
সাইদ হাসান আফরান
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত জামালদী–হোসেন্দী এসডিখাঁন সড়কের সংস্কার, ভারী যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী সারাফাতের পরিবারের ন্যায্য ক্ষতিপূরণসহ পাঁচ দফা দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) দুপুরে হোসেন্দী ইউনিয়নের শত শত মানুষ ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের জামালদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করেন।
বেলা ১২টার দিকে মানববন্ধন শুরু হলেও দুপুর ১টার পর থেকে প্রায় ৪৫ মিনিট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন স্থানীয়রা। এতে ব্যস্ততম ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং উভয় দিকে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। হঠাৎ করে মহাসড়ক অবরোধ হওয়ায় বিপাকে পড়েন যাত্রী ও চালকেরা।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, জামালদী–হোসেন্দী এসডিখাঁন সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দে ভরা। সড়কটির দুই পাশে দুটি গার্ডার সেতুর নির্মাণকাজ বছরের পর বছর ধরে ঝুলে আছে। ফলে এলাকাবাসীকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। শিল্প এলাকায় প্রতিদিন হাজারো ভারী যানবাহন চলাচল করলেও এর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। অতিরিক্ত চাপের কারণে সড়ক নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে গেছে।
এলাকাবাসীর ক্ষোভ আরও তীব্র হয় গত বৃহস্পতিবারের দুর্ঘটনায়। ওইদিন বিকেলে বিদ্যালয় শেষে বাড়ি ফেরার পথে সামুদা কেমিক্যাল কারখানার একটি ট্রেইলার দেয়ালে ধাক্কা দিলে সেটি ভেঙে পড়ে হাজী সিরাজুল হক স্কুলের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. সারাফাত (৭) নিহত হয়। এ ঘটনায় আহত হয় আরেক শিক্ষার্থী জামিয়া (৬)। শিশু সারাফাতের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। পরবর্তীতে এ ঘটনার ন্যায্য বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবিতেই আজকের এই কর্মসূচি পালিত হয়।
প্রতিবাদ সমাবেশে হোসেন্দী ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষ একত্রিত হয়ে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন, নিহত সারাফাতের পরিবারের জন্য ন্যায্য ক্ষতিপূরণ এবং ঘাতক ট্রেইলার চালকের দ্রুত বিচার। শিল্প এলাকায় ভারী যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল বন্ধ এবং নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে নিয়ন্ত্রণ। ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ জামালদী–হোসেন্দী সড়কের সংস্কার ও মেরামত দ্রুত সম্পন্ন করা। সড়কে পুলিশি টহল জোরদার করা। সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মহাসড়ক ও সংযোগ সড়কে ভারী যানবাহনের চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, “আমাদের প্রাণ কেড়ে নেওয়া এ দুর্ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দীর্ঘদিনের অবহেলা ও দায়সারাভাবে সড়ক নির্মাণের কারণে আজকে মানুষ মৃত্যুবরণ করছে। দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে আমরা আরও কঠোর আন্দোলনে নামব।”
আন্দোলন চলাকালে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট তৈরি হলে গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার আলম আজাদ ঘটনাস্থলে এসে আন্দোলনকারীদের দাবী মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সরে যেতে অনুরোধ করে। পরে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হয়।