মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় জায়গা-সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সুমি আক্তার (৩২) নামে এক নারীকে মারধর, ফলজ গাছ কাটা, হুমকি-ধামকি ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনি গজারিয়া থানায় চারজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়নের ইসমানিরচর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সুমি আক্তার ও প্রতিবেশীদের মধ্যে জায়গা-সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে বিবাদী মোহাম্মদ হোসেন (৬৫), তার স্ত্রী মিনু বেগম (৫৮), ছেলে মো. ইব্রাহিম (২৬) ও মেয়ে মিতু আক্তার (২৮) প্রায়ই বাদীকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিত বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার দিন গত ১৬ নভেম্বর ২০২৫ বিকেল ৫টার দিকে সুমি আক্তার নিজ জমিতে গাছ রোপণ করতে গেলে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এসে তাকে বাধা দেন এবং অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন। একপর্যায়ে তারা এলোপাতাড়ি মারধর করে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে নিলাফুলা জখম করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনাটি মোবাইলে ভিডিও ধারণ করতে গেলে ২নং বিবাদী মিনু বেগম মোবাইল ফোনটি পানিতে ফেলে দেন এবং চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে দেন। এরপর সবাই মিলে পুনরায় মারধর করেন। এ সময় তাদের কাটা ফলজ গাছপালা নষ্ট করে প্রায় ১৫ হাজার টাকা ক্ষতি সাধনের অভিযোগ রয়েছে।
চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা সুমি আক্তারকে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তার মা জানু বেগম (৫৬) আহত হয়ে একই হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
সুমি আক্তার অভিযোগে জানান, তিনি ও তার পরিবার এখন বিবাদীদের ভয়ে আতঙ্কে আছেন এবং যেকোনো সময় তাদের জান-মালের ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পরামর্শে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
বিবাদী মিনু বেগমের পুত্রবধু লাইলী ফলজ গাছ কাটার কথা শিকার করে বলেন, এ জায়গায় আমার শুশুরের। সুমিদের জায়গা পরের টুকু।
ইব্রাহিম জানান আমার মাকে মার দূর করার কারণে তারা সুমিকে উপরে আক্রমণ করেন।
গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার আলম আজাদ বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্হা নেওয়া হচ্ছে।