
সাইদ হাসান আফরান
দীর্ঘদিন পর আবার একত্র হলেন গজারিয়া কলিমুল্লাহ কলেজের সাবেক ও সদ্য পাস করা শিক্ষার্থীরা। স্মৃতি, আনন্দ আর আবেগে মুখর হয়ে ওঠে কলেজ ক্যাম্পাস। মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় অবস্থিত গজারিয়া কলিমুল্লাহ কলেজে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতক (পাস) ডিগ্রি সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের নিয়ে পূর্ণমিলনী ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দিনব্যাপী এই আয়োজন কলেজ প্রাঙ্গণকে পরিণত করে উৎসবস্থলে। বহু বছর আগে শিক্ষাজীবন শেষ করা শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ বিরতির পর তাদের প্রিয় ক্যাম্পাসে ফিরে আসেন। সহপাঠীদের সঙ্গে পুনর্মিলন এবং প্রিয় শিক্ষকদের সান্নিধ্য অনুষ্ঠানটিকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত ও অর্থবহ।
অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন সেশনের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়ে তাদের শিক্ষাজীবনের স্মরণীয় মুহূর্তগুলো ভাগ করে নেন। দ্বিতীয় পর্বে আয়োজন করা হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে গান, নৃত্য ও পরিবেশনায় অংশ নেন শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি এ এফ এম হামিদ উল্লাহ। সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ মোসাম্মদ খালেদা নাহার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রফিকুল ইসলাম মাসুম।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষক মো. সাইফুর রহমান এবং হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফরিদা ইয়াসমিন। এ সময় শফিকুল্লাহ ময়েনসহ কলেজের অন্যান্য শিক্ষক, কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০১০ থেকে ২০২৪ সেশন পর্যন্ত স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতক (পাস) ডিগ্রি অর্জনকারী শিক্ষার্থীরা এই পূর্ণমিলনী ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
স্নাতক সম্পন্ন করা শিক্ষার্থী তামান্না বলেন, গজারিয়া কলিমুল্লাহ কলেজ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে আজ আমরা কর্মজীবন ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করছি। এই প্রতিষ্ঠানের অবদান আমরা আজীবন মনে রাখব। ভবিষ্যতেও যেন কলেজের সুনাম অটুট থাকে, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।
ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী শামিম বলেন, দীর্ঘদিন পর প্রিয় ক্যাম্পাসে ফিরে এসে সহপাঠী ও শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা হওয়াটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এই কলেজ শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং আমাদের জীবনের স্মৃতি, বন্ধুত্ব ও স্বপ্ন গড়ে ওঠার জায়গা।
আরেক শিক্ষার্থী বলেন, পড়াশোনার সময় এখানে কাটানো দিনগুলো আজ নতুন করে মনে পড়ে গেল। শিক্ষকরা আমাদের শুধু পাঠ্যজ্ঞানই দেননি, জীবনের পথে সৎ ও দায়িত্বশীল মানুষ হওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন।
শিক্ষার্থীরা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন অব্যাহত থাকবে এবং নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা এখান থেকে অনুপ্রেরণা পাবে।