
মহিউদ্দিন আহমেদ,সি.করেসপনডেন্ট,গজারিয়া
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় নিখোঁজের ১২দিন পর ধানক্ষেত থেকে এক বাক প্রতিবন্ধী পুরুষের (৫৪)লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছেন তার স্বজনেরা।
গতকাল মঙ্গলবার সকাল পৌনে নয়টার দিকে ভবেরচর ইউনিয়নের নয়াকান্দি গ্রামের পশ্চিম পাশের ধানী জমি থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
উদ্বার করা লাশটি প্রতিবন্ধী রবিউল আউয়ালের (৫৪)। সে গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নের নয়াকান্দি গ্রামের সোনা মিয়া সওদাগরের ছেলে বলে জানা গেছে।
স্হানীয় সূত্র ও রবিউল আউয়ালের পরিবার সূত্রে জানা যায়, অবিবাহিত ‘রবিউল আউয়াল বড় ভাই আব্দুল কাদের জিলানীর পরিবারের সদস্যদের সাথেই থাকতো।
তিনি অন্যান্য দিনের মতো গত ১আগস্ট সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে সন্ধ্যায় বাড়িতে ফিরে না আসায় আশেপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেছিল স্বজনেরা।
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) সকাল পৌনে নয়টার দিকে স্থানীয় এক জেলে দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে ধান ক্ষেতে একটি লাশ দেখতে পান। লাশটির অবস্থা দেখে ধারণা করা হচ্ছে ১০/১২দিন আগে তার মৃত্যু হয়েছে। পরবর্তীতে নিখোঁজ রবিউল আউয়ালের স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরনের জামাকাপড় দেখে লাশটি রবিউলের বলে সনাক্ত করে।
নিহত রবিউল আউয়ালের বড়ভাই জিলানি বলেন, ‘লাশটি যেখানে পাওয়া গেছে সেখানে হাঁটু পরিমাণ পানি এখানে ডুবে কারো মৃত্যু হওয়ার কথা নয়।
আমার ভাই বাক প্রতিবন্ধী ছিল তার অন্য কোন সমস্যা ছিল না, তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবী করেন নিহতের বড় ভাই জিলানী।
গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)মো. আনোয়ার আলম আজাদ বলেন, লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। বিস্তারিত পরে জানানো হবে’।
এদিকে ৯ আগষ্ট বিকালে গজারিয়া উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের গজারিয়া লঞ্চ ঘাটের পশ্চিম দিকে মেঘনা নদী থেকে ভাসমান অজ্ঞাত পুরুষের লাশ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ।
নৌ পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়,স্হানীদের খবরের ভিত্তিতে অর্ধগলিশ পুরুষের লাশটি উদ্ধার করা হয়।
লাশের পরিচয় শনাক্তের জন্য পিবিআই এর একটি দল ঘটনাস্হল পরিদর্শন করলেও অর্ধগলিত লাশটির ফিঙ্গার প্রিন্ট নেয়া সম্ভব হয়নি।
মরদেহের ময়না তদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পক্ষান্তরে ১০ আগষ্ট গজারিয়া থানাধীন বাউশিয়া ইউনিয়নের সজিব সিএনজি পাম্পের পাশে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিলামুখী লেনে অজ্ঞাতনামা এক জন পুরুষের মৃতদেহ উদ্বার করেছিল ভবেরচর হাইওয়ে থানা পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা নিহত ওই ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল।