শ্রীনগরে মা ইলিশ সংরক্ষণে বিশেষ অভিযান: ১১ জনের কারাদণ্ড, ১ কোটি মিটার কারেন্ট জাল জব্দ
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে মা ইলিশ সংরক্ষণে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও কোস্টগার্ড। আজ ১৫ অক্টোবর ২০২৫, ভোর ৬টা থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত উপজেলার বাগড়ার চর সংলগ্ন পদ্মা নদীতে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মহিন উদ্দিন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৯ বীর, মাওয়া আর্মি ক্যাম্পের ক্যাপ্টেন তানজিমুল হাসান হাওলাদার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম রাব্বানী সোহেল, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনোয়ারা বেগম, কোস্টগার্ড সদস্যবৃন্দ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
এসময় নিষিদ্ধ সময়ে পদ্মা নদীতে ইলিশ মাছ ধরার অপরাধে ১১ জনকে ১০ দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অভিযানে প্রায় ১ কোটি ৫ লক্ষ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল এবং ১৭০ পিস ইলিশ মাছ জব্দ করা হয়।
অভিযানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রেজাউল করিম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুজ্জামান (নৌ পুলিশ, মুন্সীগঞ্জ) এবং জেলা মৎস্য কর্মকর্তা গোলাম মেহেদী হাসান নির্দেশনা ও সহযোগিতা প্রদান করেন।
জব্দকৃত ইলিশ মাছ স্থানীয় তিনটি এতিমখানা ও মাদ্রাসায় বিতরণ করা হয়। অপরদিকে, জব্দকৃত অবৈধ জাল আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়। এছাড়া নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনাগুলো অপসারণ করা হয় এবং স্থানীয় জেলেদের সতর্ক ও সচেতন করা হয়।
অভিযান শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মহিন উদ্দিন বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। মা ইলিশ রক্ষা করা মানেই দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে খাদ্য নিরাপত্তায় সহায়তা করা। আজকের অভিযানে সেনাবাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ, মৎস্য বিভাগসহ সকল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আন্তরিক সহযোগিতা ছিল প্রশংসনীয়। আমরা চাই জনগণও এই সচেতনতায় যুক্ত হোক, যাতে কেউ আর নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ শিকার না করে।
তিনি আরও বলেন, নদী ও জলজ সম্পদ আমাদের জাতীয় সম্পদ। প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে, যে কোনো মূল্যে মা ইলিশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা হবে।
অভিযানে উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, মা ইলিশ সংরক্ষণে এমন অভিযান আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে।