
মো. রাসেল সরকার,গজারিয়া
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় প্রতিপক্ষের গুলিতে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদয় বাঘ (২৮) মারা যাওয়ার জেরে শত্রু পক্ষ সন্ত্রাসী সাজেদুল হক ওরফে লালুর বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুব্ধরা। রবিবার সন্ধ্যা ৮ টায় দিকে উপজেলার ইমামপুর ইউনিয়নের হোগলাকান্দী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে গজারিয়া ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাত সাড়ে ৯টার মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুলাই বড়কালীপুরা সংলগ্ন মেঘনা নদীতে অবৈধ বালু মহাল ও নৌপথে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুইদল সন্ত্রাসীর সংঘর্ষে শ্যুটার মান্নান (৪৩) নিহত হন। এ ঘটনায় হৃদয় বাঘসহ আরও ছয়জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়। গুরুতর আহত হৃদয় শনিবার ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
রবিবার বাদ আসর জানাজা শেষে হৃদয়ের মরদেহ স্থানীয় কবরস্থানে দাফনের পর উত্তেজিত প্রতিপক্ষ লালু বাহিনীর প্রধান সাজেদুল হক লালু ও তার স্বজনদের বাড়িঘরে আগুন দেয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গজারিয়া থানার ওসি মো. আনোয়ার আলম আজাদ জানান, হৃদয়ের দাফনকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। তবে পুলিশ সরে যাওয়ার পর প্রতিপক্ষের লোকজন লালুর বাড়ি ও তার শ্বশুরবাড়ির কয়েকটি ঘরে অগ্নিসংযোগ করে। ওই সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বলেও জানান তিনি।
ফায়ার সার্ভিস নারায়ণগঞ্জ জোনের কর্মকর্তা ওসমান গণীর তত্ত্বাবধানে এবং গজারিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে তিনটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
শ্যুটার মান্নান হত্যা মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পরদিন নিহত মান্নানের স্ত্রী সুমি আক্তার বাদী হয়ে লালু, নয়ন, পিয়াসসহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। তবে ঘটনার ১৮ দিন পার হলেও এখনো কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
তদন্ত কর্মকর্তা গজারিয়া নৌফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক শরজিত কুমার ঘোষ জানান, আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে পুলিশ চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদয়ের জবানবন্দি নিতে গেলেও তা সম্ভব হয়নি।