্লাপুরের প্রসিদ্ধ ব্যবসায়ী ঈশ্বরচন্দ্র মণ্ডল ব্যবসায়িক প্রাণকেন্দ্র মিরকাদিমে বন্দরে মিরকাদিম ডাকঘর স্থাপন করেন। মালখানগর ডাকঘরের অধীনে বড় পাউলদিয়ায় রায়বাহাদুর যোগেশচন্দ্র ঘোষের বাড়িতে তার উদ্যোগে বড় পাউলদিয়া ডাকঘর নামে একটি ব্রাঞ্চ অফিস ১৮৯৬ সালে স্থাপিত হয়। পাইকপাড়ায় ১৮৯৭ সালে বিক্রমপুর পাইকপাড়া ডাকঘর স্থাপিত হয়। ১৮৯৭ সালে গজারিয়া উপজেলার গজারিয়া, ভবেরচর ও হোসেন্দীতে ডাকঘরের অস্তিত্ব ছিল, সেগুলো কবে স্থাপিত হয় তা সঠিকভাবে বলা মুশকিল। ১৯১৬ সালে নাগরভোগ গ্রামে ডাকঘর স্থাপিত হয়। ১৯১৬ সালে ডাকঘর দেখা যায় ষোলঘর উপ-ডাকঘর, হাসাড়া, গাউদিয়া, কলমা, খিদিরপাড়া, জৈনসার, মধ্যপাড়া, আউটশাহী, কুকুটিয়া, নাগরভোগ, শেখেরনগর, বালিগাঁও, টংঙ্গীবাড়ি, আড়িয়ল, সোনারং, হাসাইল, ভরাকর, বজ্রযোগিনী, ব্রাহ্মণগাঁও, কুমারভোগ-মধ্যশ্রেনি ডাকঘর, মাইজপাড়া, রাড়ীখাল, বীরতারা, ইছাপুরা। ১৯২২ সালে মালখানগর সাব অফিসের অধীনে বালুচর পোষ্ট অফিস স্থাপিত হয়। ১৯৩৭ সালে বিক্রমপুরের এসব অঞ্চলে ডাকঘর ছিল—ভাগ্যকূল, বাঘরা, কাঠিয়াপাড়া, হাঁসাড়া, কেওটখালী, কুমারভোগ উপ-ডাকঘর, মেদিনীমণ্ডল, গ্রামওয়ারী, শেখেরনগর, বাড়ৈখালী, ষোলঘর, শ্রীনগর, মাইজপাড়া, বেলতলী, আটপাড়া, দোগাছি, শ্যামসিদ্ধি, মুন্সিগঞ্জ, কুকুটিয়া, ফিরিঙ্গিবাজার, ঘাসিপুকুরপাড়, মূলচর, কেওয়ার, পঞ্চসার, বহর, ভরাকৈর, কলমা, বজ্রযোগিনী, বারুনী, বিদগাঁ, ইছাপুরা, হাসাইল বানরী, চন্দনধূল, খিদিরপাড়া, কুচিয়ামোড়া, রশুনিয়া, শিয়ালদি, সিরাজদিখান, তাজপুর, টোলবাসাইল, বিক্রমপুর মধ্যপাড়া, পশ্চিমপাড়া, জৈনসার, কাঠাদিয়া, সিমুলিয়া, রাউৎভোগ, যশলং, কোলা, বেলতলী, রুসদী, লৌহজং, বেজগাঁ, ভোগদিয়া, ব্রাহ্মণগাঁও, গাওদিয়া, গাউপাড়া, কনকসার, হলদিয়া, কোরহাটি, মালখানগর, কাইচাইল, মালপদিয়া, বড় পাউলদিয়া, বালুচর, শিলিমপুর, পাইকপাড়া, মিরকাদিম, রাজাবাড়ি, আড়িয়ল, সোনারং, বালিগাঁও, বেতকা, আউটশাহী, পুরাপাড়া, স্বর্ণগ্রাম, বাঘিয়া, টঙ্গীবাড়ি, নয়না।৩ ১৯৪৩ সালে পুরা পোষ্ট অফিসের অধীনে গ্রামগুলো হল পুরা, কাটাইল, বেশনাল, ঢালিকান্দি, নোয়াদ্দা পশ্চিমপাড়া, ভুপসা, আনন্দপুর, চর বেশনাল, আধারা, মোল্লাকান্দি, মুন্সিকান্দি, চিতলিয়া, চর ডুমরিয়া, লক্ষ্মীদেবী এ চৌদ্দটি গ্রাম।