
সাইদ হাসান আফরান
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের দুর্গম চরাঞ্চল ও মেঘনা নদীজুড়ে ফের নৌ-সন্ত্রাসী ও জলদস্যুদের সঙ্গে পুলিশের রক্তচক্ষু সংঘর্ষ ঘটেছে। সোমবার বিকেলে সংঘটিত ওই গুলিবিনিময়ের ঘটনার পর মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) পুলিশ, র্যাব, নৌ–পুলিশ, কোস্টগার্ড ও জেলা পুলিশের শতাধিক সদস্যের সমন্বয়ে টানা যৌথ অভিযান চলছে।
পুলিশ জানায়, সোমবার বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে গজারিয়া ও চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তরের মধ্যবর্তী মেঘনা নদীতে সন্ত্রসী বাহিনীর অন্তত ৫–৬টি ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে মহড়া দিতে থাকে। এমন খবর পেয়ে পুলিশের একটি স্পিডবোট ঘটনাস্থলে পৌঁছালে জলদস্যুরা প্রথমে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় এবং পরে পুলিশের দিকে লক্ষ্য করে অগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি চালায়।
আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। গজারিয়া থানার ওসি মো. আনোয়ার আলম আজাদ কালবেলাকে জানান, পুলিশের অভিযানে শর্টগানের ৬ রাউন্ড, পিস্তলের ৫ রাউন্ড এবং চায়না রাইফেলের অন্তত ১৩ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। অপরদিকে দস্যুরা শতাধিক রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে। প্রায় আধঘণ্টাব্যাপী এই বন্দুকযুদ্ধের পর পুলিশের প্রতিরোধে টিকতে না পেরে ডাকাতরা মতলবের দিকে সরে যায়।
ঘটনার পর মঙ্গলবার (২৬ আগষ্ট) গজারিয়া থানার এসআই সৈয়দ আজহারুল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা (নং-২৫) দায়ের করেন। মামলায় ২০ জন জলদস্যুর নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও ২০–২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
এরপর থেকে গুয়াগাছিয়া ইউনিয়ন, জামালপুর গ্রাম ও আশপাশের চরাঞ্চলে যৌথবাহিনী চিরুনি অভিযান শুরু করে। অভিযানে র্যাব-১১, কোস্টগার্ড, নৌ–পুলিশ ও মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশের সদস্যরা অংশ নিচ্ছেন। মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে তিনটা থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান রাত পর্যন্ত চলেছে।
র্যাব-১১ এর অপারেশন অফিসার সিনিয়র এএসপি গোলাম মোর্শেদ বলেন, “আমরা এলাকায় টহল ও রেকি চালাচ্ছি। দস্যুদের অবস্থান চিহ্নিত করে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।”
সন্ত্রাসী ও পুলিশের সাথে গুলিবিনিময়ের ঘটনায় মুন্সিগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মো. ফিরোজ কবির জানান, “ডাকাতরা পুলিশ ক্যাম্পে হামলা চালায়নি। তারা দূর থেকে পুলিশের স্পিডবোট লক্ষ্য করে ককটেল ও গুলি চালায়। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।”তিনি আরও বলেন, “কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত ‘পুলিশ ক্যাম্পে হামলা’ সংক্রান্ত তথ্য সঠিক নয়।” তাছাড়া তিনি আরো জানান, কিছু গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে যে- থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র ব্যবহার করে পুলিশ ক্যাম্পে হামলা হয়েছে। এ তথ্যটি সঠিক নয়। কারণ, অস্ত্র উদ্ধার করা ছাড়া দুর থেকে দেখে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয় সেগুলো কি ধরনের অস্ত্র।
প্রসঙ্গত নৌডাকাত ও সন্ত্রাসীদের দমন এবং নদীপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত ২২ আগস্ট গজারিয়ার জামালপুর গ্রামে একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প চালু করা হয়। ক্যাম্প স্থাপনের পর থেকেই নিয়মিত অভিযান চালিয়ে আসছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এলাকাবাসী মনে করছে, এই যৌথ অভিযান নিয়মিত চালিয়ে গেলে মেঘনা নদীর নৌপথে ডাকাত ও সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে। তবে অভিযানে অস্ত্র উদ্ধার বা কাউকে আটক করতে না পারায় স্থানীয়দের মধ্যে এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে।