ঐতিহ্যবাহী পিঠা উৎসব,মুখরিত সোনারগাঁও এসআর স্কুল এন্ড কলেজ।
মো রাসেল সরকার গজারিয়া প্রতিনিধি
:বাঙ্গালী সংস্কৃতির সাথে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে আছে পিঠাপুলির নাম কিন্তু আধুনিক এই যুগে ফাস্ট ফুটের ছোঁয়ায় পিঠাকে ভুলে যেতে বসেছে এদেশের মানুষ,এবার হাজার বছরের ঐতিহ্য শিক্ষার্থীদের মাঝে তুলে ধরতে পিঠা উৎসব এর আয়োজন করেছে সোনারগাঁও এসআর স্কুল এন্ড কলেজ।
শনিবার(১৭ জানু)সকাল ১০ঘটিকা থেকে দিনব্যাপী বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে এই পিঠা উৎসরের আয়োজন করা হয়।উদ্ধোধনী করেন প্রতিষ্ঠান এর পরিচালকদ্বয় অধ্যাপক শাহ আলী ও প্রভাষক মো:রফিকুল ইসলাম,প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো: জহিরুল্লাহ’র সভাপতিত্বে আরো উপ স্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ প্রতিষ্ঠানের ডীন,মোঃ আলী হাসান,পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আলআমিন দীপু,সিনিয়র শিক্ষক রাবেয়া ফেরদৌসী, নূরজাহান চৈতীসহ প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ,এ সময় অভিভাবকদের আগমনে স্কুল প্রাঙ্গণে মিলন মেলায় পরিনত হয়।
এ সময় পিঠাপুলির ঘ্রাণে চারপাশ মুখরিত হয়ে উঠে,শিক্ষার্থীদের দেশিয় বাহারি পিঠা প্রদর্শনীর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দেশীয় সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করানো হয়,উৎসবে ছিলো হরেক রকমের পিঠার আয়োজন। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নানান ধরনের মুখরোচক পিঠা প্রদর্শনী করে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা এবং ঐতিহ্য ধরা রাখাই ছিল এর প্রধান উদ্দেশ্য।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্টলে নানা আইটেমের পিঠা নিয়ে উৎসবে অংশগ্রহণ করেছেন। ছাত্র-ছাত্রীদের তৈরি করা এসব পিঠা দেখতে বিভিন্ন স্টলে ভিড় করেছিল অন্যান্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
উৎসবে ছিলো ভাপা পিঠা,চিতই পিঠা,ঝাল পিঠা, কলা পিঠা,খেজুরের রসের পিঠা,ক্ষীর কুলি, গোলাপ ফুল পিঠা,রস পিঠা,পুলি পিঠা,পাটিসাপটা, পাকান পিঠা,নারকেলের সেদ্ধ পুলি,তেজপাতা পিঠা,তেলের পিঠা,তেলপোয়া পিঠা,চাঁদ পাকান পিঠা,ছিট পিঠা,দুধ চিতই,ফুল পিঠা,সেমাই পিঠা, নকশি পিঠা,নারকেল পিঠা,নারকেলের ভাজা পুলি, দুধরাজ,ফুলঝুরি পিঠাসহ আরও বাহারি সব নামের পিঠা।
শিশু শিক্ষার্থীরা বাবা-মায়ের হাত ধরে ঘুরে দেখছেন স্টল। জানছেন নতুন নতুন পিঠা সম্পর্কে। পুরো স্কুল মাঠ রূপ নিয়েছে অনিন্দ্য মিলনমেলায়। জানা-অজানা পিঠার সম্পর্কে জানতে পেরে এবং স্বাদ গ্রহণ করতে পেরে খুশি শিক্ষার্থীরা।
অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরফাহ হক অর্থি জানায়, বাহারি রকমের এতো পিঠা একসঙ্গে এর আগে কখনো দেখা হয়নি। আজ স্কুলে পিঠা উৎসব। সহপাঠীদের সঙ্গে পিঠা খাচ্ছি। অনেকে সিনিয়র ও জুনিয়র আপু ভাইয়ারা পিঠা বিক্রি করছে এতে খুব আনন্দ হচ্ছে।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠান এর পরিচালক অধ্যাপক শাহ আলী বলেন,শিক্ষার্থীদের দেশীয় সংস্কৃতি তথা পিঠাপুলির সাথে পরিচয়ের পাশাপাশি তাদের উদোক্তা হিসাবে তৈরি করার জন্য এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। আজকে দেখলাম অনেক শিক্ষার্থী ব্যবসায় গত বছরের তুলনায় এ বছর ইমপ্রুভমেন্ট হয়েছে,আশা করি শিক্ষার্থীরা এখান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবে,বাস্তবে এরা উদোক্তা হিসাবেই নিজেকে তৈরি করতে পারবে।