৪ পশ্চিমপাড়া ব্রাঞ্চ পোষ্ট অফিস, রাউৎভোগ গ্রামে ব্রাঞ্চ পোষ্ট অফিস। ১৯৪৩ সালে দিঘীরপাড়, গারুরগাঁও, নশঙ্কর, কোলা, ভরাকর, সোনারং, আউটশাহী, মালখানগর, ইছাপুরা, হলদিয়া, হাঁসাড়া ও শ্রীনগর পোস্ট অফিসগুলোতে টেলিগ্রাফযুক্ত ছিল। ১৯৪৪ সালে সোনারং পোষ্ট অফিসের অধীনে আড়িয়ল, বালিগাঁও, আউটশাহী পোষ্ট অফিস শাখা অফিস হিসেবে ছিল। ১৮৮৭-১৯১৯ সালের মধ্যে কায়কোবাদ মুন্সিগঞ্জের বজ্রযোগিনী পোস্ট অফিসে কাজ করেন, এছাড়াও তিনি পশ্চিমপাড়া ডাকঘরেও কাজ করেন। ১৯৮৬ সালে খন্দকার রুহুল আমিন মেম্বারের প্রচেষ্টায় মিরকাদিম ডাকঘরের অধীনে পুনরায় আব্দুল্লাপুর ডাকঘর নামে ব্রাঞ্চ অফিস স্থাপিত হয়।
বর্তমান মুন্সিগঞ্জ জেলায় একটি হেড অফিসের অধীনে ৫টি উপজেলা ডাকঘর, ১২ টি সাব-অফিস, ১৫টি ইডিএসও অফিস এবং ১২১ টি ব্রাঞ্চ অফিসের মাধ্যমে ৬টি উপজেলার ৯২৫টি গ্রামে ডাক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। মুন্সিগঞ্জ হেড অফিস, পোস্ট কোড ১৫০০। এ অফিসের অধীনে শাখা অফিসগুলো-কাটাখালী, পঞ্চসার, রমজানবেগ, কাশেমনগর, চর ডুমুরিয়া, ভিটি হোগলা, জাজিরা সৈয়দপুর, ভাষানচর, চম্পাতলা, চর ডুমরিয়া, কেওয়ার, ঘাষিপুকুরপাড়, মাকহাটি, চর কিশোরগঞ্জ, কোটগাঁও, মহেশপুর, বানিয়াল, চর শিলই, সুখবাসপুর, কালীর আটপাড়া, রামশিং, রামপাল। উপজেলা ডাকঘর ৫টি- গজারিয়া পোস্ট কোড ১৫১০: ব্রাঞ্চ অফিসসমূহ (রসুলপুর, হোসেন্দী, ভবেরচর, বিকে রায়পুরা, বাউশিয়া, চর বলাকি, গুয়াগাছিয়া, হোগলাকান্দি, ইসমানির চর, টেঙ্গারচর, উত্তর শাহপুর, মধ্য ভাটেরচর, পুরান বাউশিয়া), টঙ্গীবাড়ি পোস্ট কোড ১৫২০: ব্রাঞ্চ অফিসসমূহ (বালিগাঁও, হাসাইল, পুরা, আরিয়ল, আউটশাহী, ধীপুর, বলই, সোনারং, রাউৎভোগ, যশলং, পুরাপাড়া, স্বর্ণগ্রাম, বাঘিয়া, মূলচর, বানারী, নশঙ্কর, পাঁচগাঁও), লৌহজং পোস্ট কোড ১৫৩০: ব্রাঞ্চ অফিসসমূহ (গৌরগঞ্জ, হারিদিয়া, কোরহাটি, মেদিনীমণ্ডল, নাগেরহাট, কলমা, ভরাকর, ঝাউটিয়া, বেজগাঁও, ভোগদিয়া, গাউদিয়া, কনকসার, কুকুটিয়া, বহর, কুমারভোগ, বেলতলী, দক্ষিণ চারিগাঁও, বিবন্দী, বৌলতলী, পশ্চিম নওপাড়া, খিদিরপাড়া, নওপাড়া, যসলদিয়া), সিরাজদিখান পোস্ট কোড ১৫৪০: ব্রাঞ্চ অফিস সমূহ (কুচিয়ামোড়া, টোল বাসাইল, রশুনিয়া, লতব্দী, রামকৃষ্ণদী, শিকারপুর ও রাজদিয়া), শ্রীনগর পোস্ট কোড ১৫৫০: ব্রাঞ্চ অফিসসমূহ (কোলাপাড়া, বাঘরা, মাইজপাড়া, রাড়িখাল, ষোলঘর, পূর্ব দেউলভোগ, গাদিঘাট, কয়কীর্ত্তন, দামলা, দক্ষিণ পাইকসা, কাজীরপাগলা, দোগাছি, আটপাড়া, মজিদপুর, রুসদী, তন্তর, বাড়ৈখালী); উপ-ডাকঘর ১২টি-রিকাবী বাজার পোস্ট কোড ১৫০১-ব্রাঞ্চ অফিস রামপাল, মিরকাদিম পোস্ট কোড ১৫০২-ব্রাঞ্চ অফিস সমূহ (সুখবাসপুর, বিক্রমপুর পাইকপাড়া, আব্দুল্লাপুর ও আটপাড়া), কাটাখালী পোস্ট কোড ১৫০৩, বজ্রযোগিনী পোস্ট কোড ১৫২৩-ব্রাঞ্চ অফিস সমূহ (হাটকান, রহিমগঞ্জ, আলদীবাজার ও রামশিং), বেতকা হাট পোস্ট কোড ১৫২১-ব্রাঞ্চ অফিস উত্তর রায়পুর, দিঘীরপাড় পোস্ট কোড ১৫২৫-ব্রাঞ্চ অফিস সমূহ (স্বর্ণগ্রাম, বাঘিয়াবাজার, বানারী, মূলচর, মহেশপুর, চর শিলই, নশঙ্কর, বানিয়ল ভূকৈলাশ ও পাচগাঁও), হলদিয়া পোস্ট কোড ১৫৩২, কোলা পোস্ট কোড ১৫৪১-ব্রাঞ্চ অফিস সমূহ (বেলতলী, দক্ষিণ চারিগাঁও, মজিদপুর দয়হাটা, রুসদী, তন্তর, আটপাড়া, বৌলতলী, বিবন্দী ও পশ্চিম নওপাড়া), ইছাপুরা পোস্ট কোড ১৫৪২-ব্রাঞ্চ অফিস সমূহ (চন্দনধূল, জৈনসার, কুসুমপুর, শিয়ালদি, তাজপুর, খিদিরপাড়া, নওপাড়া, বিক্রমপুর খিলগাঁও, বিক্রমপুর মধ্যপাড়া), মালখানগর পোস্ট কোড ১৫৪৩-ব্রাঞ্চ অফিস সমূহ (কাইচাইল, বড় পাউলদিয়া, খাসমহল বালুচর, মালপদিয়া, শিলিমপুর), শেখরনগর পোস্ট কোড ১৫৪৪-ব্রাঞ্চ অফিস সমূহ (চিত্রকোট, পাউসার, রাজানগর, বাড়ৈখালী ও সৈয়দপুর), হাঁসাড়া পোস্ট কোড ১৫৫৩, ভাগ্যকূল পোস্ট কোড ১৫৫৬-ব্রাঞ্চ অফিস সমূহ (কাটিয়াপাড়া, যশলদিয়া ও কামারগাঁও)। ইডিএসও অফিস ১৫টি- হোসেন্দী পোস্ট কোড ১৫১১, রসুলপুর পোস্ট কোড ১৫১২, বালিগাঁও পোস্ট কোড ১৫২২, হাসাইল পোস্ট কোড ১৫২৪, পুরা পোস্ট কোড ১৫২৭, কোরহাটি পোস্ট কোড ১৫৩১, হারিদিয়া পোস্ট কোড ১৫৩৩, গৌরগঞ্জ পোস্ট কোড ১৫৩৪, মেদিনী মণ্ডল পোস্ট কোড ১৫৩৫, বাড়ৈখালী পোস্ট কোড ১৫৫১, মাইজপাড়া পোস্ট কোড ১৫৫২, কোলাপাড়া বাজার পোস্ট কোড ১৫৫৪, কুমারভোগ পোস্ট কোড ১৫৫৫ ও বাঘরা পোস্ট কোড ১৫৫৭।

চিঠি লেখাকে কেন্দ্র করে বহু সাহিত্যের সূচনা ঘটেছে। ১৫৫৫ সালে কোচবিহারের মহারাজা নরনারায়ণ অহোমরাজ স্বর্গনারায়ণকে যে চিঠি লিখে তা বাংলা গদ্যের প্রথম নমুনা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। বাংলা সাহিত্যের কিছু বিখ্যাত কবি লেখক তাদের পত্র সংকলন প্রকাশের মধ্যদিয়ে চিঠিকে সাহিত্যের মর্যাদায় সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। উল্লেখযোগ্য কবি সাহিত্যিক হলেন নবীনচন্দ্র সেনের প্রবাসের পত্র, স্বামী বিবেকানন্দের পত্রাবলী ও দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের বিলাতের পত্র। