মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাসান আলী দায়িত্ব গ্রহণের পরই মাঠপর্যায়ে শান্তি-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণের কাজ শুরু করেছেন। এর অংশ হিসেবে তিনি সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম পরিদর্শন করেন।
দীর্ঘদিন যাবত এই ইউনিয়নে নানা অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অতিরিক্ত প্রভাব, দলীয় কোন্দল ও বিভিন্ন সামাজিক দ্বন্দ্বের জেরে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, সঠিকভাবে আইন প্রয়োগ করা হলে সাধারণ মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
পরিদর্শনকালে ওসি হাসান আলী গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, তরুণ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি তাদের কাছ থেকে এলাকার সমস্যার বিস্তারিত তুলে ধরার অনুরোধ জানান এবং সমাধানে পুলিশের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন, “গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নে দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলা দূর করতে জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ সবসময় মাঠে থাকবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে।”
এসময় সঙ্গীয় ফোর্স স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল বৃদ্ধি ও নজরদারি জোরদারের কার্যক্রমও চালায়। ওসি হাসান আলী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, বাজার এলাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো ঘুরে দেখেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
এদিকে নতুন ওসির এ ধরনের সরাসরি মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ও আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তারা জানান, পুলিশ যদি নিয়মিত এভাবে তৎপর থাকে, তাহলে ইউনিয়নে শান্তি ফিরে আসবে এবং দীর্ঘদিনের অস্থিরতা কমে যাবে।
অনেকে আশা প্রকাশ করেন, নতুন ওসির উদ্যোগে যুব সমাজের মধ্যে আইন সচেতনতা বাড়বে এবং এলাকায় অপরাধ প্রবণতা কমে আসবে। স্থানীয়রা বলেন, “আমরা চাই পুলিশ নিয়মিত নজরদারি করুক। তাহলেই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি আর মাথাচাড়া দিতে পারবে না।”
পরিদর্শনের মাধ্যমে ওসি হাসান আলী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—গজারিয়া থানা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানে আছে এবং জনগণের নিরাপত্তায় কোনো ধরনের ছাড় দেয়া হবে না।