
গজারিয়ায় সন্ত্রাস-মাদক চাদাঁবাজির বিরুদ্ধে সভায় বিএনপি নেতার বহিষ্কার দাবি
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকবিরোধী অবস্থান ঘোষণা করে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সম্প্রতি কয়েকটি কল রেকর্ড ফাঁসের ঘটনায় আলোচিত স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনিরের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বক্তারা। অবিলম্বে তার বহিষ্কারের দাবি তোলেন তারা।
রবিবার (৬ জুলাই) বিকেল ৬টায় উপজেলার বালুয়াকান্দী এলাকার মিয়ামি রেস্টুরেন্টে ‘সর্বস্তরের জনগণ’ ব্যানারে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মো. শরীফ হোসেন মাস্টার।
জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মোতালেব বেপারী সঞ্চালনায়। এ সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য দেওয়ান হারুন অর রশিদ। এছাড়া বক্তব্য রাখেন উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলাল উদ্দিন ভূঁইয়া, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক মো. জসিম উদ্দিন এবং উপজেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন, এমপি ইপু প্রধান প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, সম্প্রতি গজারিয়ার বালুয়াকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনিরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হলেও এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের দলীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এতে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সম্মানহানি হচ্ছে। তাই দ্রুত তদন্তপূর্বক অভিযুক্ত মনিরুজ্জামান মনিরকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানানো হয় সভা থেকে।
এ সময় বক্তারা গজারিয়ায় মাদক, সন্ত্রাস, অবৈধ চাঁদাবাজি এবং নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডের বিস্তার নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, স্থানীয়ভাবে কিছু প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় চাঁদাবাজি ও অপরাধীচক্র দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনকে আরও কঠোর হওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোকেও নিজ নিজ অবস্থান থেকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
সভায় আরও জানানো হয়, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত গজারিয়া গড়তে সকল নাগরিক, রাজনৈতিক নেতা এবং জনপ্রতিনিধিদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বক্তারা তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা বজায় রাখতে সৎ, সাহসী ও নিষ্ঠাবান নেতৃত্বের বিকল্প নেই বলে উল্লেখ করেন।
সভা শেষে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়, যাতে চাঁদাবাজিসহ অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দলীয় শুদ্ধি অভিযান চালানোর আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে প্রশাসনিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানানো হয়।