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) বাংলা সাহিত্যে পত্র বা চিঠিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মর্যাদা দেন। তিনি বেশকিছু পত্র সাহিত্য রচনা করেছেন ইউরোপ প্রবাসীর পত্র, জাপান যাত্রী, রাশিয়ার চিঠি, পথে ও পথের প্রান্তে। এছাড়াও তিনি ডাকঘর নিয়ে রচনা করেন নাটক ডাকঘর, গল্প পোস্টমাস্টার, কবিতা পত্র, মানসী গ্রন্থে পত্রের প্রত্যাশা নামক কবিতা ও ছিন্নপত্র। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬) রচনা করেন পত্রোপন্যাস বাঁধন হারা। বাংলা সাহিত্যে বেশকিছু পত্রোপন্যাস রচিত রয়েছে শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের ক্রোঞ্চমিথুন, বনফুলের কষ্টিপাথর, নিমাই ভট্টচার্যের মেম সাহেব, প্রেমচন্দ্র মিত্রের প্রিয়তমাষু, বুদ্ধদেব গুহের মহুয়ার চিঠি, চান ঘরে গান ও সবিনয় নিবেদন। এছাড়াও তারশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় গল্প ডাক-হরকরা, সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতা রানার, মুনীর চৌধুরী নাটক চিঠি, বনফুল রচিত ছোট গল্প দুইটি চিঠি, পোস্টকার্ডের গল্প ও চিঠি পাওয়ার পর, মাইকেল মদুসূদন দত্তের বীরাঙ্গনা ও মহাদেব সাহার কবিতা চিঠি দিও বাংলা সাহিত্যে উল্লেখযোগ্য রচনা। ইংরেজি সাহিত্যেও চিঠিকে কেন্দ্র করে সাহিত্য রচিত হয়েছে স্যামুয়েল রিচার্ডসনের পত্রোপন্যাস পামেলা, চার্লেস বুকোওয়াসকির ইংরেজি উপন্যাস পোস্ট অফিস উল্লেখযোগ্য।
চিঠি নিয়ে কবি হেলাল হাফিজ লেখেন- ‘এখন তুমি কোথায় আছো কেমন আছো, পত্র দিও’। এক সময় পত্রের মাধ্যমে মানুষ তার প্রিয়জনের খোঁজ খবর নিতেন। কিন্তু আজ পত্রের আবেদন হ্রাস পেয়েছে। মানুষ তার প্রিয়জনের খোঁজ নিতে এখন আর পত্র লিখে না। পত্রের স্থান দখল করেছে বিভিন্ন মাধ্যম। পত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট ডাকঘর, পোস্ট মাস্টার, রানার, ডাক টিকেট, খাম ও ডাকবাক্স এগুলো যেনো স্মরণ করিয়ে দেয় এক সময় মানুষের যোগাযোগের প্রধান এ মাধ্যমটিকে।

লেখক : মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর প্রাচীন বাংলার এক সমৃদ্ধ জনপদ

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর