মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পরিচয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার পর প্রযুক্তির ব্যবহার করে নগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারণ করা পর্নোগ্রাফি মামলায় একজন আটক হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
শ্রীনগর উপজেলা কুকুটিয়া ইউনিয়নের মধ্য নাগরভোগ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে মো. রফিকুল ইসলাম (৩৬)বাদী হয়ে শ্রীনগর থানা একটি পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন।
মামলার সূত্রে জানা যায়,কুকুটিয়া ইউনিয়নের মধ্য নাগরভোগের মৃত নুর ইসলামের ছেলে মামলার ১নং বিবাদী ইয়াকুব শেখ(২৫) ও পূর্ব মুন্সিয়ার এলাকার কোহিনুর শেখের ছেলে ২নং বিবাদী অনিক শেখ (২৫)আরো অজ্ঞাত কয়েকজনের নামে পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা হয।
বাদী বলেন,আতিকুর রহমান ফেইসবুক ইউজার নামে একটা আইডির সাথে আমার বোনের কথাবার্তা হয়।একপর্যায়ে অজ্ঞাতনামা বিবাদীরা কৌশলে আমার চাচাতো বোনের কাছ থেকে আমার বোন সুমাইয়া আক্তার মৌ (২২) সহ চাচাতো বোনের ছবি ও তার বেশ কিছু ব্যাক্তিগত ভিডিও ক্লিপ নিয়া নেয়। উক্ত ছবি এবং ভিডিও নেওয়ার পর থেকেই অজ্ঞাতনামা বিবাদীরা আমার চাচাতো বোনের উক্ত ছবি এবং ভিডিও অনলাইন ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকী দিয়ে তার কাছ থেকে ১ লক্ষ টাকা দাবী করে এবং তাকে ব্যক্তিগত, মানসিক নির্যাতন ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করিতে থাকে।
আমার চাচাতো বোন তার মান সম্মানের কথা চিন্তা করে কোন উপায়ান্তর না পেয়ে অজ্ঞাতনামা ৩ নং বিবাদীর কথায় রাজি হয়।
পরে বিবাদীরা অনলাইন পার্সেল পাঠাও এর মাধ্যমে একটি মিনি বডি অন ক্যামেরা পাঠায় আমার বোনের কাছে।বিবাদীদের দিক নির্দেশনা মোতাবেক ৯ফেব্রুয়ারি বিকাল অনুমান ৪ঘটিকার সময় আমার চাচাতো বোন গোপনে আমাদের ওয়াশরুমের কর্নারে উক্ত বডি অন ক্যামেরাটি ভিডিও রেকর্ডিং চালু করে সেট করে রেখে আসে।
তারপর আমার ছোট বোন সুমাইয়া আক্তার মৌ আমাদের ওয়াশরুমে গোসল করতে ঢুকলে উক্ত ক্যামেরা সেটাপের বিষয়টি বুঝতে না পারায় সে
নিজের মতো করে গোসল করায় সম্পূর্ন চিত্র উক্ত বডি অন ক্যামেরায় ভিডিও ধারন হয়।
আমার বোন গোসল শেষে বের হয়ে গেলে বিবাদীদের কথামতো চাচাতো বোন শিমলা আক্তার এক সময় পুনরায় আমাদের ওয়াশরুমে গিয়ে উক্ত বডি অন ক্যামেরাটি নিয়ে আসে এবং ক্যামেরায় ধারনকৃত ভিডিও ক্লিপ অজ্ঞাতনামা ৩ নং বিবাদীকে মেসেঞ্জারের মাধ্যমে প্রেরন করে। এই ভিডিও তারা ভাইরাল করে দেয়, ছবি এবং ভিডিও ফেইসবুক থেকে ডিলিট করতে বললে তারা টাকা দাবী করে। বিবাদীদের কাছে বিকাশ নম্বর চাইলে অজ্ঞাতনামা বিবাদীরা একটি বিকাশ নাম্বার প্রদান করে। উক্ত বিকাশ নাম্বার যাচাই বাছাই করে জানতে পারি,নাম্বারটি উপরোক্ত ১ নং বিবাদী ইয়াকুব শেখ ব্যবহার করে।
উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে বাদী ও তার আত্মীয়-স্বজন ১নং বিবাদীকে পেয়ে ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে ঘটনার কথা অস্বীকার করে এবং Atikur Islam নামীয় ফেসবুক আইডির অজ্ঞাতনামা বিবাদীর সাথে মেসেজ আদান প্রদান সহ বিবাদীর দেওয়া বিকাশ নম্বরটি মোবাইল ফোনে সচলও পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে শ্রীনগর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)জুয়েল মিঞা বলেন,পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং একজনকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।