
লৌহজংয়ে জিও ব্যাগ সরে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে
গত তিন দিনে মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় পানির প্রবল স্রোত ও জোয়ারের ঢেউয়ের কারণে উপজেলার গাঁওদিয়া, বেজগাঁও, কনকসার ও লৌহজং‑তেওটিয়া ইউনিয়নের তীরবর্তী এলাকাগুলোতে ভাংঙ্গন দেখা দিয়েছে। গত বছর নদী ভাঙ্গনে গাঁওদিয়া ইউনিয়নের হাড়িদিয়া গ্রামে প্রায় ৫০টিরও বেশি বসতঘর নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছে।যেখানে মানুষ এখন আতঙ্কে জীবন যাপন করছে ।
শুক্রবার (২৫ই জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পদ্মা নদীর পানি প্রবল স্রোত ও জোয়ারের ঢেউয়ের কারণে জিও ব্যাগ সরে গিয়ে নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। লৌহজং উপজেলার বিভিন্ন স্থানে।
স্থানীয় এবং প্রশাসনিক উদ্যোগে নদী ভাঙন রোধে জিও‑ব্যাগ ফেলে সাময়িক বাঁধ নির্মাণের চেষ্টা চালানো হয়। কিছু ক্ষেত্রে তা সফল হলেও কোথাও ভাঙ্গনে ভূপ্রান্ত হয়েছে।
লৌহজং‑তেওটিয়া থেকে গাঁওদিয়া পর্যন্ত বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে প্রায় ৪৪৬ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাবিত, যার মধ্যে ৩২ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প পরিবর্ধন করা হয়েছে ।
প্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে এগোচ্ছে; ধার্য্যকৃত সময় ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরেই শেষ হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু এখনো কাজ পূর্ণ হয়নি; এ-ও ধার্য্যকৃত পরিকল্পনার ~২০–২২% কাজ সম্পন্ন হয়েছে ।
ব্যবস্থা শেষে সরকারী উদ্যোগে পদ্মা সেতুর বাম তীরে ৯.১০ কিমি এলাকা অধীত করার জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে যা বর্তমানে ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হচ্ছে ।
গাঁওদিয়া ইউনিয়নে সাম্প্রতিক নদী ভাঙনে জিও‑ব্যাগ স্থানচ্যুত হয়ে ভাঙ্গন বেড়েছে।
জিও‑ব্যাগ সাময়িক প্রতিরোধ সৃষ্টি করতে পারে, কিন্তু বেশি জোয়ার বা প্রবল স্রোতে তা তলদেশে সরে গেলে কার্যকর হয় না।
এলাকাবাসী বলেন, একটি স্থায়ী সমাধান এখন অত্যন্ত জরুরি। প্রতি বছর বর্ষাকালে নদীভাঙনে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, স্কুল-মাদ্রাসা, এমনকি মানুষের জীবন-জীবিকাও বিলীন হয়ে যাচ্ছে। সাময়িক জিও‑ব্যাগ কিংবা কেবল কিছু প্রতিরোধী ব্যবস্থা দিয়ে এই দুর্যোগ ঠেকানো সম্ভব নয়। তাই দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।